ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনা জাহাজ ফিলিপাইনের সরকারি নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছে: ম্যানিলা


চীনা জাহাজ ফিলিপাইনের সরকারি নৌযানকে ধাক্কা দিয়েছে: ম্যানিলা

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার সকালে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ফিলিপাইনের মৎস্য বিভাগের একটি নৌযানকে ‘ধাক্কা দিয়েছে’ বলে ম্যানিলা থেকে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর চীনের কোস্টগার্ড ফিলিপাইনের নৌযানকেই দায়ী করেছে। তারা দাবি করেছে, ‘ঘটনার জন্য পুরোপুরি ফিলিপাইনের নৌযানই দায়ী।’

বার্তা সংস্থা এএফপি ম্যানিলা থেকে এই তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের একটি অগভীর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। মাছের প্রাচুর্যের কারণে অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজের সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

একটি আন্তর্জাতিক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকার ওপর বেইজিংয়ের দাবি আইনগত ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হলেও, চীন এখনও ওই সাগরের বেশিরভাগ অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে।

ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে তারিয়েলা জানিয়েছেন, ‘জেলেদের জ্বালানি ভর্তুকি পৌঁছে দিতে সমুদ্রপথে টহল দেওয়ার সময় চীনা জাহাজটি বিআরপি দাতু মাগাত সালামাতকে ধাক্কা দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ১১টা ৪ মিনিটে সিসিজি-২১৫৮৫ মাত্র প্রায় ১০ মিটার দূরত্ব রেখে বিএফএআর (মৎস্য ব্যুরো)-এর নৌযানটির পেছন দিক দিয়ে সামনে চলে যায়।’

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেয়ার করা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নয় মিনিট পর ‘চীনা জাহাজটি একই কৌশল আবার প্রয়োগ করে। এবার সেটি বিএফএআর-এর নৌযানটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ধাক্কা দেয়।’

ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে চীনা জাহাজটিকে নৌযানটির পেছনের দিকে দেখা যায়। ভিডিওতে একজন নাবিককে ‘সংঘর্ষ’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। তবে সংঘর্ষের মুহূর্তটি ভিডিওতে ধরা পড়েনি।

চীনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জিয়াং লু ফিলিপাইনের নৌযানকে দায়ী করে বলেন, তারা ‘বারবার দেওয়া কঠোর সতর্কতা উপেক্ষা করে’ ইচ্ছাকৃতভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে ‘চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজের সামনে দিয়ে চলে যায়।’

লু বলেন, ‘ফিলিপাইনের পক্ষের এ কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজ ও সদস্যদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।’

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা ফিলিপাইনকে অবিলম্বে সব ধরণের অনধিকার প্রবেশ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কঠোর সতর্কবার্তা দিচ্ছি।

অন্যথায় এর সব পরিণতির দায় তাদেরই বহন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডাকসুর ছাড়পোকা দমনে ৩২ লাখ টাকার ব্যয়, ব্যাখ্যা দিলেন যুবায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


ডাকসুর ছাড়পোকা দমনে ৩২ লাখ টাকার ব্যয়, ব্যাখ্যা দিলেন যুবায়ের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ব্যাখ্যা দেন।

এবি জুবায়ের তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গতকাল থেকে মিডিয়ায় ‘ছাড়পোকা দমনে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় ডাকসুর’ শিরোনামে যে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, তা যেন অস্বাভাবিক কিছু নির্দেশ করছে।

তিনি আরও বলেন, ১৮টি হলের মোট ৪ হাজার ৮৭৭টি রুমে পেস্ট কন্ট্রোল মেডিসিন প্রদান করা হয়েছে। বেডের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭২৯। এবার যদি প্রতিটি বেড ধরে হিসাব করা হয়, তাহলে দেখা যাবে বেডপ্রতি খরচ কত। তিনি জানান, যে মেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে, তা বাজারে পাওয়া সাধারণ গ্যাসের ট্যাবলেট নয়। এটি একটি স্বনামধন্য কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত মেডিসিন। কিছু রুম বাদে অধিকাংশ জায়গা থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। যেগুলোতে প্রত্যাশিত ফল আসেনি, সেগুলো হয়তো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।

এবি জুবায়ের আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার বিষয়বস্তুতে না গিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কোনো অর্থ নয়। আমরা বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যতটুকু সম্ভব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এগুলো ডাকসুর কাজ নয়, বরং প্রশাসনের কাজ। তবুও আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছি।

পোস্টের শেষে তিনি মন্তব্য করেন, সবখানে নেতিবাচকতা খুঁজে বের করা একটি ভালো লক্ষণ নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ঠেকাল পাকিস্তানের আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ঠেকাল পাকিস্তানের আদালত

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পাকিস্তানের মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসক হওয়ার উদ্দেশ্যে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের কয়েক ডজনকে বহিষ্কার করে দেশে ফেরত পাঠানোর মেডিকেল বোর্ডের আদেশ শুক্রবার একটি আদালত স্থগিত করেছেন।

লাহোর আদালতের এক আদেশে এএফপি’র দেখা মতে বলা হয়েছে, ‘লাহোর হাইকোর্ট মেডিকেল কলেজ থেকে শতাধিক আফগান শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ঠেকাতে দেওয়া স্থগিতাদেশ পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বহাল রেখেছেন।’

এ খবর করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।

বিচারপতি খালিদ ইসহাক পরবর্তী শুনানির জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করেননি।

বেলুচিস্তান প্রদেশের আদালত ইতোমধ্যে একই ধরনের একটি আবেদন খারিজ করেছে। অন্যদিকে, সিন্ধু প্রদেশে আরেকটি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে জানায়, ‘চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান নাগরিকদের কোনো ধরণের সহায়তা দেওয়া যাবে না।’

এই আদেশের ফলে আফগান শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। তাদের একজন এএফপিকে বলেন, ‘আমার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়েছিল।’

কলেজের ডিনদের কাছে পাঠানো পিএমডিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানে আগে থেকে মেডিকেল বা ডেন্টাল প্রোগ্রামে ভর্তি থাকা আফগানদের দেশে ফিরে যেতে হবে।

এএফপি’র দেখা চিঠিতে মেডিকেল কাউন্সিল কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বলা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, ‘বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের এবং জাতীয় নীতিগত নির্দেশনার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

২০২১ সালে কাবুলে তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। চলতি বছরের শুরুতে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধে তা আরও তীব্র আকার নেয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ২৫ লাখের বেশি আফগান পাকিস্তান থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন অথবা স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন। তাদের অনেকেই কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছিলেন। ইসলামাবাদের চলমান প্রত্যাবাসন অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কর্তৃপক্ষ পিএমডিসির আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। আফগানিস্তানে নারীদের পড়াশোনা নিষিদ্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী’ বলে সমালোচনা করেছে।

লাহোরে করা আবেদনের আবেদনকারীদের একজন ২৩ বছর বয়সী নারী। দ্বিতীয় বর্ষের পড়াশোনা শেষ হতে যখন মাত্র কয়েক দিন বাকি, তখন তাকে বলা হয়, ‘ফিরে যেতে হবে এবং সবকিছু ছেড়ে যেতে হবে।’

১১ সেপ্টেম্বর একজন বিচারক প্রাদেশিক পর্যায়ে বহিষ্কারের আদেশ স্থগিত করেন। তবে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এরই মধ্যে তার সব নথি মুছে দেওয়া হয়েছে।

‘কখনো হাল ছাড়ব না’

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী আফগানিস্তানে তালেবান কর্তৃপক্ষ নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নিষিদ্ধ করার পর সেখানে তার মেডিকেল পড়াশোনা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে বৃত্তি পাওয়া প্রায় ২০ জন আফগান নারীর একজন তিনি। এ বৃত্তির জন্য ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে থেকে তাদের নির্বাচন করা হয়েছিল।

কাবুল থেকে ফোনে এএফপির এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো হাল ছাড়ব না। এই যাত্রা থেকে আমি শিখেছি, দুঃখ কোনো কিছু বয়ে আনে না।’

লাহোরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকা কয়েকজন আইনজীবীর একজন আসাদ জামাল পিএমডিসির আদেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এসব আদেশে চিকিৎসকদের ‘তাদের বক্তব্য জানানোর কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।’

পিএমডিসি এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

জামাল বলেন, লাহোরের আবেদনে শিক্ষার্থীরা হেরে গেলেও মামলাটি পাকিস্তানের ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে নেওয়া যেতে পারে।

লাহোরের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুবিন উলফাত হাসপাতালে কাজের পালা শেষ করে ফেরার পর তাকে দেশ ছাড়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।

২৪ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘আমরা মেডিকেল শিক্ষার্থী। আমরা কীভাবে চমকে দেওয়া খবর সামলাতে হয়, তা জানি। কিন্তু এটি এমন কিছু ছিল না, যা সহজে সামলানো যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার।’

আদেশ জারির আগেই কয়েকজন আফগান চিকিৎসা শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের মধ্যে চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীও রয়েছেন, যিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিসা নবায়নের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

চক্ষুবিদ্যায় বিশেষায়িত ওই চিকিৎসা শিক্ষার্থী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমরা শুধু শিক্ষার্থী। আমরা রাজনৈতিক মানুষ নই।’

৩৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে নেওয়া হয় এবং দুই দিনের মধ্যে বহিষ্কার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমাদের পড়াশোনা শেষ করতে দিন। আমরা পড়াশোনা শেষ করব। তারপর আমাদের দেশে ফিরে যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো: ল্যাভরভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো: ল্যাভরভ

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিয়েভের নাৎসি শাসনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন অত্যন্ত লজ্জাজনক। ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো সক্রিয়ভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা রাশিয়ার কথিত হুমকি নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি ইন্টারন্যাশনাল রুশোফাইল মুভমেন্টের ষষ্ঠ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেন।

ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া বহিরাগত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ জবাব দেওয়ার পথ খুঁজে নেবে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হল :

পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি : পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার কথিত হুমকির মিথ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ল্যাভরভ বলেন, “আজ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশের শাসকগোষ্ঠী রাশিয়ার কাছ থেকে আসা হুমকির মিথ ছড়িয়ে দিতে চাইছে। একই সঙ্গে তারা আমাদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মূল্যবোধ ধ্বংসের অভিযোগও করছে। কিন্তু এসব মূল্যবোধ আসলে কী, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি বলেন, কথিত ‘ইউরোপীয় মূল্যবোধ’-এর অর্থ একটাই— ‘ইউরোপ আবারও নাৎসিবাদকে সমর্থন করতে প্রস্তুত’।

রাশিয়া চ্যালেঞ্জের জবাব দেবে : ল্যাভরভ বলেন, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও নাগরিকদের কল্যাণের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সামনে যেসব বহিরাগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ জবাব দেওয়ার পথ মস্কো অবশ্যই খুঁজে নেবে। তিনি বলেন, “যারা এসব কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নিচ্ছে, তারা অবশ্যই দায়িত্বহীন রুশবিরোধী পদক্ষেপের পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে।”

ইউরোপে ‘নাৎসিবাদের ক্যান্সার’ : ল্যাভরভ দাবি করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জার্মানিতে ‘নাৎসিবাদের ক্যান্সার দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “ইউক্রেনের প্রকাশ্য নাৎসি শাসনকে সমর্থনের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, এমনকি জার্মানিতেও নাৎসিবাদের ক্যান্সার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এটি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা।” কিয়েভের নাৎসি শাসনের প্রতি ইউরোপের সমর্থনকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ইউক্রেন ইউরোপীয় মূল্যবোধ রক্ষা করছে—এ কথা পশ্চিমা দেশগুলো যে গর্বের সঙ্গে বলছে, সেটি পশ্চিমের জন্য লজ্জাজনক।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ : ল্যাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় অভিজাতদের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। তারা কথা বলতে প্রস্তুত। এমনকি অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও আলোচনায় বসা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।”

ল্যাভরভ বলেন, “যারা আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে চায়, আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে কথা বলি। শুধু মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিদিন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে নিন্দা জানায়, তা পুনরাবৃত্তি করার জন্য আসার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু নিন্দা জানাতে আসার দরকার নেই। তবে আমরা সবসময় আন্তরিক সংলাপের জন্য উন্মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রও আমাদের সঙ্গে ঠিক এভাবেই আচরণ করছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এর এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তব প্রভাব পড়েনি এবং অদূর ভবিষ্যতেও তেমন কোনো প্রভাব প্রত্যাশিত নয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যযুদ্ধ : ল্যাভরভ বলেন, আসন্ন স্টেট ডুমা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা প্রচারণার বড় ধরনের ঢেউ চলছে। তিনি বলেন, “আসন্ন স্টেট ডুমা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও আগ্রাসী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

রুশভাষীদের অধিকার নিয়ে কোনো আপস নয় : ইউক্রেন সংকটের সমাধানে রুশভাষী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের দর-কষাকষির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, “যেসব বাধ্যবাধকতা সবাই গ্রহণ করেছে এবং পালন করতে বাধ্য, তা নিয়ে কোনো দর-কষাকষি হতে পারে না। কিন্তু পশ্চিমারা কিয়েভ শাসনকে সবকিছুতেই ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতিকে পশ্চিমারা একমাত্র নীতি হিসেবে সমর্থন করে। কিন্তু সনদে আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। ল্যাভরভ বলেন, “জাতিসংঘ সনদের প্রথম অনুচ্ছেদেই এমন নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে, যা সনদে স্বাক্ষরকারী সব সদস্য রাষ্ট্রকে দিতে হবে—জাতি, লিঙ্গ, ভাষা ও ধর্ম নির্বিশেষে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান।” সূত্র : তাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দগঞ্জে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী তৌফিক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধার

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


গোবিন্দগঞ্জে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারী তৌফিক গ্রেপ্তার

গোবিন্দগঞ্জে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারী শাহ মো. তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানায়, তৌফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%