বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩০ পি.এম
হায়দরাবাদের ১৫টি বিধানসভা আসনে সম্প্রতি পরিচালিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির পর খসড়া তালিকা থেকে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাবাড় ইনস্টিটিউট’-এর দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। সাবির আহমেদ, সৌপ্তিক হালদার ও আশিন চক্রবর্তীর যৌথ পরিচালনায় এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৪০.৭ শতাংশই মুসলিম নামধারী।
গবেষণায় উঠে এসেছে যে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৯২ শতাংশই বাস্তবে জীবিত। এদের মধ্যে ৬৯.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন’ এবং ১৭.৭ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘অনুপস্থিত বা সন্ধানহীন’ হিসেবে কারণ দেখানো হয়েছে।
হায়দরাবাদের প্রতিটি পোলিং বুথ থেকে গড়ে ৫ শতাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ইয়াকুতপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৯৭ নম্বর বুথে সর্বোচ্চ ১,০৬৯ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ে, যার মধ্যে ৫৩৫ জনই নারী এবং এদের ৫২৭ জনই জীবিত।
সমীক্ষা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ইয়াকুতপুরা ও মালাকপেট অন্যতম। এই দুটি আসনে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের চেয়েও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—যা মালাকপেটে ১১২% এবং ইয়াকুতপুরায় ১১০%। উল্লেখ্য, দুটি আসনই 'অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন' (এআইএমআইএম)-এর দখলে রয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৫টি আসনে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৪০.৭% মুসলিম নামধারী। সিকান্দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এই হার সর্বনিম্ন ১২.১% হলেও বাহাদুরপুরায় তা সর্বোচ্চ ৮৫.৯%। তবে গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন থেকে ধর্মভিত্তিক আলাদা কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয় না; ফলে নামের ওপর ভিত্তি করেই তারা এই বিন্যাস করেছেন। বাদ পড়া মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ৬৩.৮% ‘স্থানান্তরিত’ এবং ১৯.৮% ‘অনুপস্থিত/সন্ধানহীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
এছাড়া, মোট ১৯.৪১ লাখের মধ্যে ৯.২৮ লাখ নারী ভোটারের নাম কাটা গেছে, যা মোট বাদ পড়া সংখ্যার প্রায় ৪৭.৮ শতাংশ।
কেবল হায়দরাবাদেই নয়, পুরো তেলেঙ্গানা রাজ্যজুড়েই এই ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত খসড়া তালিকা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যার প্রায় ২১.৭০ শতাংশ।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এই বাদ পড়াদের মধ্যে ৯.২২ লাখ মৃত, ১১.২৫ লাখ অনুপস্থিত, ৪৫.১৮ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৬.৭০ লাখ একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে (ইভিসিআর) প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুদল জাব্বার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শিকদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান এর কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
অবহিতকরণ সভায় জানানো হয় যে, চর কিং ইউনিয়ন এবং চর ইশ্বর ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চর ইশ্বর ইউনিয়নের ৩টি এবং চর কিং ইউনিয়নের ৩টিসহ মোট ৬টি সাইক্লোন শেল্টারের ক্ষুদ্র মেরামত কার্যক্রম, ওয়াশ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মেরামত, শেল্টারভিত্তিক সোলার ব্যবস্থা এবং ৪টি সাইক্লোন শেল্টার সংলগ্ন সংযোগ সড়ক মেরামত করা হবে।
এছাড়াও যুব সদস্যকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল পুনঃগঠন করা হবে এবং তাদের দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা, স্থানীয় পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য বিলবোর্ড স্থাপনসহ বেশকিছু কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ হাতিয়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান। সভায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা প্রকল্পের কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আশ্বাস প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয় মুশিদপুর দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক মতবিনিময় করেন। এ সময় পুলিশ সুপার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় এবং প্রশ্ন মনোযোগ সহকারে শোনেন। মাদক এবং সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে নওগাঁ জেলার পোরশার এই প্রত্যন্ত এলাকায় একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।
ঘন্টা ব্যাপী এই পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় পুলিশ সুপার মাদকের ভয়াবহতা ও এর ক্ষতিকর প্রভাব, বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিক এবং কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামী হওয়ার বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন। পাশাপাশি মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থেকে লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রহলে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ’হল কার্নিভাল-২০২৬'। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার-এর সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭টায় ছাত্রহলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রহলের প্রভোস্ট ইয়াতসিংহ শুভ-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রহল প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছাত্রহল এবং ছাত্রীহলের সকল আবাসিক শিক্ষার্থীসহ হল প্রশাসন এবং সম্মানিত অতিথিবৃন্দ মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শেষে নৈশভোজে অংশ নেন।
এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বলেন, ’হল কার্নিভাল-২০২৬ আয়োজনটি সাংস্কৃতিক ও আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে । এ ধরণের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করবে বলে আমার বিশ্বাস। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে যার অধিকাংশ ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। হল কার্নিভালের মতো আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ সময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ছাত্রহল প্রাঙ্গণ উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। পরে মাননীয় উপাচার্য এবং মাননীয় উপ-উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীহলও পরিদর্শন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও, বিভিন্ন হাইড্রোবিদ্যুৎ প্রকল্পের আন্ডারগ্রাউন্ড পাওয়ারহাউস এবং সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিক ও কর্মচারীদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। ভোটেকোশি নদীসহ উত্তরের বিভিন্ন নদ-নদীতে নেমে আসা কাদা, পাথর ও মারাত্মক ধ্বংসাবশেষের কারণে বিশাল এই অবকাঠামোগুলোর প্রবেশপথ সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সময়ের সাথে সাথে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার আশা যেমন ক্ষীণ হয়ে আসছে, তেমনি দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের ক্ষোভ ও হতাশা চরম আকার ধারণ করেছে।
সরকারি হিসাব ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর তথ্যানুসারে, বন্যাকবলিত এলাকার বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৯৪৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে ঠিক কতজন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছেন এবং কতজন ঢলের তোড়ে ভেসে গেছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৬০ মেগাওয়াটের ‘উপার ত্রিশুলি-৩এ’ এবং ২১৬ মেগাওয়াটের ‘উপার ত্রিশুলি-১’ প্রকল্প এলাকায়। উপার ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদসহ প্রায় ৪২ জন কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে স্বজনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে নিখোঁজ কর্মীদের পরিবার কাঠমান্ডু ও প্রকল্প কার্যালয়গুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকার ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ শুরু থেকে উদ্ধার অভিযানে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও পানি নিষ্কাশনের আধুনিক পাম্প ব্যবহারে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের দাবি, ভূগর্ভস্থ পাওয়ারহাউস কাঠামোটি যেহেতু এখনো অক্ষত রয়েছে, তাই ভেতরে সুপেয় পানি খেয়ে বা বিকল্প উপায়ে শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে উদ্ধারকাজে জরুরি কারিগরি টিম দেরিতে মোতায়েন করায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
২১৬ মেগাওয়াটের উপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্প থেকে সর্বাধিক ৫৫৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যদিও সেখান থেকে আড়াই শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ৩৭ মেগাওয়াটের উপার ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পে ১৯১ জন, ১১১ মেগাওয়াটের রসুয়াগাধি প্রকল্পে ৯৩ জন এবং ২০ মেগাওয়াটের লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৪১ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল, নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং পোখরা থেকে আনা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়ে অনুসন্ধানের কাজ চালানো হচ্ছে। ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি দলগুলোও সুড়ঙ্গের ভেতরের কাদা এক্সকাভেটর দিয়ে সরিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর একটি দল উপর থেকে গর্ত করে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার অভিযানে নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং বেসরকারি প্রকল্পগুলোর সাথে সরকারের সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় স্বজন ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, উদ্ধারকাজে শুরুতেই নিজস্ব কারিগরি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা উচিত ছিল, যা করতে বেশ কয়েক দিন দেরি হয়ে গেছে। বর্তমানে সড়ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং দুর্গম পার্বত্য ভৌগোলিক অবস্থার কারণে অনেক স্থানে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ