ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যরাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মোদি সরকারের বৈঠক


মধ্যরাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মোদি সরকারের বৈঠক

আন্দোলন প্রত্যাহার করার পর বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগে ভারতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়ে গেছে। ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা যাবে না, সবাই একসঙ্গে থাকবে।

সংগঠনটির দাবি, সরকার বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির নিশ্চয়তা দিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ উত্থাপন করেছিল যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তারা নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন

পরে বিহার ও আসাম সরকারের তরফ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের নথি সংগঠনটির হাতে হস্তান্তর করা হয়। এতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটকস্থ ব্যক্তিদের মুক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি-এনডিএ শাসিত অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস কার্যকর হবে কিনা, সেই ব্যাপারে তাদের উদ্বেগের কথা বৈঠকে প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর সরকারের প্রতিনিধিরা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে উল্লেখ রয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না।

সৌরভ দাস আরও জানান, অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতের স্টেট ব্যাংকে সাইবার হামলা, ৩৮৯৭ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস

এদিকে, বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা এখনও পুলিশি পদক্ষেপের মুখোমুখি হচ্ছেন যদিও সমঝোতা হয়েছে। তিনি বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে সব মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি করেছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন যে, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা যদি বাস্তবায়ন না হয়, তবে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক আজ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে, জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

এ বৈঠক মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলায় ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ-১) মো. মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে নির্বাচনসংক্রান্ত সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সেদিন তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘কাঁকড়া’ আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


ভারতে ‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘কাঁকড়া’ আন্দোলন

ভারতে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ নামের এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি জ্বালানি নীতিতে স্বচ্ছতা, ভোক্তার পছন্দের স্বাধীনতা এবং শতভাগ বিশুদ্ধ পেট্রোল সরবরাহের দাবিতে সরব হয়েছে,

সম্প্রতি ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র পর এবার নিজেদের প্রতীক হিসেবে ‘কাঁকড়া’ বেছে নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি হল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতোই চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে এই আন্দোলন। গত ২৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, তারা ইথানল ব্যবহারের বিরোধী নয়। তবে জনগণের সামনে জ্বালানির প্রকৃত উপাদান, ইথানলের পরিমাণ এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্পও চালু রাখতে হবে।

ই-২০ জনতা পার্টি আরও দাবি করেছে যে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির কারণে মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, দূষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে স্বাধীন গবেষণার আয়োজন করতে হবে। তারা জ্বালানির সুবিধা-অসুবিধা ও প্রকৃত খরচ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

রবিবার ভোরে সংগঠনটির প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তাদের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিত্র ও ভিডিওভিত্তিক একটি মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। অপরদিকে, আরেকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনুসারী প্রায় ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জানা গেছে যে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবটি খোলা হলেও এর নাম একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা বা মূল উদ্যোক্তাদের পরিচয়ও এখনো অজানা।

এদিকে, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বহু গাড়িচালকের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারের ফলে জ্বালানি দক্ষতা কমছে। ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুই সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, পেট্রলে ইথানল মেশানো হলেও জ্বালানির দাম কমবে না।

কিন্তু সরকারের অবস্থান ভিন্ন। তাদের দাবি, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই দেশটি ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ যে, ইথানল-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে এই নীতির প্রতি সরকারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টি তারা সংসদে উত্থাপনেরও ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, একই দাবিতে আগামী ৩১ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে ‘গাড়ি মিছিল, গান্ধী মিছিল’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৪ আগস্ট ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটন পরিবহন সংগঠন।

এমনকি, বিশুদ্ধ পেট্রলের পরিবর্তে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ‘ই-২০’ জ্বালানি বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই ভারতে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে, মাইলেজ কমে যাওয়া, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা এবং বিকল্প জ্বালানির অভাবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিতর্ক ও আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে এই নীতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশাবাদ ট্রাম্পের, ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ এম


ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশাবাদ ট্রাম্পের, ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই প্রচেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা বৈঠক করতে চায় এবং আমরা বৈঠক করছি। দেখা যাক কী হবে। চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা যা করেছি, তা না হলে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইত না।’

ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে এবং এর মাধ্যমে ভালো ফল আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সমঝোতা না হলে, কিছু দিন আগে যে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল, প্রয়োজন হলে আবার সেই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্প সাধারণত বিস্তারিত না দিলেও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দুর্বল অবস্থানে থাকত, তাহলে ইরান কখনো আলোচনার আগ্রহ দেখাতো না। তার মতে, কঠোর সামরিক চাপই তেহরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে এই তথ্য জানবেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে জানতে পারব। আমি পুতিনকে জিজ্ঞেস করব, তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ইরান প্রশ্নে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, দুজনের মধ্যে ‘অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে’, যদিও ‘কিছু বিষয়ে সামান্য মতপার্থক্য’ আছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একটি কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি, লেবাননে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে।

একই দিনে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময়।’

সম্প্রতি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। চলতি ঘটনাসমূহের মধ্যে টানা প্রায় দুই সপ্তাহের হামলা-পাল্টা হামলার পর, গত তিন দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত বিরতি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
‘শিশুরাই সব’-এর মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদন

ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা, যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে দেশে শিশু হত্যা এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত অন্তত ৮৬ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। একই সময়ে ৩১২টি ঘটনার প্রেক্ষিতে ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলোর ভিত্তিতে এই তথ্য তুলে ধরেছে।

সোমবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের পরিচিত মানুষ যেমন বাবা-মা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক অথবা স্থানীয় পরিচিতজন। এই কারণে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা স্থান, যেমন নিজ বাড়ি এবং পরিচিত পরিবেশ, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা বছরে যেখানে ১২৪টি শিশুহত্যা এবং ৩০৮ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক স্তরে পৌঁছেছে। গত ছয় মাসে নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিন জনের পরিচয় জানা যায়নি। সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সি শিশুরা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে, অর্থাৎ নিজ বাড়ি অথবা আত্মীয়ের বাসায়। অন্যদিকে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ঘটে জনপরিসরে, যেমন রাস্তা, মাঠ, বাজার বা জলাশয়ের মতো স্থানে।

অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৭টি ঘটনার মধ্যে বাবা-মা এবং ১১টি ঘটনার মধ্যে নিকট আত্মীয় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশুহত্যা সংঘটিত হয়েছে পরিচিত মানুষের দ্বারা। হত্যার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে রাগ, পারিবারিক কলহ এবং ব্যক্তিগত বিরোধ যা ২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৮৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৪টি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। ৩১২টি ঘটনার মধ্যে ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়নি। সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা, এই বয়সের ১৭৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা মোট ঘটনার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

এছাড়া শুন্য থেকে ছয় বছর বয়সি ৯০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিক বার ধর্ষণ এবং ২৬টি দলগত ধর্ষণ। নির্যাতনের পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা অথবা একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংস্থার আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার জানান, শিশু অধিকার হরণ একটি জাতীয় সংকটের রূপ নিয়েছে। শিশু সুরক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকর বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%