ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

১১ বছরের মিসরীয় শিশু বই পড়ে জিতলেন ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা


১১ বছরের মিসরীয় শিশু বই পড়ে জিতলেন ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা

মিসরের ১১ বছর বয়সী মিয়া মুহাম্মদ রাগাব ওসমান অসাধারণ একটি কীর্তি গড়েছেন। ৭০টির বেশি বই পড়ে সেগুলোর বিষয়বস্তু আত্মস্থ করে তিনি ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যেখানে মিয়া সেরার স্বীকৃতি লাভ করেন।

বিজয়ী হিসেবে মিয়া ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার পেয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমান। তবে পুরস্কারের বাইরেও, দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের একটি বিশেষ উপহার তাকে ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করে শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এক পর্যায়ে, তিনি নিজের পরিধেয় পোশাকে লাগানো ব্যাজ খুলে মিয়ার মাথায় পরিয়ে দেন এবং স্নেহভরে চুমু দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এই মুহূর্তটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্যে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: গুজরাটে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে সাবেক সেনাসদস্যকে হত্যা, স্ত্রী গ্রেপ্তার

মিয়ার বাসস্থান মিসরের কাফর এল শেখ প্রদেশ। পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই রয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে ৭০টির বেশি বই পড়েছে এবং বইগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে নিজের উপলব্ধি ও সারসংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি আরবি ভাষায় চিন্তাভাবনা প্রকাশের দক্ষতাও দেখিয়েছে।

প্রতিযোগিতায় মিয়া জানিয়েছেন, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সে নিজের স্কুলে একটি ছোট গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তার সহপাঠীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বই পড়ার সুযোগ পাবে। তার মতে, "বই মানুষের চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।"

এবারের দশম আসরে রেকর্ডসংখ্যক ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। চূড়ান্ত পর্বে বিভিন্ন দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে, যেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ফিলিস্তিনের গাজাল রাশাদ আদেল তাইয়েম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে সৌদি আরবের রায়ান বিন আদিব আল জাকারি।

মিয়ার এই সাফল্যে মিসরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গত ৪ নভেম্বর, দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান এবং এ সময় তার হাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ‘মেডেল অব এক্সিলেন্স’ তুলে দেন। মিয়ার পরিবার ও শিক্ষকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।

আরও পড়ুন: আরামকো ভবনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে

মিয়ার এই অর্জন ১১ বছর বয়সে তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দুবাই সরকারের সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, গালফ নিউজ, দ্য ন্যাশনাল ও মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতির কারণে অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১১ পি.এম


দুর্নীতির কারণে অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতির কারণে দেশের বহু সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি সমবায় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায় শুধুমাত্র পণ্য উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায়কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকটসহ অর্থনীতিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সমবায় খাতের উন্নয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতির কারণে অনেক সমিতি তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমবায় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমবায় খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবির বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির নতুন সভাপতি বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১২ পি.এম


চবির বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির নতুন সভাপতি বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির ২০২৬ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইতিহাস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বাবু। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির জোমাদ্দার।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সংগঠনের সদ্য সাবেক সভাপতি মাহীন জামান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইমুন ইসলাম তুহিনসহ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ কার্যবর্ষের জন্য হাসিবুল হাসান বাবুকে সভাপতি এবং সাব্বির জোমাদ্দারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

নতুন সভাপতি হাসিবুল হাসান বাবু বলেন, "আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সমিতির সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বরিশাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের রায়ে আজীবন বহিষ্কার অবৈধ, সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


হাইকোর্টের রায়ে আজীবন বহিষ্কার অবৈধ, সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি

মাস্টার্সের সকল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, এখন কেবল ফল প্রকাশের অপেক্ষা। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আফসানা আনায়াত এমি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় বছরের আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টে জয় লাভ করেছেন। আটকে থাকা ফলাফল ও শিক্ষাগত সনদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। হাইকোর্টের রায়টি আইনি নজির হিসেবে ঢাকা ল রিপোর্টসে (ডিএলআর) প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের সামনে রাত ১১.৩০ মিনিটে স্থাপনা ভাঙার চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় নিরাপত্তার দাবিতে শতাধিক ছাত্রী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আফসানার তর্কবিতর্ক হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আফসানাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

মামলার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি আফসানাকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করে। ২২ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সেই সুপারিশ অনুমোদন করে। অথচ আফসানাকে প্রথম কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ২ মার্চ। অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে আজীবন বহিষ্কার আদেশ জারি করে।

প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার না পেয়ে আফসানা হাইকোর্টে রিট করেন। তার পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা এবং ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী।

২০২৫ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে রুল ও স্থগিতাদেশের পাশাপাশি ফল প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে ওই বছরের ২৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ফল প্রকাশ হলেও আফসানার ফল আটকে রাখা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়।

অবশেষে কয়েক দফা শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে আফসানার আজীবন বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এই রায়টি Afsana Anayat Amey Vs. University of Chittagong & Others, 78 DLR (2026) 675 নামে নজীর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বলেন, "আমি মামলা করার পক্ষে ছিলাম না। কারণ আমি জানি এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করে টিকে থাকা টাফ। বিষয়টা ঝুলে যাবে। বিকল্প কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে আমি, এজ এ ফাইলিং লইয়ার, রীট ফাইল করলাম। ২০২৫ সালের ৩০ জুন রুল, স্টে এবং রেজাল্ট পাবলিকেশনের ডাইরেকশন পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত আদেশের কপি সার্ভ করা হলো। কিন্তু প্রশাসনতো প্রসাশনই! আদেশ মানবে না! হাইকোর্টের আদেশ ভায়োলেট করে উক্ত শিক্ষার্থীর রেজাল্ট উইথহেল্ড করে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের মাস্টার্স রেজাল্ট প্রকাশ করা হলো বিগত ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই। তারপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠালাম। বিশ্ববিদ্যালয় তারপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল ফাইল করলো। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। আমার কথা ছিলো এটার শেষ দেখবো। তারপর যা হয় হবে। বিশেষ করে এই কারণে খুশি যে, আমাদের এই মামলার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিসিপ্লিনারি রুলস প্রনীত হবে। শত শত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে এমন হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাবে। আইনজীবী হিসেবে ঠিক এই জায়গায় আমার সার্থকতা।"

এই বহিষ্কারাদেশ কেবল আফসানার ফলাফলই আটকে দেয়নি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ সময়টুকুও বদলে দিয়েছিল। যে সময়ে সহপাঠীদের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেই সময়ে তাকে লড়তে হয়েছে নিজের শিক্ষাগত পরিচয়টুকু ধরে রাখতে। আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। এ সময়ের অনেক ঘটনা তিনি এত দিন নিজের মধ্যে রেখেছিলেন। অবশেষে সনদ হাতে পাওয়ার পর প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।

আফসানা আনায়াত এমি বলেন, "এটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন এক লড়াই, কিন্তু আমরা হারিনি। হাইকোর্ট বিভাগ বহিষ্কারের আদেশ অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখেছেন। গত দেড় বছরে আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। রাখে আল্লাহ তো মারে কে। প্রতিটি অভিজ্ঞতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ।"

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আফসানার আটকে থাকা মাস্টার্সের ফল প্রকাশ করেছে এবং তাকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মূল সনদ দিয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে আইন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সামনে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মুহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ না করে কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি বহিষ্কার করা যায় না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এর মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। কিন্তু অতীতে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে হাইকোর্টে সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি।"

উপাচার্য আরও বলেন, "অনেক সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি বুঝতে বা মেনে নিতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে প্রশাসন কখনো কখনো নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতে টেকে না।"

তিনি আরও বলেন, "সম্প্রতি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও চাপের মুখেও প্রশাসন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার বোঝানো হয়েছে। তারা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন এবং প্রশাসনের সমালোচনাও করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, এ ক্ষেত্রে গৃহীত সিদ্ধান্ত আইনানুগ হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ করা হবে।"

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে এমির শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ সময়, সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ফিরে পেয়েছেন হারানো শিক্ষাগত স্বীকৃতি। তবে এই প্রাপ্তির পেছনে রয়ে গেছে দেড় বছরের অনিশ্চয়তা, প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্প। মাস্টার্সে প্রথম হওয়ার অর্জন নিয়ে এভাবেই শেষ হলো আফসানা আনায়াত এমির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিচার শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালত বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার সহযোগী তিনজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন। এর মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মামলা আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শেষে বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বর্ষার পক্ষে আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "তার মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু মামলায় ৪৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও কেউ তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি।" তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু কেনার টাকা দেওয়ার অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ তদন্ত সংস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, "আয়লানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।" বর্ষা দাবি করেন, মাহির তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং হত্যার পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। তাই বন্ধুর ডাকে সেখানে যাওয়ার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি না দেওয়ার আবেদন জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, "ভুক্তভোগীকে হত্যার জন্য তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন।" তিনি আদালতের কাছে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, "তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে প্রায় এক মাস আগে থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।"

শুনানির পর আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আয়লান ও মাহিরের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে, মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান এবং ফারদীন আহমেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মো. জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানান, "জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে।" পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কামরুল হাসান মুঠোফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের খবর জানান।

এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%