ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হাইকোর্টের রায়ে আজীবন বহিষ্কার অবৈধ, সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি


হাইকোর্টের রায়ে আজীবন বহিষ্কার অবৈধ, সনদ ফিরে পেয়ে মাস্টার্সে প্রথম এমি

মাস্টার্সের সকল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, এখন কেবল ফল প্রকাশের অপেক্ষা। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আফসানা আনায়াত এমি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় বছরের আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টে জয় লাভ করেছেন। আটকে থাকা ফলাফল ও শিক্ষাগত সনদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। হাইকোর্টের রায়টি আইনি নজির হিসেবে ঢাকা ল রিপোর্টসে (ডিএলআর) প্রকাশিত হয়েছে।

ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের সামনে রাত ১১.৩০ মিনিটে স্থাপনা ভাঙার চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় নিরাপত্তার দাবিতে শতাধিক ছাত্রী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আফসানার তর্কবিতর্ক হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আফসানাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

মামলার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি আফসানাকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করে। ২২ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সেই সুপারিশ অনুমোদন করে। অথচ আফসানাকে প্রথম কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ২ মার্চ। অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে চূড়ান্তভাবে আজীবন বহিষ্কার আদেশ জারি করে।

আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা, বাস্তবায়নে ৩ দিন সময় দিল মাউশি

প্রশাসনিকভাবে প্রতিকার না পেয়ে আফসানা হাইকোর্টে রিট করেন। তার পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা এবং ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী।

২০২৫ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে রুল ও স্থগিতাদেশের পাশাপাশি ফল প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে ওই বছরের ২৩ জুলাই সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ফল প্রকাশ হলেও আফসানার ফল আটকে রাখা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে গেলে আইনি প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয়।

অবশেষে কয়েক দফা শুনানি শেষে ২০২৬ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে আফসানার আজীবন বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এই রায়টি Afsana Anayat Amey Vs. University of Chittagong & Others, 78 DLR (2026) 675 নামে নজীর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বলেন, "আমি মামলা করার পক্ষে ছিলাম না। কারণ আমি জানি এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করে টিকে থাকা টাফ। বিষয়টা ঝুলে যাবে। বিকল্প কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে আমি, এজ এ ফাইলিং লইয়ার, রীট ফাইল করলাম। ২০২৫ সালের ৩০ জুন রুল, স্টে এবং রেজাল্ট পাবলিকেশনের ডাইরেকশন পেলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত আদেশের কপি সার্ভ করা হলো। কিন্তু প্রশাসনতো প্রসাশনই! আদেশ মানবে না! হাইকোর্টের আদেশ ভায়োলেট করে উক্ত শিক্ষার্থীর রেজাল্ট উইথহেল্ড করে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের মাস্টার্স রেজাল্ট প্রকাশ করা হলো বিগত ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই। তারপর আমি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠালাম। বিশ্ববিদ্যালয় তারপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপীল ফাইল করলো। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। আমার কথা ছিলো এটার শেষ দেখবো। তারপর যা হয় হবে। বিশেষ করে এই কারণে খুশি যে, আমাদের এই মামলার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিসিপ্লিনারি রুলস প্রনীত হবে। শত শত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে এমন হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পাবে। আইনজীবী হিসেবে ঠিক এই জায়গায় আমার সার্থকতা।"

আরও পড়ুন: মাউশির জরুরি চিঠিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্ট এক্সিবিশনের অনুমতি

এই বহিষ্কারাদেশ কেবল আফসানার ফলাফলই আটকে দেয়নি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ সময়টুকুও বদলে দিয়েছিল। যে সময়ে সহপাঠীদের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল, সেই সময়ে তাকে লড়তে হয়েছে নিজের শিক্ষাগত পরিচয়টুকু ধরে রাখতে। আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। এ সময়ের অনেক ঘটনা তিনি এত দিন নিজের মধ্যে রেখেছিলেন। অবশেষে সনদ হাতে পাওয়ার পর প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন সেই অভিজ্ঞতার কথা।

আফসানা আনায়াত এমি বলেন, "এটি ছিল দীর্ঘ ও কঠিন এক লড়াই, কিন্তু আমরা হারিনি। হাইকোর্ট বিভাগ বহিষ্কারের আদেশ অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখেছেন। গত দেড় বছরে আমার জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত আমার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। রাখে আল্লাহ তো মারে কে। প্রতিটি অভিজ্ঞতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ।"

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আফসানার আটকে থাকা মাস্টার্সের ফল প্রকাশ করেছে এবং তাকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মূল সনদ দিয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ৩.৭১ সিজিপিএ নিয়ে আইন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তবে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা প্রণয়নে আদালতের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো সামনে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মুহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ না করে কোনো শিক্ষার্থীকে সরাসরি বহিষ্কার করা যায় না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। এর মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। কিন্তু অতীতে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করেই ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ফলে হাইকোর্টে সেই সিদ্ধান্ত টেকেনি।"

আরও পড়ুন: চবির বরিশাল বিভাগীয় ছাত্র সমিতির নতুন সভাপতি বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির

উপাচার্য আরও বলেন, "অনেক সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি বুঝতে বা মেনে নিতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে প্রশাসন কখনো কখনো নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এ ধরনের সিদ্ধান্ত আদালতে টেকে না।"

তিনি আরও বলেন, "সম্প্রতি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও চাপের মুখেও প্রশাসন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার বোঝানো হয়েছে। তারা কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন এবং প্রশাসনের সমালোচনাও করেছেন। তা সত্ত্বেও আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, এ ক্ষেত্রে গৃহীত সিদ্ধান্ত আইনানুগ হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুসরণ করা হবে।"

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে এমির শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ সময়, সেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ফিরে পেয়েছেন হারানো শিক্ষাগত স্বীকৃতি। তবে এই প্রাপ্তির পেছনে রয়ে গেছে দেড় বছরের অনিশ্চয়তা, প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের গল্প। মাস্টার্সে প্রথম হওয়ার অর্জন নিয়ে এভাবেই শেষ হলো আফসানা আনায়াত এমির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন।

আরও পড়ুন: ষষ্ঠ-নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের নতুন সময়সীমা ২৪ ডিসেম্বর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন হত্যার অভিযোগে তিনজনের বিচার শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালত বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার সহযোগী তিনজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন। এর মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মামলা আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শেষে বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

বর্ষার পক্ষে আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "তার মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু মামলায় ৪৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও কেউ তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি।" তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু কেনার টাকা দেওয়ার অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ তদন্ত সংস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, "আয়লানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।" বর্ষা দাবি করেন, মাহির তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং হত্যার পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। তাই বন্ধুর ডাকে সেখানে যাওয়ার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি না দেওয়ার আবেদন জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, "ভুক্তভোগীকে হত্যার জন্য তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন।" তিনি আদালতের কাছে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, "তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে প্রায় এক মাস আগে থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।"

শুনানির পর আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আয়লান ও মাহিরের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে, মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান এবং ফারদীন আহমেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মো. জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানান, "জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে।" পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কামরুল হাসান মুঠোফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের খবর জানান।

এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, গত ৭ নভেম্বর সৌদি আরবে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত শোকাহত।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য প্রদান করেছেন।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনাও করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় না রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৪ পি.এম


তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় না রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান: অর্থমন্ত্রী

তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারপ্রধানের নির্দেশনা রয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, "তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো সংশয় না থাকে।" এই মন্তব্যটি তিনি রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় করেছেন।

অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "অর্থনীতি গণতান্ত্রিক না হলে দেশের উন্নতি কম হয়।" তিনি বলেন, "যদি কোনো সরকার দেশের তথ্য নিয়ে প্রতারণা করে, তাহলে তা নিজের সঙ্গে নিজে প্রতারণা করার শামিল।" বিগত সরকারের বিষয়ে আলোচনা করা মানেই সময় অপচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, "সরকার কোনো ধরনের তথ্য বিকৃত করতে চায় না।" তিনি জানান, পরিসংখ্যান তৈরিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং সরকার মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে কাজ করছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন, আর যোগ্য ব্যক্তিরা ছিলেন সুবিধার বাইরে।" তিনি বলেন, "এতে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয় হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "নির্ভরযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে সরকার সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমবায় আন্দোলনকে যুগোপযোগী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


সমবায় আন্দোলনকে যুগোপযোগী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, এনজিও এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সমবায় কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন করে যুগোপযোগীভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, "আইনের কারণেই সমবায় আন্দোলন এগিয়ে যেতে পারছে না।" আইন পর্যালোচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, ছোটবেলায় নিজ শহরে সমবায়ের সমৃদ্ধ কার্যক্রম তিনি দেখেছেন। কিন্তু ক্রমশ সেই জৌলুশ হারিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ উদ্যোগের সঙ্গে সমবায় আন্দোলনকে একীভূত করতে চেয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি মিল্কভিটার মতো সফল সমবায় প্রতিষ্ঠানকে পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে আরও নতুনত্ব আনার পরামর্শও দেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির কারণে সমবায় সমিতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু মাত্র গ্রামে তারা সফলভাবে কাজ করতে পেরেছে।

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দীর্ঘ পথ র‍্যালিতে অতিক্রম করেছেন এবং যে সমস্ত কথাগুলো তিনি জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, সেগুলোকে সামনে নিয়ে আমরা যদি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই; তাহলে অনেক প্রতিবন্ধকতাকে এড়িয়ে যেয়ে আমরা সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস করি।"

তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ, বিগত দিনগুলোতে অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে যদি আমরা উপরে উঠতে চাই, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, যে সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত দেশকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করছে, সেগুলোকে কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%