বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪৫ এম
ময়মনসিংহে উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সাত দিন ধরে নিখোঁজ এক যুবকের বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সময়, পাশের মাটি খুঁড়ে তার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে অম্বিকাগঞ্জ কলেজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সোহেল মিয়া (২৬) সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সোহেল গাছ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সোহেল মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির চেষ্টা করে, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে নিহত যুবকের বাবার পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে অম্বিকাগঞ্জ কলেজের একটি একাডেমিক ভবনের স্থান নির্বাচনের কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে সেখানে জায়গার মাপজোখ করতে যান কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী।
এ সময় তারা উৎকট দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে সোহেলের মাথা ও দেহের অবশিষ্ট অংশ পাওয়া যায়।
অম্বিকাগঞ্জ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সেখানে গিয়ে দেখতে পান যে, তাদের সীমানাপ্রাচীর ভাঙা এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে চারদিকে খোঁজ করে তারা মানবসদৃশ একটি মাথা দেখতে পান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে থানা-পুলিশকে অবহিত করলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরিবারও মাথাটি নিখোঁজ সোহেলের বলে শনাক্ত করে।
তিনি আরও জানাচ্ছেন, মাথাটি ঘাসের ওপর পাওয়া যায়। পাশেই নরম মাটিতে ছিল শিয়াল, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীর আঁচড়ের দাগ। ধারণা করা হচ্ছে, গর্ত থেকে কোনো প্রাণী মাথাটি টেনে তুলে ফেলেছে। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
মাহবুবুল আলম জানান, পুলিশ প্রথমে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহের বাকি অংশের সন্ধানে পাশেই মাটি খুঁড়তে শুরু হয়। একপর্যায়ে মাটির ভেতর থেকে দুটি গ্লাভস পাওয়া যায়। রাত পৌনে নয়টার দিকে কয়েক ফুট গভীরে পাওয়া যায় মাথাবিহীন দেহ।
নিহতের শ্বশুর আলাল উদ্দিন বলেছেন, ১৬ জুলাই রাত আটটার পর সোহেলের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়া কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সোহেলকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। সোহেল এবং সেলিম একসঙ্গে গাছ কাটার কাজ করলেও তাদের মধ্যে পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ ছিল। সেলিম নিয়মিত সোহেলকে কম টাকা দিতেন এবং মারধরও করতেন। এ কারণেই সোহেল পরে ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সোহেল বাড়িতে আসার খবর পেয়ে সেলিম পুনরায় কাজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেলিমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই জানেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার সেলিম এলাকা ছেড়ে চলে যান।
আলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর মরদেহের বাকি অংশও উদ্ধার হয়। শরীরে কাপড় দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে মরদেহটি সোহেলের।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন মাথা ও অবশিষ্ট দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, নিহতের ভগ্নিপতি সেলিম মিয়াকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে কারা এবং কেন মরদেহ মাটিচাপা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুল করিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই মাথা ও দেহ নিখোঁজ যুবক সোহেলের। পিবিআইয়ের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে এ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। শরীরের কাপড় দেখে মরদেহটি সোহেলের বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিচারকের সদস্যরা। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। এদিকে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির আন্দোলন নিয়ে নতুন ঘোষণা এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে, মোদি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, "আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না!" তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই এটি একটি অংশ। যেসব ব্যক্তিরা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোমতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে কারণ বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনে জনসাধারণের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে।
দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) এক্সে (সাবেক টুইটার) এই তথ্য জানিয়েছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো—লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা চালু রাখা হয়েছে। রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তন (ইন্টারচেঞ্জ) করা যাবে। অর্থাৎ, এখানে যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন করতে পারবেন।
তবে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া বা বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। ডিএমআরসি তাদের পোস্টে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তবে স্টেশনগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে।
এদিকে, কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। এই দলটি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রতিবাদ করছে, এবং তাদের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও রয়েছে।
বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীদের জন্য পরিচয় প্রকাশ না করা কয়েকজন দাতা খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করেছেন।
এর মধ্যে, বুধবার রাতে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় সহিংসতার একটি ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে তলস্তয় মার্গের কাছে একদল দুর্বৃত্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছোড়ে।
এর ফলে কনট প্লেসের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত আহত হন। পরে উচ্চতর কর্মকর্তারা তাকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, কয়েক মুহূর্তের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়লেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন যে, কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তারা মেদান্তা হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের ফটকেই তাদের আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সংসদ সদস্য মহুয়া মাজি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই এই বিক্ষোভ ২২ দিন ধরে চলছিল। দিল্লি সরকার তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি দাবি করেন, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর কাছ থেকে জানা গেছে যে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই তার সঙ্গে দেখা করার জন্য। সত্ত্বেও, তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য সঞ্জয় যাদবও সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এত বড় জনরোষের পরও সরকার যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলে, তাহলে সেটি সরকারের ঔদ্ধত্যের প্রকাশ। তার দাবি, এটি কোনো একক প্রাতিষ্ঠানিক আন্দোলন নয়। সরকারের নীতি এবং পুলিশের কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ তরুণরাই এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকও তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ দিনের অনশন শেষ করার আগে তিনি সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চান। সেই নিশ্চয়তায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষত, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইউরিয়ার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ এখন সম্ভাব্য সার সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
ডব্লিউএফপির নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ তার ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমানে দেশে মজুদ থাকা ইউরিয়া অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করার মতোই রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইউরিয়ার দাম বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সময়ে, গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে তিনটি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, চলমান এই সংকটের ফলে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ (১৮.১ মিলিয়ন) মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে, সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে আনসার আল্লাহ (হুথি)। লোহিত সাগরে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হামলার বিষয়ে বিবৃতি জানিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।
গোষ্ঠীটির আল-मাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার জাহাজ দুটির নাম এনসেলিয়া এবং লায়লা। এই অভিযানে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের জীবন সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু করেছে। বাবার দাফন করার পর রাতে এটিএম বুথে তার ডিউটি এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অনেকের হৃদয়ে ছুঁয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর তার জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে উঠে এসেছে অন্যান্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ইকনের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে এবং মামার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইকন শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা সহকর্মীরা কখনোই পরীক্ষার আগের রাতে তাকে ডিউটি করতে বাধ্য করেননি। বরঞ্চ তিনি নিজের ইচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বুথের শান্ত পরিবেশে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে গেছেন।
জানা গেছে, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার বই পর্যন্ত কিনতে পারেননি ইকন। শুরুতে মোবাইল ফোনে পিডিএফ ডাউনলোড করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে এক সহপাঠীর কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি প্রস্তুতি করছিলেন।
ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। বড় ভাই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ইকনের কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করে তিনি পরিবারের ব্যয়ভার বহন করে আসছিলেন।
এরইমধ্যে বাবার মৃত্যু তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু এই তরুণ এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভেঙে পড়েননি। তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছেন। পরিবার ও স্বজনরা জানান, ইকনের ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একজন জজ অথবা ব্যারিস্টার হওয়ার। অর্থনৈতিক সংকট এবং পারিবারিক দুর্ভোগও তার সেই স্বপ্নকে ম্লান করতে পারেনি।
স্থানীয়দের মতে, ইকনের এই সংগ্রাম কেবল একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গল্প নয়; এটি হাজারো সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে এলে ইকনের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।
স্থানীয়রা ইকনের উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ