০৬:২৬ এম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ‘ভেঙে ফেলার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এবং এ লক্ষ্যে অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানকে আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার রুবিও অভিযোগ করেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘গুলি বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নয়, তথাকথিত আন্তর্জাতিক আইনের শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করছে।’
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই আইসিসির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ শুরু হয়। তখন আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করায় আইসিসিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–সংক্রান্ত তদন্তের কারণে আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তবে এবার পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্বে পুরো সরকার থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এটি বিশ্বের দেশগুলোকে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং যারা যোগ দেবে না তাদের জন্য মার্কিন সহায়তা সম্ভাব্য হ্রাস করার হুমকি দিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব দেশ মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভর করে আইসিসি-র মিথ্যা কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকার করবে, তারা খুব সম্ভব আরো কঠোর নজরদারির আওতায় আসবে।
একই দিনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে রুবিও লেখেন, “সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে এবং যেসব মিত্র আমাদের সঙ্গে একমত হবে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ধাপে ধাপে আইসিসিকে ভেঙে ফেলব।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানান, এসব পদক্ষেপের মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল এবং আরো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা করে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধাভোগী, তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা মার্কিন কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের বিচারের বিষয়ে আইসিসির দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নিবন্ধে রুবিও আরও অভিযোগ করেন, আইসিসি “বামপন্থী বেসরকারি সংস্থা, আত্মতুষ্ট বৈশ্বিকতাবাদী (গ্লোবালিস্ট) এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী তৃতীয় বিশ্বের কয়েকটি সরকারের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি এল সালভাদরে অভিবাসী বহিষ্কার এবং কথিত মাদক-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন। পাশাপাশি ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (ডন) সংস্থার ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তে আইসিসির প্রতি আহ্বানকেও নাকচ করেন।
তবে ডনের নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির সিএনএনকে বলেন, রুবিও তাদের অবস্থান ভুলভাবে তুলে ধরেছেন। তাদের আহ্বান ছিল যুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত সব সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্তের জন্য।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
শাকির বলেন, এতে প্রশ্ন ওঠে—পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও কি মনে করেন, ইরানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত হওয়া উচিত নয়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন