০৫:৫৩ পি.এম
ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এতে তিনি শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আজ তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বৈঠকে মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী এফসিডিও (এফসিডিও), আইএলও (আইএলও) ও বিশ্বব্যাংক (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক) অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চলমান ‘রাইজ’ (রাইজ) প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এছাড়া দু'দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন সম্ভব।
তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠালে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করবে।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানান। একইসঙ্গে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন (গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন) বাস্তবায়নে সহযোগিতার কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে দেশটির সরকার ও জনগণের অবস্থান খুবই কঠোর। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে মাত্র অল্প কিছু আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
সারাহ কুক আরও জানান, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড (থ্রি থাউজ্যান্ড পাউন্ড) আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিপোর্ট করা হলে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স (জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স) বিষয়ক কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন