ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা


প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ৩ দফা দাবিতে নতুন ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের জন্য।

এ কর্মসূচিটি মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি স্বাগত বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

শিক্ষকদের ঘোষিত ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

১. ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন : নবম জাতীয় বেতন স্কেলের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে ১১তম গ্রেড প্রদান করা।

২. উচ্চতর গ্রেড ও শতভাগ পদোন্নতি : নবম পে স্কেল অনুযায়ী ৮ ও ১৪ বছর পূর্তিতে প্রাপ্য দুটি উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতি চালুকরণ।

৩. হয়রানিমূলক বদলি ও মামলা প্রত্যাহার : সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপিসহ সব শিক্ষকের হয়রানিমূলক বদলির আদেশ বাতিল এবং দায়েরকৃত ভিত্তিহীন বিভাগীয় মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

এদিকে উল্লিখিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তা হলো—

১. সংবাদ সম্মেলন : আজ ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা।

২. কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া মাহফিল (৮ নভেম্বর, রবিবার) : সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। পাশাপাশি প্রয়াত শিক্ষক ফাতেমা আপার রুহের মাগফিরাত এবং গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে কেন্দ্রীয় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

৩. জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি (৮ নভেম্বর, রবিবার) : একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষক প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

৪. বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি (১৭ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার) : বিভাগীয় শিক্ষক প্রতিনিধিরা বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করবেন।

৫. মহাসমাবেশ (ডিসেম্বর ২০২৬) : বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা শাহবাগে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে (তারিখ পরবর্তীতে চূড়ান্ত হবে)।

৬. অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি : এসব কর্মসূচির পরও দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব বা শাহবাগে এক দফা দাবিতে অবস্থান ও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপ বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে : ক্রেমলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


ইউরোপ বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে : ক্রেমলিন

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা বর্তমানে বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এই মন্তব্যটি সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ করেছেন।

পেসকভ উল্লেখ করেন, ফ্রান্সের প্রধান প্রধান শহরগুলো থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি একে স্পষ্ট সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তবে তিনি একইসঙ্গে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ধস নামানো চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিককে নিষিদ্ধ করলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ধস নামানো চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিককে নিষিদ্ধ করলো

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) চীনের বিতর্কিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ডিপসিকের (DeepSeek) তৈরি প্রযুক্তি এবং পণ্যগুলোকে দেশটির সব বেসামরিক সরকারি সংস্থার আইটি সিস্টেমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন শেয়ার বাজারে এই চীনা এআই স্টার্টআপটি বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করেছিল। অত্যন্ত কম খরচে এবং কম ডেটা ব্যবহার করে উন্নত এআই মডেল বাজারে আনার পর, মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের বাজারমূল্য থেকে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারেরও বেশি উধাও হয়ে গিয়েছিল। তখন এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো নজিরবিহীন দরপতনের মুখে পড়েছিল।

মার্কিন প্রশাসনের নতুন এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডিপসিকের প্রযুক্তি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি। এতে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ডেটা চীন সরকারের হাতে চলে যাওয়ার এবং সরকারি কার্যক্রমে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে নিউইয়র্ক, টেনেসি সহ একাধিক অঙ্গরাজ্য এবং বাণিজ্য বিভাগ ও নৌবাহিনীসহ বেশ কিছু কেন্দ্রীয় সংস্থা সরকারি ডিভাইসে ডিপসিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান

ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলার পলল ভূমির বুক চিরে বয়ে চলা প্রমত্তা যমুনার রূপালী জলধারা যেমন জীবন দেয়, তেমনি ক্ষ্যাপাটে বর্ষায় তার করাল গ্রাস কেড়ে নেয় জনপদ, স্বপ্ন আর শত বছরের ইতিহাস।

ভাঙা-গড়ার এই চিরন্তন খেলায় যমুনা কখনো রুদ্রাণী, কখনো বা শান্ত-স্নিগ্ধ এক অনন্ত ক্যানভাস। প্রমত্তা যমুনা যখন তার রূপালী ঢেউয়ে আদিম উল্লাসে মেতে ওঠে, তখন তার গর্জনে যেমন থাকে ধ্বংসের সুর, তেমনি তার শান্ত রূপের মাঝে লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত কাব্য।

এই যমুনার বুকেই মানুষের তৈরি এক অনন্য মহাকাব্য হলো সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ (ক্রসবার-৩)। যেখানে একদা ছিল ভাঙনের নীল বেদনা, আজ সেখানে জল ও স্থলের এক অপূর্ব মিতালি। এটি কেবল একটি পাথুরে বাঁধ নয়, বরং যমুনার বিশালতার বুকে মানুষের এঁকে দেওয়া এক স্বপ্নডানা।

রুদ্ররূপের অবসান: ভাঙনের কান্না মুছে সৃষ্টির জয়গান

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে শোনা যায় যমুনার রুদ্ররূপের গল্প। নব্বইয়ের দশকে যমুনার গ্রাসে সিরাজগঞ্জ শহর যখন অস্তিত্ব সংকটে, তখন শুরু হয় এক অসম লড়াই। নদীকে বেঁধে ফেলার, শহরকে বাঁচানোর লড়াই।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে প্রথম দফায় ব্রিটিশ কারিগরি সহায়তায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির মাধ্যমে মূল শহর রক্ষা বাঁধটি তৈরি করা হলেও যমুনার করাল গ্রাস সম্পূর্ণ থামানো যায়নি।

সেই লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত ও আধুনিক অধ্যায় রচিত হয় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ যখন যমুনার বুক চিরে ১৭৮২ মিটার বা প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্রসবার-৩ বাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন করে, তখন কেবল শহরই রক্ষা পায়নি, জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। শুরুতে যা ছিল কেবলই নদী শাসনের এক কঠোর প্রযুক্তিগত প্রয়াস, কালের বিবর্তনে তা রূপ নেয় এক পরম সৌন্দর্যের ক্যানভাসে। চীনা প্রকৌশলীদের হাত ধরে যমুনার যৌবনকে ভালোবেসে বেঁধে ফেলার এই কীর্তিই আজ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে “চায়না বাঁধ”।

জল-আকাশের জলসাঘর: যেখানে যমুনা সেজেছে ‘মিনি কক্সবাজার’ রূপে

বিকেলের সোনাঝরা আলোয় এই বাঁধের পিচঢালা পথে পা রাখলে মনে হবে যেন আপনি নদীর ওপর দিয়ে হেঁটে চলেছেন কোনো এক দূর দিগন্তে। দুই পাশে থৈ থৈ জলরাশি, আর মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সোজা পথটি যেন এক মায়াবী সুড়ঙ্গ। দূর থেকে দৃশ্যমান যমুনা সেতুর অবয়ব যেন আকাশের গায়ে এক অলৌকিক আলপনা এঁকে দেয়।

এখানে বাতাস ফিসফিস করে কথা বলে। গোধূলির আলো যখন যমুনার জলে এসে পড়ে, তখন নদীটি আর নদী থাকে না; হয়ে ওঠে গলানো সোনার এক বিশাল সমুদ্র। ঢেউগুলো যখন বাঁধের পাথুরে গায়ে এসে আছড়ে পড়ে, তখন তৈরি হয় এক চিরন্তন জলতরঙ্গ। স্থানীয়রা একে ভালোবেসে ডাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’। নদী আর আকাশের এমন নিবিড় আলিঙ্গন বাংলাদেশের খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।

বাতাসের ডানায় প্রযুক্তির ছন্দ: ডানা মেলা উইন্ডমিল

চায়না বাঁধের বুকে প্রকৃতির সাথে প্রযুক্তির মেলবন্ধন কেবল পাথুরে বাঁধেই শেষ হয়নি। যমুনার সাঁ সাঁ হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বাঁধের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির উইন্ডমিল বা বায়ুকলগুলো।

বাতাসের তালে তালে যখন এই বিশালাকার পাখাগুলো ঘুরতে থাকে, তখন এক অদ্ভুত যান্ত্রিক ছন্দ তৈরি হয়।

এটি দেশের অন্যতম সবুজ বিদ্যুৎ শক্তির চাক্ষুষ উদাহরণ। বিকেলের আলোয় ঘূর্ণায়মান এই পাখাগুলোর নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা যমুনার বুকে সবুজ শক্তির এই রূপ দেখা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য বাড়তি পাওনা।

ঋতুর ক্যানভাসে যমুনা: কখনো শুভ্র কাশবনের মেলা, কখনো অথৈ জলরাশি

চায়না বাঁধের রূপ একেক ঋতুতে একেক রকম মোহময়ী রূপ ধারণ করে। বর্ষা শেষ হতেই যমুনার বুকে যখন জেগে ওঠে মাইলের পর মাইল বালুচর, তখন চরের বুক জুড়ে ডানা মেলে শুভ্র সাদা কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘ আর নিচে যমুনার পাড়ে সাদা কাশবনের এই রাজ্য পুরো এলাকাকে এক রূপকথার দেশে পরিণত করে। আবার বর্ষাকালে যখন যমুনা তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়, তখন চরের বালি ঢাকা পড়ে যায় অথৈ নীল জলরাশিতে। বাঁধের ওপর দাঁড়ালে তখন মনে হবে আপনি কোনো সাগরের বুকে ভাসছেন, যেখানে চারদিকে শুধু পানি আর পানি!

মাঝির তরী ও জলের নূপুর: যমুনার বুকে নাওভাসা সুখ

বাঁধের শেষ প্রান্তে গেলেই কানে আসবে যমুনার জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের হাঁকডাক। সারি সারি বাঁধা থাকে ছোট-বড় কাঠের নৌকা আর স্পিডবোট। মন চাইলে খুব অল্প খরচে যমুনার বুকে নৌভ্রমণে ভেসে যাওয়া যায়। মাঝনদীতে যখন নৌকা হেলেদুলে চলে, তখন শহরের সব ক্লান্তি নিমেষেই উবে যায়। জল ছুঁয়ে যাওয়া সেই হাওয়া যেন ছুঁয়ে যায় মানুষের আত্মাকে।

হার্ট ভিউ পয়েন্ট ও যমুনার সেতু দর্শন

চায়না বাঁধে আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এর খুব কাছেই অবস্থিত ‘হার্ট ভিউ পয়েন্ট’।

এই পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শান্ত মনে তাকালে দূর দিগন্তে দৃশ্যমান বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন বা গাড়ি চলাচলের দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। বিশেষ করে রাতের আঁধারে যখন যমুনা সেতুর ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলো জ্বলে ওঠে, তখন তার প্রতিফলন যমুনার বুকে এক মায়াবী আলো-ছায়ার খেলা তৈরি করে, যা কোনো চিত্রশিল্পীর আঁকা ক্যানভাসের চেয়ে কম নয়।

গোধূলি বেলার উৎসব: জল-হাওয়ার সাথে রসনা মিতালি

বিকেল গড়াতেই চায়না বাঁধের শান্ত রূপ রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মেলায়। বাঁধের দুপাশে ফুটপাত জুড়ে বসে হরেক রকমের মুখরোচক খাবারের পসরা। ভাপওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে যমুনার হাওয়া খাওয়া, কিংবা ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, ভেলপুরি আর ক্রিসপি ফিশ ফ্রাই-এর স্বাদ নেওয়া এখানকার সান্ধ্যকালীন আড্ডার প্রধান অনুষঙ্গ। একদিকে নদীর কলতান, অন্যদিকে মানুষের গুঞ্জন আর খাবারের সুবাস, সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত আবহ তৈরি হয়।

শেষ বিকেলের ডাক

চায়না বাঁধ আজ শুধু সিরাজগঞ্জের নয়, পুরো উত্তরবঙ্গের এক টুকরো অহংকার। যমুনার এই শান্ত স্নিগ্ধ রূপ আর মানুষের তৈরি এই স্থাপত্যের মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ছুটে আসেন ক্লান্তি ভুলতে। এটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতিকে ভালোবেসে যদি সাজানো যায়, তবে ধ্বংসের বুক থেকেও এমন স্বর্গীয় সুন্দর সৃষ্টি করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হন্ডুরাসে চীনা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


হন্ডুরাসে চীনা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি শুরু

মধ্য আমেরিকার রাষ্ট্র হন্ডুরাসে চীনা মালিকানাধীন দোকান এবং বেইজিংয়ের অর্থায়নে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশটির নতুন প্রেসিডেন্টের তাইওয়ানপন্থী অবস্থান এবং পূর্বের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি পুনর্বিবেচনার গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হন্ডুরাসের বর্তমান প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির বরফ গলতে শুরু করার ফলে মধ্য আমেরিকার ভূরাজনীতিতে বেইজিং ও তাইপে-র মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে।

২০২৩ সালে, হন্ডুরাস তাইওয়ানের সঙ্গে দশকের পর দশক ধরে চলতে থাকা ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে নতুন করে কূটনৈতিক মেরুকরণের গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।

হন্ডুরাসের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই বর্তমান পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিশ্বমঞ্চে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%