০৫:০১ পি.এম
গাছ থেকে সংগ্রহ করার পর মাত্র তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা শক্ত সবুজ পেঁপে হয়ে যাচ্ছে টকটকে হলুদ পাকা ফল।
অভিযোগ উঠেছে যে, কৃত্রিম উপায়ে পাকানো পেঁপে ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সরাসরি ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চলে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইলের ১৩ নম্বর চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, চরশ্রীরামপুর ও আনন্দ বাজারসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাগান থেকে কাঁচা পেঁপে পাইকারি দরে কেনা হচ্ছে। পাইকাররা প্রতিকেজি কাঁচা পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকায় কেনেন। পরে সেগুলো একটি নির্দিষ্ট ঘরে বা আড়তে এনে স্তূপ করা হয়। সেখানে শ্রমিকরা একেকটি কাঁচা পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে বড় বড় ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলেন।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
পাইকাররা জানান, নান্দাইল থেকে ট্রাকে করে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে, এবং এই সময়ের মধ্যেই কাঁচা পেঁপে সম্পূর্ণ পেকে টকটকে লাল-হলুদ রং ধারণ করে। তবে অনেকের অভিযোগ, কৃত্রিম উপায়ে পাকানোর পর ১০-১২ টাকা কেজিতে কেনা পেঁপে রাজধানীতে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার চর বেতাগৈর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তার নিজের পেঁপে বাগান রয়েছে এবং তিনি অন্য চাষিদের কাছ থেকেও বাগানচুক্তিতে কিনে নেন। সম্প্রতি ১৫০টি পেঁপে গাছের একটি বাগান ফলসহ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন এই ব্যবসায়ী।
নিজের বাগান থেকে সংগ্রহ করা বা চর থেকে কেনা পেঁপে কারওয়ান বাজারে চড়া দামে বিক্রির কথা স্বীকার করলেও রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন শাহজাহান। তিনি দাবি করেন, কাঁচা পেঁপেতে কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক দেওয়া হয় না। পত্রিকার পাতা দিয়ে মোড়ানোর পর ভেতরের গরমে বা তাপে পেঁপেগুলো এমনিতেই পেঁকে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নান্দাইলের চর শ্রীরামপুরের কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, কাগজ দিয়ে মোড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে পেঁপেগুলোতে এক ধরনের তরল রাসায়নিক স্প্রে মেশিন দিয়ে ছিটানো হয়। এতে ঢাকার বাজারে পৌঁছানোর আগেই কৃত্রিমভাবে পেকে যায় সব পেঁপে। একটি অসাধু চক্র এর সঙ্গে জড়িত বলে তাদের দাবি।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, রাসায়নিকযুক্ত ফল খাওয়ার ফলে মানুষের লিভার, কিডনি বিকল হয় এবং এতে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘সব পেঁপেতেই কার্বাইড বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয় না। গাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা পরিপক্ক পেঁপে এমনিতেই কাগজে মুড়িয়ে রাখলে স্বাভাবিক তাপে পেকে যায়। তবে নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে পাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং কোনো নিষিদ্ধ রাসায়নিক প্রয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তা সড়ক দিবস ২০২৬ পালিত হল জেলা প্রশাসন কার্যালয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন