সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
কক্সবাজারে সমুদ্র ও উপকূলকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে ‘University of Blue Economy Sciences and Technology (UBEST)’ নামে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ বিষয়ে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রেরণ করেন। চিঠিতে কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তাব রাখা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সামুদ্রিক সম্পদকে কাজে লাগাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সমুদ্রবিজ্ঞান, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার, সামুদ্রিক পরিবেশ, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন ও হসপিটালিটি বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো শূন্য থেকে গড়ে তুলতে সময় এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই কক্সবাজারে অবস্থিত বিওআরআইয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো, গবেষণাগার, বৈজ্ঞানিক জনবল ও গবেষণা সুবিধা কাজে লাগিয়ে UBEST-এর প্রাথমিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব অবকাঠামো ও অ্যাকাডেমিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি ও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
কক্সবাজারে প্রস্তাবিত এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক সম্পদ, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ (পূর্ব-পশ্চিম) তেল পাইপলাইনটি ড্রোন হামলার ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই তথ্যটি দুই সউদী কর্মকর্তার মাধ্যমে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেল পাইপলাইনের একটি প্রধান পাম্পিং সুবিধাসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত করতে প্রায় ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে, মেরামতের কাজ চলাকালীন সীমিত পরিসরে অথবা আংশিকভাবে পাইপলাইনটি সচল রাখার চেষ্টা করা হতে পারে।
এই পাইপলাইনটির গুরুত্ব কেন এত বেশি? ১,২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহনে সক্ষম।
এটি একটি কৌশলগত রুট হিসেবে কাজ করে, যেখানে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি আক্রমণের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে সউদী আরব লাল সাগরের মাধ্যমে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে এটি ব্যবহার করে থাকে।
হামলার ধরন সম্পর্কে বলা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন ব্যবহার করে এই পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা জ্বালানি তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ধ্বংস করে প্রশংসার পাত্র হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।
এটি ঘটেছে (আজ) সোমবার সকাল ১০ টায় কমলগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়টি মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশ অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির মিহাদ নামে এক শিক্ষার্থী গোপনে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে, যা শিক্ষক রায়হানের দৃষ্টিতে পড়ে। শিক্ষক রায়হান তাৎক্ষণিকভাবে আইফোন মডেল -৬ টি উদ্ধার করে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে বিদ্যালয় মাঠে ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনায় সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান প্রশংসিত হচ্ছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, 'কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।' উল্লেখযোগ্য যে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সু-শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপাটি ও ছোট চুল রেখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। একই নোটিশে আবারও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি থাকে বা টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, নোটিশ জারির পর অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে আইফোন পাওয়া যায়। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান ওই ফোনটি ভেঙে দেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করায়, ঘটনাটিকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অভিভাবক এবং সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সমর্থকদের মতে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন আগে থেকেই লিখিত নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে, তখন নিয়ম অমান্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একটি ফোন ভেঙে দিয়ে অন্যান্য সকল শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছি। তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন আহমেদ বাহার জানান, আমরা আগে নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলকে সতর্ক করেছি। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই উদ্যোগ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর ভূঁইয়া বলেন, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। এটা আমার জানা নাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোন এবং সংরক্ষিত পর্যটন এলাকার ভেতরে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পিটিশনের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এই নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে, বেলার করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের ওপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।
সেদিন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রুলও জারি করেন। রুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন ওই সড়ক নির্মাণকাজ বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং ইতোমধ্যে নির্মিত অংশগুলো অপসারণ করে সৈকত ও এর জীববৈচিত্র্য কেন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে না।
রিট আবেদনে বেলা উল্লেখ করেছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আরবান গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত এই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা প্রকল্পটির বিরোধিতা করে বলছেন, মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে বালিয়াড়ি। কিন্তু এই প্রকল্পের জন্য বালিয়াড়ি কেটে ফেলা হয়েছে, যা সামুদ্রিক লিলি, লাল কাঁকড়াসহ অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ধ্বংস করেছে।
বেলা আরও দাবি করেছে, এই নির্মাণকাজের মাধ্যমে কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের উন্নয়নের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাও অমান্য করা হয়েছে।
শুনানির সময় বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান, সৈকত এলাকাটি একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চল (ইসিএ)। ফলে সেখানে যেকোনো উন্নয়নকাজ শুরুর আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেবল ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া নির্মাণকাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ