ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কমলনগরের উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন বিনষ্ট করে প্রশংসায় ভাসছেন শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান


কমলনগরের উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন বিনষ্ট করে প্রশংসায় ভাসছেন শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার কারণে একজন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ধ্বংস করে প্রশংসার পাত্র হয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।

এটি ঘটেছে (আজ) সোমবার সকাল ১০ টায় কমলগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, সম্প্রতি বিদ্যালয়টি মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নোটিশ জারি করে। নোটিশ অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির মিহাদ নামে এক শিক্ষার্থী গোপনে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে, যা শিক্ষক রায়হানের দৃষ্টিতে পড়ে। শিক্ষক রায়হান তাৎক্ষণিকভাবে আইফোন মডেল -৬ টি উদ্ধার করে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে বিদ্যালয় মাঠে ভেঙে ফেলেন। এই ঘটনায় সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান প্রশংসিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, 'কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।' উল্লেখযোগ্য যে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সু-শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে সকল শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরিপাটি ও ছোট চুল রেখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। একই নোটিশে আবারও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর টিকটক আইডি থাকে বা টিকটকে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, নোটিশ জারির পর অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে আইফোন পাওয়া যায়। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান ওই ফোনটি ভেঙে দেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করায়, ঘটনাটিকে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় অভিভাবক এবং সচেতন মহল।

বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে

সমর্থকদের মতে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন আগে থেকেই লিখিত নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে, তখন নিয়ম অমান্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান জানিয়েছেন, শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একটি ফোন ভেঙে দিয়ে অন্যান্য সকল শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছি। তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন আহমেদ বাহার জানান, আমরা আগে নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলকে সতর্ক করেছি। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই উদ্যোগ। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর ভূঁইয়া বলেন, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। এটা আমার জানা নাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান
কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে শুরুর দাবিতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটিতে নির্দিষ্ট সময়ে এর নির্মাণকাজ শুরুর সরকারি প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ র‌বিবার, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মনোয়ারা বেগম। এটি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ, মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিক মিতুল দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম একরাম হোসেন, সার্ক মানবাধিকারের বিভাগীয় মহাসচিব জাফর ইকবাল, শিশুসাহিত্যিক কবি তসলিম খাঁ, ফোরামের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তার হোসেন নিজামী, পরিবেশ কর্মী মাসুদ রানা, বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী রোজী চৌধুরী, সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি, নারীনেত্রী আফরোজা সুলতানা পুর্নিমা, তাহেরা শারমিন, সাবরিনা আফরোজা, লায়ন অলি আহমদ পিন্টু, সাংবাদিক ইলিয়াছ রিপন, জসিম উদ্দিন, এ কে আজাদ, সমাজসেবী মাঈনুদ্দিন, বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মিসেস আজমেরী প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, একনেক অনুমোদনের প্রায় দুই বছর পরও কালুরঘাট নতুন সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও মূল নির্মাণকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ১৪ মে ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন ও নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে এক মতবিনিময় সভায়। বিগত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ সালের একটি সংবাদমাধ্যমে, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত ফোকাল পার্সন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো.  গোলাম মোস্তফা বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মে-জুনে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ হয়ে যাবে, একইসঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও মে-জুন থেকে শুরু হবে, ডিটেইল ডিজাইন করতে এক বছর লাগবে, এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং এরপর সেতুর কাজ শুরু হবে। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের পর তুলনামূলকভাবে অনেক স্বল্প সময়ে নির্মাণকাজ শুরু ও সম্পন্ন করার উদাহরণ টেনে এতে বলা হয়, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও যথাযথ তদারকি থাকলে এটা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা, বিলম্বের কারণ প্রকাশ, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা, আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, কালুরঘাট নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল, কক্সবাজার রেল যোগাযোগ ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ বিলম্বে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে, জনদুর্ভোগ ও যানজট বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তদারকি, বিলম্বের কারণ প্রকাশ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে স্মারকলিপিতে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুটি সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের জনগণকে সাথে নিয়ে কালুরঘাট নতুন সেতু বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।  চট্টগ্রামের জনগণের এই দাবি কোনো আঞ্চলিক দাবি নয়, নাগরিক ফোরামের উদ্যোগের কারণে এটি একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতিটি পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করে বিভিন্ন গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, কিন্তু বারবার চট্টগ্রামবাসী তাদের এই স্বপ্ন পূরণে হতাশ হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, অতীতে বিগত সরকারের সময় এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে বারবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। এছাড়া বর্তমান নতুন সরকারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়ে যথাসময়ে কাজ শুরু করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো দৃশ্যমান কাজ শুরু না হওয়ায় আবার স্মারকলিপি প্রদান করতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে বলেন, "কালুরঘাট নতুন সেতুর স্বপ্নটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো অবস্থাতেই নিরব হব না। আমাদের দাবি অরাজনৈতিক এবং সামাজিক, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণভাবে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ব্যানারে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমাদের সচেতন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যতদিন না এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


কক্সবাজারে বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ), নো ডেভেলপমেন্ট জোন এবং সংরক্ষিত পর্যটন এলাকার ভেতরে ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পিটিশনের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এই নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে, বেলার করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণের ওপর আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

সেদিন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রুলও জারি করেন। রুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন ওই সড়ক নির্মাণকাজ বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং ইতোমধ্যে নির্মিত অংশগুলো অপসারণ করে সৈকত ও এর জীববৈচিত্র্য কেন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে না।

রিট আবেদনে বেলা উল্লেখ করেছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আরবান গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সায়মন পর্যন্ত এই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা প্রকল্পটির বিরোধিতা করে বলছেন, মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে বালিয়াড়ি। কিন্তু এই প্রকল্পের জন্য বালিয়াড়ি কেটে ফেলা হয়েছে, যা সামুদ্রিক লিলি, লাল কাঁকড়াসহ অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ধ্বংস করেছে।

বেলা আরও দাবি করেছে, এই নির্মাণকাজের মাধ্যমে কক্সবাজারের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের উন্নয়নের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাও অমান্য করা হয়েছে।

শুনানির সময় বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী আদালতকে জানান, সৈকত এলাকাটি একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চল (ইসিএ)। ফলে সেখানে যেকোনো উন্নয়নকাজ শুরুর আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেবল ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে কাস্টমসের অভিযানে উদ্ধার হলো নকল সিগারেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


গাজীপুরে কাস্টমসের অভিযানে উদ্ধার হলো নকল সিগারেট

গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা নকল সিগারেট, প্রসেসড টোব্যাকো ও অ্যাসিটেট টো উদ্ধার করেছে, যেগুলো স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোলবিহীন ছিল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) থেকে প্রাপ্ত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কালিয়াকৈর এলাকায় অবৈধ ও নকল সিগারেট উৎপাদনের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইআইডি একটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের সময় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১-এর সদস্যরা কাস্টমস গোয়েন্দাকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা প্রদান করে।

অভিযানে লাকি স্ট্রাইক, ডার্বি ও রয়্যালস ব্র্যান্ডের নকল সিগারেটের পাশাপাশি প্রসেসড টোব্যাকো এবং সিগারেট তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল অ্যাসিটেট টো উদ্ধার করা হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, উদ্ধারকৃত সিগারেটের প্যাকেটে কোনো রাজস্ব স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল পাওয়া যায়নি। এই কারণে এসব সিগারেটের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এর আগে, কালিয়াকৈর উপজেলার পাঁচগাছী এলাকায় অবস্থিত শামস টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ব্যান্ডরোলবিহীন/নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ উঠেছিল।

তবে অভিযানে উদ্ধারকৃত নকল সিগারেট, প্রসেসড টোব্যাকো ও অ্যাসিটেট টোর সঙ্গে শামস টোব্যাকোর সম্পৃক্ততা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্যের উৎস, উৎপাদন ও সরবরাহ-শৃঙ্খল, কাঁচামাল সংগ্রহের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ যাচাই শেষে প্রকৃত দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।

তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, যা কার্যকর হবে চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে।

এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পড়াশোনার পুরো সময়কাল জুড়ে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতেন। তবে, নতুন নিয়মের আওতায় এই প্রচলিত সুবিধাটি বাতিল করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়বস্তু অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য দেশটিতে থাকার অনুমতি প্রদান করা হবে। ফর্ম আই-টোয়েন্টি বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ফর্মে উল্লেখিত পড়াশোনার সময়সীমার ভিত্তিতে এই মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে, এই মেয়াদ চার বছরের বেশি হতে পারবে না।

নতুন নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার নিয়মেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে। পূর্বে, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা ছিল। নতুন নিয়মে এই সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।

এই ৩০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে হবে। তবে আগের নিয়মের মতো ক্লাস শুরুর অন্তত ৩০ দিন আগে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ এখনও বহাল রয়েছে।

কিছু শিক্ষার্থীর জন্য এই নতুন সময়সীমায় বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যেমন, ইংরেজি ভাষা শিখতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস এবং পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটিসহ সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় পাবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কোনো শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে হবে। এর জন্য নির্দিষ্ট ফরম পূরণ, ফি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এছাড়া, যাদের ভিসার মেয়াদ আছে, তারা চাইলে দেশ ঘুরে আসার মাধ্যমে নতুন মেয়াদের অনুমতি নিতে পারেন।

সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের এখন থেকে পড়াশোনার সময়সীমা এবং কাগজপত্রের বিষয়ে অধিক সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%