রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৯ পি.এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা করে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ওই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের করণীয় বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, “যারা সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য নিষিদ্ধ এবং যাদের অতীত ইতিহাস খুন, গুম, লুণ্ঠন ও মানুষের কণ্ঠরোধের ইতিহাস—তারা যদি গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে মানিকগঞ্জের মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতা বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন সৎ রাজনৈতিক নেতা। সারা বিশ্বে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং জাতিসংঘে বক্তব্য রেখেছেন। এ কারণে তাদের হিংসা হচ্ছে।” তিনি বিভিন্ন স্থানে পটকা ও ককটেল বিস্ফোরণ এবং ব্যানার টাঙানোর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ করেন।
বঙ্গোপসাগরের গ্যাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বঙ্গোপসাগরের নিচে চারদিকে ভারত গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গ্যাসও নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছে।” এ বিষয়ে তিনি আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেতৃত্ব নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সারের মজুত প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে পরিমাণ সার রেখে যাওয়া হয়েছিল, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি সার মজুত রয়েছে। তার দাবি, প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং কোথাও সারের সংকট নেই।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবীর জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরতাজ আলম বাহার, গোলাম আবেদীন কায়সার, কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিন্নাহ খান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল রহমান খান প্রমুখ।
সভা শেষে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, অধ্যাপক সায়েমকে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে পুনর্বহাল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় চুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। এর আগে ‘৫৬তেই কেন’ প্রশ্ন করে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এদিন তারা টানা ষষ্ঠ দিনের মতো শাটডাউনও পালন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া ও রাতুল হাসান। তারা মন্তব্য করেন, ‘অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন অফিস, রিসার্চ হাব, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। এসব উদ্যোগ যথেষ্ট সময় পেলে চুয়েটের শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ ছিল।’
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন এবং অধ্যাপক সায়েমের নেয়া শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
তারা উল্লেখ করেন, ‘তাদের আন্দোলন কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। তাদের দাবি একটাই এবং অপরিবর্তিত—অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা।’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, দিনের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান করে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গত বৃহস্পতিবার জরুরি সভায় নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে শুক্র ও শনিবারে বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে কর্মবিরতিতে একাত্মতা প্রকাশ করে চুয়েটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সমিতির সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস রাজশাহী বিভাগ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
গ্রীন ভয়েসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী বিভাগের সহ-সমন্বয়ক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন গ্রীন ভয়েস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কনক আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, একসময় রাজশাহীর ওপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হলেও দখল, দূষণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক নদী অস্তিত্ব হারিয়েছে। নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গ্রীন ভয়েসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আহসান হাবিব নদী দখল ও দূষণ বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন। তিনি বলেন, নদী রক্ষায় তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা জলচুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে নবায়নের দাবি জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহিম পদ্মাসহ দেশের নদ-নদী রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহিন আলম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আরিফ ইসলাম, রাজশাহী কলেজ শাখার সভাপতি রাবেয়া, সাধারণ সম্পাদক আশিক ও সাবেক সভাপতি নাহিদ।
মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ ও গ্রীন ভয়েসের রাজশাহী জেলা শাখার সদস্যদের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা নদী দখল-দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।#
--
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বিরুদ্ধে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দিতে অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট কাজ পেতে বিলম্ব ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সরকারি ফি বা বৈধ খরচের বাইরে রেকর্ড কিপার জুয়েল খান অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি না হলে কাজ বিলম্বিত বা জটিল করে দেওয়ার আশঙ্কা দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির নকশা, পর্চা, দাগের সূচি, কেসের নকল এবং পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদনসহ বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে রেকর্ড কিপারের দায়িত্ব রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব সেবা নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নকশার সরকারি নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা হলেও এর বিপরীতে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একইভাবে একটি পর্চার জন্য ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দাগের সূচির জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং কেসের নকলের জন্য ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পর্চায় ভুল সংশোধনসংক্রান্ত ৫৩৪/৩৩ ধারায় আবেদন গ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিকদের সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আলোচনা করা হয় বলেও তাদের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডেসপাচ রাইডার পদে কর্মরত নাঈমের মাধ্যমে এসব অর্থ লেনদেন করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নাঈমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি। টাকা দিতে না চাইলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং কাজ পেতে ভোগান্তি বাড়ে।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
### অভিযোগ অস্বীকার রেকর্ড কিপার জুয়েলের
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার জুয়েল খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, *“আমার নামে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”*
### কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট জোনের যুগ্মসচিব মৃধা মো. মোজাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথি, সরকারি ফি’র নির্ধারিত তালিকা, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি সম্পত্তি, কিন্তু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। জলাশয় এবং পানি রয়েছে; তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ১৩টি পুকুর বছরের পর বছর ধরে দখলে রয়েছে। সদর, শৈলকুপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই পুকুরগুলোর মোট আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব জলাশয় থেকে প্রতি বছর ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আহরণ সম্ভব। কিন্তু দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা না দিলে সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগানো হচ্ছে না। ফলে সরকারি সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে না এবং সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজস্বের পাশাপাশি, এসব জলাশয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও জড়িত। পুকুরগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া গেলে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষের মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মাছচাষি, জেলে, শ্রমিক, মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবহনকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চারটি, শৈলকুপায় পাঁচটি এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় চারটি পুকুর রয়েছে। হরিণাকুণ্ডুর চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৫ দশমিক ৪৩ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৫৪ হাজার টাকা। শৈলকুপায় পাঁচটি পুকুরের মোট আয়তন ৬ দশমিক ৬০ একর, সম্ভাব্য রাজস্ব ৬৬ হাজার টাকা। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চারটি পুকুরের মোট আয়তন ৩ দশমিক ২৫ একর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ৩২ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১৩টি পুকুরের আয়তন ১৫ দশমিক ২৮ একর এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখলে থাকলে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দখল আরো পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "সরকারি পুকুর দখলে পড়ে থাকলে সরকারের রাজস্বও আসে না, এলাকার মানুষও কোনো সুবিধা পায় না। এগুলো দখলমুক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া হলে সরকার যেমন আয় করবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও মাছ চাষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।"
আরেক বাসিন্দা রহিম মন্ডল বলেন, "পুকুরগুলো যদি সরকারি সম্পত্তি হয়, তাহলে এগুলো ফেলে না রেখে সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা দরকার। পরে ইজারা দিলে সরকারও রাজস্ব পাবে এবং এলাকার অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।"
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "পুকুর উদ্ধার করে যদি মাছ চাষ করা যায়, তাহলে একই সঙ্গে সরকার রাজস্ব পাবে এবং অনেক মানুষের কাজের সুযোগ হবে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
এদিকে, জলাশয় দখলমুক্ত করার কাজ চলছে জানিয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, "সরকারি জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন যেসব জলাশয় দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি যাতে অবৈধভাবে কেউ ভোগদখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রঞ্জন কুমার দাস আরো বলেন, "দখলমুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি অনুসরণ করে এসব জলাশয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জলাশয়গুলো মাছ চাষের কাজে ব্যবহার করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ