হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৭:১৪ পি.এম
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে, কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে এক নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীর নাম রাফি (১৫), যিনি স্থানীয় হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের উপজেলা কোয়ার্টারের সামনে এ মারাত্মক ঘটনা ঘটে।
রাফির বাড়ি নান্দাইল উপজেলার পাশে। আহত শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তার বাড়ি দূরে হওয়া কারণে, একদল কিশোর গ্যাং সদস্য প্রায়ই তার কাছে টাকা দাবি করত। রোববার, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় তারা তার কাছে ২০ টাকা চায়। টাকা দিতে অস্বীকার করায়, তাদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট ও হাতে আঘাত করে। ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন রাফিকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তানভীর হাসান জিকো বলেছেন, আহত শিক্ষার্থীর পেটে গভীর ক্ষত ছিল। হাসপাতালে আনার পর তার পেটে একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃক। রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে বিজিবি জানিয়েছে যে, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেছেন, রোববার ভোর সাড়ে ৪টার সময় তলুইগাছা বিওপির একটি টহলদল সীমান্তে তাদের দায়িত্ব পালনের সময় মেইন পিলার-১৩ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনক কথাবার্তার শব্দ শুনতে পায়।
পরে, টহলদল শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে চারাবাড়ি এলাকায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে দেখতে পায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগের চেষ্টা করে।
বিজিবি জানায়, টহলদল তাদের থামতে, পরিচয় দিতে এবং আত্মসমর্পণ করতে একাধিকবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা তা অমান্য করে ভারতের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে, নিরাপত্তার স্বার্থে বিজিবি গুলি ছোড়ে। এতে চোরাকারবারিদের বড় ধরনের চোরাচালানের পরিকল্পনা সফলভাবে ভেস্তে যায় বলে দাবি করা হয়েছে বিজিবি থেকে।
গুলির পর চোরাকারবারিরা সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের মধ্যে রাতের অন্ধকারে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
পরে, বিজিবি ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও কাউকে আটক করতে পারিনি।
বিজিবি আরও জানায়, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং তলুইগাছাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান পানি তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, উঠান এবং একটি ধর্মশালা। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকাতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চলাচল ও টয়লেট ব্যবহার—সবকিছুতেই চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠান ও ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেকেই ইট, বাঁশ ও কাঠের তক্তা বিছিয়ে ঘরের ভেতরে চলাচল করছেন। কোথাও রান্নাঘরের চুলাও পানির নিচে চলে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো।
জলাবদ্ধতার কবল থেকে রেহাই পায়নি এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। স্থানীয় মন্দির ও ধর্মশালায় পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় চারপাশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন, খাল কিংবা কালভার্ট রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে কাটাতে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী রায়হান পাল বলেন, “প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের একই কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। এবার ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। বিছানাপত্র, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।”
আরেক ভুক্তভোগী মর্জিনা বেগম বলেন, “বাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও টয়লেট সব পানির নিচে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না, বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। চারদিকে পানি জমে থাকায় সাপের ভয়ও রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করুক।”
স্থানীয়দের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কালভার্ট নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. ইবনে মিজান বলেন, “জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। পানি নিষ্কাশনে কোথায় সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম নগরের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া চান্দগাঁও সিএন্ডবি, মোহরা, এবং দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার পানিবন্দি দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময়, দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি, এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানকে নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ्री বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে, প্রতিমন্ত্রী দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি জলাবদ্ধতা এবং বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, এবং খাদ্যসহ জরুরি সেবার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এ সময়, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মানবিক নীতির আলোকে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, এবং জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না।
প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, এবং অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কর্পোরেশনের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময়, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, 'পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন, তাদের বোঝাতে হবে। তাদেরকে বুঝিয়ে বিকল্প একটি জায়গায় আবাস করে দিতে পারলে সেটিই হবে স্থায়ী সমাধান। যারা বাস্তুহারা, তাদেরকে বিকল্প জমিতে ঘর তৈরি করে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী এবং এটা তিনি করবেন, এই বিষয়ে মহান সংসদে আলোচনা হয়েছে।'
রোববার (১২ জুলাই) বিকালে রাঙ্গামাটির ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাই স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেছেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, 'সকলকে ধৈর্য ধরে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মী সকলেই মিলে প্রশাসনের সাথে একযোগে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে তবেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস কমে আসবে।'
তিনি বলেন, 'দুর্যোগ মোকাবিলায় কোথাও উদ্যোগের ঘাটতি আছে কিনা সেটা আপনারা আমাদের বলবেন। দুর্গম এলাকায় আমাদেরকে সশস্ত্র বাহিনী সহযোগিতা করছে, ইউএনওরা স্ব স্ব এলাকায় কাজ করছে, যেটা জেলা প্রশাসক মনিটরিং করছে, এসব আমরা রিপোর্ট নিচ্ছি। সকলের সহযোগিতায় আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে চাই।'
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'দুর্যোগ শেষে সকলেই বাসায় ফিরবে, কিন্তু বাসাবাড়ি আগের মতো থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িগুলো মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো। এটা জনগণের কাছে আমাদের ওয়াদা। শুধু ঘরবাড়ি নয়; ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামতের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে। এছাড়া যারা ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আছে, তাদের ঘরবাড়িতে যাতে দুষ্কৃতিকারী কোনও ক্ষতি করতে না পারে সেই বিষয়েও আমরা সতর্ক আছি।'
এ সময় রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ