০৬:৫৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে, দেশ গঠনের কাজেও সবার একসঙ্গে থাকতে হবে। রবিবার বিকালে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের আগে আলেম-ওলামাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় এসে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমি হুজুরকে কথা দিয়েছিলাম যে আমি আসবো। আল্লাহর রহমতে আমরা সরকার গঠন করেছি। আজকে আল্লাহ আমাকে সেই রহমত দিয়েছেন যে আমি এসে আমার প্রিয় হুজুরের কাছে যেতে পেরেছি।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
তিনি বলেন, গত নির্বাচনের সময় আলেম-ওলামাদের সহযোগিতায় দেশকে একটি বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশের সমস্যাগুলি এখনও শেষ হয়নি।
বিগত সরকারের সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে দেশের মানুষকে বিভিন্ন সমস্যার খেসারত দিতে হচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করার কারণে বর্তমানে দেশের মানুষকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গ্যাসের যে সমস্যা চলছে তা আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে অনেকটা কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ ও সন্তানরা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং শান্তিতে বসবাস করবে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
তিনি বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে।
সম্প্রতি বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, নির্বাচনের পরেও দেশ গঠনের কাজে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। দেশের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আলেম-ওলামাদের সরকারের সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা সরাসরি সরকারের অংশ নয়, কিন্তু সরকারের সহযোগী হিসেবে আছেন। দেশের মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা ও দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়।
এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা সফরের অংশ হিসেবে রবিবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছেন। হেলিকপ্টারটি ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণের পর সেখানে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তারা। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন