বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:২২ পি.এম
কুড়িগ্রামের গ্রামীণ ফুটবল মাঠে খেলাধুলার আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জনতার হাট এলাকায় শেখ খাদিজা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিপুল জাঁকজমকপূর্ণ আবহে স্থানীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ফাইনাল লড়াইয়ে ইউনাইটেড একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ‘তরুণ সবুজ সংঘ’। বিকেলবেলা মাঠজুড়ে ছিল ফুটবলপ্রেমী হাজারো দর্শকের ভিড়। করতালি ও উন্মুখ করতালির মধ্য দিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধেই তরুণ সবুজ সংঘ দারুণ এক আক্রমণে নির্ণায়ক গোলটি আদায় করে নেয়। এরপর ম্যাচের বাকিটা সময় ইউনাইটেড একাদশ সমতা ফেরানোর জোর চেষ্টা চালালেও তারা সফল হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তরুণ সবুজ সংঘ। খেলা শেষে বিজয়ী এবং বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ট্রফি এবং মেডেল তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেছেন, “গ্রামীণ ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো আমাদের তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।” তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর গ্রামগঞ্জে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ফুটবলের হাওয়া বইতে দেখে তারা আনন্দিত। এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভাবান ফুটবলাররা উঠে আসবে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রসারে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহিদুর রহমান, সোনালী অতীত ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, এবং বিশিষ্ট ফুটবলপ্রেমী ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রুকুনুজ্জামান রুকুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। খেলা দেখতে আসা স্থানীয় দর্শক ও ক্রীড়ামোদিরা জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে এবং এলাকায় একটি সুস্থ ধারার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে উঠবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্য ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে। তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, তেল, গ্যাস বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণ করে কমিয়ে আনা, জনভোগান্তির নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খুনিদের বিচার নিশ্চিত, সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলমান।
জনদুর্ভোগ লাঘব, তেল, গ্যাসসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ১১ দফা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমরা আজ এখানে এসেছি। এ ১১ দফা কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়। ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা অধিকারের পক্ষে লড়াই করতে নেমেছি। আমরা জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়ব। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, যারা বিরোধীমতের প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য গুলি চালিয়েছে, খুন করেছে, গুম করেছে, জুলুম-নির্যাতন করেছে, ঘরছাড়া করেছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, জীবিত থাকতে আমরা তাদের আর এদেশে আস্ফালন করার সুযোগ দেব না।
পরে তিনি ১১ দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ইতোমধ্যে ১১ দল অনেকগুলো কর্মসূচি পালন করেছে। নতুন ঘোষিত লংমার্চ জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। অতীতের মতো যেন বাধা দেওয়া না হয়। বাধা দিলে, লংমার্চ দ্বিগুণ গতিতে গন্তব্যে পৌঁছবে।
নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ; ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ; ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা লংমার্চ; ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট লংমার্চ (রেলপথে) এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াত আমির সচিবালয়ের দিকে রওনা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচিবালয়ে যারা বসে আছেন—মন্ত্রী, এমপি, সচিব তাদের জনগণের কথা শুনতে হবে, মানতে হবে। সচিবালয় কোনো দলের নয়। সংসদে যেন আর মিথ্যা বিবৃতি না দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, চুলায় গ্যাস চাই, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চাই, বিশুদ্ধ খাবার পানি চাই, গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস চাই। এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন। আর গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করবেন না। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংকট তৈরির পরবর্তী পদক্ষেপ হলো দাম বাড়ানো। আমরা তা হতে দেবো না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতর ঘেরাও করতে বাধ্য হবো।
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে বসে আমরা সমাবেশ করছি। এটি সরকারের জন্য একটি বার্তা। সরকার ৫ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস দিতে পারছে না, বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল বিরোধীদলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির উপর হামলা চালাচ্ছে। ছাত্রলীগের মতো তারা হামলা করছে। ক্যাম্পাসগুলো কোনো অবস্থাতেই তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
নাহিদ আরো বলেন, সরকার নাগরিকদের অত্যাচার করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকার প্রতি পদে পদে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাচ্ছে। সরকার যদি গ্যাস বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ না করে, তাহলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আর কোনো সুযোগ দেবে না। সরকার গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়িয়েছে। আবার বাড়ানোর পাঁয়তারা করলে গদিতে বসে থাকতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সরকার যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে এই সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। তিন মাসে ৩১ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। সরকার চালাতে শিক্ষিত, জ্ঞানী, দক্ষ লোকের প্রয়োজন। ব্যাংক খেলাপি দুর্নীতিবাজদের দেশ চালানো যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য আমাদের যা যা প্রয়োজন, তা করব।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর চোখে পানি এসেছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে দাবি করছি—ছাত্রদলকে সংযত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দেশে যদি তেল, গ্যাস, জ্বালানির সংকট থাকে, গ্যাস না থাকে এবং দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব কী? যদি জনগণের দুঃখ না বুঝে সরকার, তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। আমরা জনগণের সাথে আছি। অবিলম্বে জ্বালানি ও তেলের দাম কমাতে হবে। নইলে গদি ছেড়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ চাই, আমরা বিশুদ্ধ পানি চাই। বিদ্যুৎ গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আপনারা ব্যর্থ হয়ে গেছেন, দেশ চালাতে পারবেন না। বিএনপি জুলাইয়ে বিশ্বাস করে না, সংস্কার চায় না। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এদেশের মানুষ বিপ্লব করেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। সরকার বেসামাল হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী জানেন না, তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হামলা, মামলা, দলীয়করণ ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে হবে। নতুবা ক্ষমতায় থাকা যাবে না।
এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, একসময় আমরা গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম, যা আজ শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে। আমাদের গ্যাস ব্লকগুলো থেকে ভারত ও মিয়ানমার পাইপের মাধ্যমে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে ফেলা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির কথা বলা হচ্ছে। দেশকে নিরাপত্তা ও জ্বালানি ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুফতি মুখলেসুর রহমান কাসেমী বলেন, সরকার এখন জনগণকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা ক্ষমতা করেছেন। অতীতের সরকার এমন কথার কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের কী অবস্থা সেটা দোকানিকে নিজে জিজ্ঞেস করবেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতিতে, বিদ্যুৎ ও তেল-গ্যাসের অভাবে দেশের মানুষ আজ দিশেহারা। তাই আপনার আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই। শুধু খাম্বা আছে কারেন্ট নাই। চুলা আছে গ্যাস নেই। যানবাহনের লাইন আছে জ্বালানি নাই। এত নাই নাই নাই এর দেশে বিএনপি সরকারেরও আর প্রয়োজন নাই। এমতাবস্থায় তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশটা দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। শুধু তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। মাগার বিরোধী দলের নেতাদের বাকস্বাধীনতা পর্যন্ত তারা দিতে চান না। দেশের জনগণ প্রয়োজনে দেশের স্বাধীনতার জন্য আরেকবার একাকার হয়ে আরেকটা বিপ্লব ঘটাবে ইনশাল্লাহ।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, আমরা আজকে এমন একটি রাজনৈতিক প্রতারক দলের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে এসেছি, যারা মুখে এক কথা বলেন; বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করেন। তারা নাগরিকদের আশা দিয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা দেশের মানুষকে বোকা মনে করেন। ঐক্যের কথা বলে ঐক্যের বিরুদ্ধে কাজ করেন। এটা জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। জুলাই স্মৃতি যাদুঘর আপনাদের দলীয় সম্পদ নয়। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে জাতির মুখে কালিমা লোপন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য্য সহকারে দাবি আদায়ে কর্মসূচি পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ১১ দফা জনগণের দফা। সরকার না মানলে এক দফা কর্মসূচি আসবে, সরকারের পতন ঘন্টা বাজবে।
ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আ ন ম বজলুর রহমান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আছিয়া খাতুন, ভুক্তভোগী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক জুয়েল শুক্কুর, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি জনাব কামাল হোসেন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাও. আনোয়ার হোসাইন রাজী, সিএনজি চালক মিজানুর রহমান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, শ্রমিককল্যাণ কনস্ট্রাকশনের সংগ্রামী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী আকন, জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সহ ১১ দলীয় শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে সচিবালয় অভিমুখে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌনে ১টার দিকে জিরো পয়েন্ট পার হয়ে সচিবালয়ের গেটের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা সেখানেই সড়কে অবস্থান নে। এতে ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলোর বিষয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের আসার অনুরোধ করেন। এজন্য কয়েক দফা সময় দেন তিনি।
তিনি বলেছেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি। সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধিকে এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।
এ সময় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপিও বক্তব্য দেন। তবে প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেও মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি না আসায় বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মিছিল নিয়ে মুক্তাঙ্গনের কাছে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন জামায়াত আমির।
এসময় তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম, তারা (মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি) এসে জনগণের কথা শুনবেন। কিন্তু তারা সেই সাহস করেন নেই। কারণ তারা জনগণের ওপর অত্যাচার করেছেন। তারা মানুষকে ভয় পায় বলেই আসেন নাই। আমরা তাদের সম্মান দেখানোর নিশ্চয়তা দিয়েছিলাম, তাও তারা আসেন নাই। আগামী আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে এই অবস্থানের সমাপ্তি ঘোষণা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে যাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গেই। দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে এবং বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
দলবদল বিশেষজ্ঞ ফাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির বিষয়ে মৌখিক সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের মধ্যে। নতুন চুক্তির আওতায় পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস ও নির্ধারিত বেতন মিলিয়ে বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো আয় করতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এর আগে সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর আগ্রহ এবং ভিনিসিয়ুসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে চান তিনি।
বর্তমানে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তারকাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে নতুন চুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বাকি থাকা কয়েকটি ছোটখাটো বিষয় চূড়ান্ত হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি নবায়নের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। পরে হাতিটিকে হত্যার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে, ভারতের আদালত শর্ত সাপেক্ষে ওই হাতিটিকে জামিন দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আপাতত হাতিটিকে শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে, চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হাতিটিকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। হাতিটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনো জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতিটির গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবেন।
বিষয়টি নিয়ে মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতি নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে যে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে হাতিটিকে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এরপর, হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং হাতিটি পূর্বের তুলনায় অধিক খিটখিটির হয়ে ওঠে।
গত মাসের ২৫ তারিখে, হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বের হয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ, হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ় বিজয়। আশপাশের লোকজন তাঁকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবার তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবর এখন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দৃশ্যত নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
এটি গতকাল বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া তার এক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘দেশের গ্রেট প্লেয়ার হিসেবে তার প্রতি সিমপ্যাথি ছিল। আসলে সে খুনির প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট। বিলম্বিত বোধোদয়ের জন্য আমি লজ্জিত, দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী।’
হলেও, এই পোস্টে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি এই মন্তব্যটি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের প্রেক্ষিতে করেছেন।

গত মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যে সাকিব আল হাসানের জন্মদিনে আসিফ আকবর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুজনকে একসঙ্গে কেক কাটতে দেখা যায় এবং একে অপরকে কেক খাইয়ে দিতে দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানে সাকিবকে ‘নবাব’ বলে সম্বোধন করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া, গত ৪ মার্চ গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আসিফ আকবর জানিয়েছিলেন যে, সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতা নিরসনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, বিসিবির লিগ্যাল টিমও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তখন তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ