১২:২৪ পি.এম
বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর মাঠকে ঘিরে চলমান বাণিজ্য মেলা এখন আর শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজনের বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ রক্ষা, সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন, আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান এবং জনস্বার্থের প্রশ্নে বহুল আলোচিত একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা, অন্যদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ-সব মিলিয়ে পরেশ সাগর মাঠ এখন বরিশালের অন্যতম আলোচিত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
পরেশ সাগর মাঠ, যা বরিশাল জেলা স্কুলের অধীনে রয়েছে-এ বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার পক্ষ থেকে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ১৮ মে ২০২৬ শুনানি শেষে হাইকোর্ট মেলা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন এবং বিএনপি নেতা ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবাদুল হক চাঁন হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ২৭ মে মেলার উদ্বোধন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা মেলা চালু রাখা হচ্ছে এবং সেখানে জুয়া, অশালীন নৃত্য, যাত্রাপালা ও বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়। আপিলকারী বিএনপি নেতা ও চেম্বার সভাপতি এবাদুর রহমান হক চাঁনের আপিল এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী সোমবার এ বিষয়ে চেম্বার আদালতে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
এদিকে চেম্বার সভাপতি এবাদুল হক চাঁন প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে বিজ্ঞ আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং দেড় মাস মেলা পরিচালনার অনুমতি প্রদান করেছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি এবং তারা আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, চেম্বার সভাপতির পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে প্রকাশ্যে মেলা পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি মেলার আড়ালে প্রকাশ্যে জুয়া পরিচালনার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মানবাধিকার পক্ষের দাবি, চেম্বার আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি এবং হাইকোর্টের পূর্বের আদেশ কার্যকর রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিজয়ের ঘোষণা দেওয়া বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে জুয়া পরিচালনা এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ দখল করে মেলা চালিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আইন ও আদালতের ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে পারে না। একটি স্কুল মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার কথা; সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষার পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যথায় আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মেলা পরিপত্র-২০২৪ কী বলছে?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৪ জুন ২০২৪ তারিখে ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’ জারি করে, যা ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া অন্যান্য বাণিজ্য মেলার ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।
১৪ জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দৈনিক প্রথম আলো উল্লেখ করে, নতুন পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এক মাঠে পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংকট: ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশালের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত মাঠে বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি চলছিল। মাঠজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক আয়োজন চললে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাইকোর্টে রিট, আদালতের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি জনস্বার্থে আদালতে গড়ায়। রিট আবেদনে দাবি করা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’-এর পরিপন্থী। মে ২০২৬-এ হাইকোর্টে শুনানিকালে রিটকারীর পক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনা হয় যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরবর্তীতে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেন এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মেলা কার্যক্রম বন্ধ রাখার অন্তর্র্বতী নির্দেশ দেন বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্নের মুখে অনুমোদন প্রক্রিয়া: মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন-যদি সরকারি পরিপত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে এ ধরনের আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হলো?
তাদের মতে, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক নয়; বরং জনস্বার্থ, শিশু অধিকার এবং শিক্ষা পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন:
৯ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ, মাঠ রক্ষায় মানবাধিকারকর্মীদের দাবি এবং মেলা আয়োজকদের আইনি তৎপরতা-সব মিলিয়ে বরিশাল বাণিজ্য মেলা নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার পরিপত্র অনুযায়ী, দেশের সব শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনার পরও মেলার কিছু কার্যক্রম সন্ধ্যার পর পর্যন্ত চলতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের নির্দেশনা ও চলমান আইনি প্রক্রিয়া: রিট পিটিশন নং-৬২৫৯/২০২৬-এর শুনানি শেষে গত ১৮ মে ২০২৬ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের বাণিজ্য মেলা আয়োজন না করার নির্দেশ দেন।
আদালত ‘মেলা পরিপত্র-২০২৪’-এর ধারা ৫(চ) উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এ ধরনের আয়োজনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনার পর বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং বিএনপি নেতা এবাদুল হক চান হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন। ফলে মাঠটির পরিচয়, ব্যবহার ও আইনগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তবে বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় মাঠটির মালিকানা, পরিচয় ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
মানবাধিকারকর্মীদের বক্তব্য:
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রনি সিকদার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সত্য কখনো চাপা থাকে না। এতদিন যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল, আদালতের চলমান আইনি প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমরা আশা করি, আদালত বিষয়টি আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বিবেচনা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।”
চেম্বার নেতৃত্ব নিয়ে পুরোনো বিতর্ক:
পরেশ সাগর মাঠের মেলা বিতর্কের মধ্যেই আবার আলোচনায় এসেছে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃত্ব। ৬ মে ২০২৫ তারিখে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরিশাল চেম্বারের কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ সদস্যদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন সভাপতি এবাদুল হক চাঁনের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় বলে মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল।
একই দিনে যুগান্তর ও আজকের পত্রিকাও প্রশাসক নিয়োগ এবং চেম্বার পরিচালনা নিয়ে সদস্যদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে কমিটি গঠনের অভিযোগের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, সংগঠনটির কার্যক্রমে অস্থিরতা, অসন্তোষ ও সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
জনমনে এখন যে প্রশ্ন: পরেশ সাগর মাঠকে ঘিরে বিতর্ক এখন বৃহত্তর এক প্রশ্নে রূপ নিয়েছে-রাষ্ট্রের নীতিমালা, আদালতের নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবে কতটা সুরক্ষিত?
বরিশালের সাধারণ মানুষের সামনে এখন কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন- শিক্ষার্থীদের মাঠ কি শিক্ষার্থীদের কাছেই ফিরবে?
মেলা পরিপত্র-২০২৪ কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে?
জনস্বার্থ ও বাণিজ্যিক স্বার্থের সংঘাতে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে?
শিক্ষা পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?
সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিষয়টির স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। কারণ একটি মাঠ হারানো মানে শুধু একটি খোলা জায়গা হারানো নয়; বরং একটি প্রজন্মের খেলাধুলা, বিকাশ এবং মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার সংকুচিত হয়ে যাওয়া।
বর্তমানে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বরিশালের নাগরিক সমাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন