মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ পি.এম
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর পাটনীরপাড় পাতলীপাড়া এলাকা থেকে রুমি আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী এনামুল হক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী কুলসুম রুপাকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই এলাকা থেকে রুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের সঙ্গে রুমি আক্তারের প্রথম বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। পরে এনামুল ঢাকায় কাজ করার সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার কুলসুম রুপাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই প্রথম স্ত্রী রুমি আক্তারের সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ নছিমউদ্দিন জানান, স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও এনামুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে এনামুল প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর রুমি আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর, ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য রওনা দিয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডটি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে।
তবে, আগুনের উৎপত্তির কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো খবর নেই।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার গণমাধ্যমকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটের সময় বনানীর ২৬ তলা ওই ভবনে আগুনের খবর পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য রওনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গত দুই দিনে ৪,৬৫৬টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই মামলাগুলি দায়ের করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৩৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৬৯০টি মামলা দায়ের হয়েছে, এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৬০৪টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২২৮টি মামলা এবং ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১,০১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১,১৬৩টি মামলা হয়েছে, এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৫৭৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ১,০৮৬টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৫৯৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। শাহআলী থানার প্রসিকিউশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকার থেকে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া জমিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে আটকে রাখে এবং এরপর বিভিন্ন স্থাপনা ও কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলা ও লুটপাটে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আটকের আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা শাহআলী থানার বাসিন্দা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
উল্লেক্য, পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ড যাচাই করে গ্রেপ্তার মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ