শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৪ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। শাহআলী থানার প্রসিকিউশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরো প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকার থেকে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া জমিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে আটকে রাখে এবং এরপর বিভিন্ন স্থাপনা ও কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলা ও লুটপাটে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আটকের আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা শাহআলী থানার বাসিন্দা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
উল্লেক্য, পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ড যাচাই করে গ্রেপ্তার মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের একটি মাদক মামলা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইরানের সাধারণ জনগণ ভীষণভাবে ভুগছে। দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৭৭.২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৪২ সালের পর, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরানের সাম্প্রতিক তথ্য এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে।
খাদ্যদ্রব্যের বাজারে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মুদ্রাস্ফীতি ১১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে রাজধানী তেহরানসহ সারাদেশের বাজারে পণ্যের দাম প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে। তেহরানের বাস্তান বাজারের এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "এক বছর আগে এক কেজি চালের দাম ছিল ১৮ লাখ রিয়াল, যা এখন ৫০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম ৭ লাখ রিয়াল থেকে বেড়ে ৩০ লাখ রিয়াল হয়েছে।"
সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটছে: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর খাবার টেবিল থেকে লাল মাংস একপ্রকার অদৃশ্য হয়ে গেছে। মুরগির মাংসের ব্যবহার কমে গেছে এবং অনেক পরিবার এখন একটি করে ডিম গুনে কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থায়ী আয়ের ওপর আঘাত আসছে: নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রবীণ নাগরিকদের ভাষ্যমতে, প্রাপ্ত ভাতা দিয়ে সংসারের খরচের এক-তৃতীয়াংশও মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের মন্দা: বেচাকেনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কেনাবেচা না থাকলেও দোকান খোলা রেখে দেউলিয়া হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছেন অনেকে।
অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণসমূহ
ইরানের চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড মাইনসের প্রধান আরমান খালেঘি এই সংকটকে একটি "পাঁচমুখী অর্থনৈতিক দুর্যোগ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
ভর্তুকি প্রত্যাহার: সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যে দেওয়া পছন্দের মুদ্রা সাবসিডি বা ভর্তুকি তুলে নেওয়া।
ভৌগোলিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: বছরের শুরুর দিকের আন্দোলন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া।
সামরিক সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও চরম অনিশ্চয়তা।
নৌ-অবরোধ: সমুদ্রপথে অবরোধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি বিলম্বিত হওয়া ও খরচ বৃদ্ধি পাওয়া।
মজুদদারি প্রবণতা: যুদ্ধ আতঙ্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মজুদদারির ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া।
বছরের শুরুতে শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও, রকেট গতিতে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কার্যত শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় কর্মদক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীদের জন্য তিনটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ এর স্কীলনেস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
আজ শনিবার দুপুরে নওগাঁর রুমিয়া প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে SICIP -এর নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য উৎপাদন, বেকারি ও পেস্ট্রি এবং বিউটিফিকেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলছেন, কর্মমুখী এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, SICIP-এর যুগ্মসচিব ও উপ নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক মাইনুল হাসান, যুগ্মসচিব ও সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক নূরউদ্দিন আল ফারুক, যুগ্মসচিব ও সহকারী নির্বাহী প্রোগ্রাম পরিচালক ভূঁঞা মোহাম্মদ রেজাউর রহমান ছিদ্দিকী, SICIP-PKSF-এর কোঅর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) গোলাম রাব্বি।
এছাড়া, রুমিয়া প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনতারা ফাহমিদা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, নাটোর জেলা কমিটির সভাপতি শ্রী রঘুনাথ এক্কা এবং মহাদেবপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী যোগেশ ওরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন, বেকারি ও পেস্ট্রি এবং বিউটিফিকেশন খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকায় এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান শহরে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে এবং ৩০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী সংস্থা 'রেসকিউ ১১২২'-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডেরা ইসমাইল খান শহরের জনবহুল এলাকায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণস্থল থেকে ঘন ধূসর ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশের দিকে উঠছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় চারপাশের ইটের গাঁথুনি এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ দুমড়ে-মুচড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের পর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি কর্ডন করে রেখে তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিছুদিন আগে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতায়োজক আইয়ুব বাচ্চুর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ব্যান্ড ‘এবি কিং’। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ব্যান্ডটি। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তারা দেড় কোটি টাকার অনুদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
ব্যান্ডটির নাম ‘এবি কিং’ রাখা হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর নামের ইংরেজি আদ্যাক্ষর ‘এবি’ থেকে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এলআরবির সাবেক কি-বোর্ডিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী এস আই টুটুল, সোলসের সাবেক লিড গিটারিস্ট ইফতেখার ইফতি, আর্বোভাইরাসের সাবেক ড্রামার নাফিজ আল আমিন এবং বেইস গিটারিস্ট আকাশ আহসান। ব্যান্ডটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন ইশতিয়াক এ সিদ্দিকী। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে সময় দিতে না পারলেও শিগগিরই কি-বোর্ডিস্ট হিসেবে ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে সংগীত পরিচালক ইবরার টিপুর।
১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের নয়না সেন্টার অডিটোরিয়ামে এই লাইনআপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘এবি কিং’। ব্যান্ডটির প্রথম মঞ্চ পরিবেশনা পরিচালনা করেন চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক এস আই টুটুল।
হিউস্টনের ওই আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন, যা একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়। এস আই টুটুল, যিনি সংস্থাটির গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, তার নতুন ব্যান্ড ‘এবি কিং’-এর আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকার অনুদান সংগ্রহ করেন।
ব্যান্ডের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থ সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
ব্যান্ডের উদ্দেশ্য ও আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে এস আই টুটুল বলেন, ‘এখন জীবনের শেষ ধাপে রয়েছি। দর্শকের ভালোবাসা, গুণী মানুষদের আদর, সম্মাননা সবই পেয়েছি। শিল্পীজীবনের কয়েক দশকের পথ পাড়ি দিয়ে মনে হয়েছে, এখন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়া উচিত, যার অংশীদার হবে সবাই। যাতে করে আমি মারা গেলেও এবি কিং কেউ না কেউ চালিয়ে নিতে পারে। সেই ভাবনা থেকে সমমনা কয়েকজনকে নিয়ে এবি কিং ব্যান্ডটি গঠন করা। একটি বিষয় স্পষ্ট করা উচিত, এবি কিং কোনোভাবে এলআরবির রিপ্লেসমেন্ট না। এটা সেই প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে আমার গুরুজি আইয়ুব বাচ্চুকে সম্মান জানানো হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন কিংবদন্তির গানের পাশাপাশি পরিবেশিত হবে আমাদের মৌলিক গান। চলতি বছর আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক শহরে পারফর্ম করবে এবি কিং। ব্যান্ডের ডিজিটাল কনসালট্যান্সির কাজ করবে কোলাহল কমিউনিকেশন।
উল্লেখ্য, সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়। অলাভজনক এই সংস্থাটি বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বায়োমেডিকেল প্রকৌশল খাতে সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের জন্য আধুনিক ও সাশ্রয়ী ডায়ালাইসিস সেবা, রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের জন্য স্ক্রিনিং এবং পরীক্ষাগার সেবা প্রদান করে। এছাড়া, ডায়ালাইসিস প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ