১০:৪৩ এম
प्रधानमंत्री তারেক রহমান জানিয়েছেন, সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল এবং আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি হল শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশ। এজন্য, সরকার ক্রীড়াকে শরীরচর্চা, বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং পেশা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রবিবার, প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ, উদ্যমী এবং মানবিক সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। সরকার ক্রীড়াকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করছে। এ উদ্দেশ্যে, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’র উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর, সারা দেশে আটটি ইভেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পূর্বনির্ধারিত স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এই আয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরিতে একটি কার্যকর এবং টেকসই ভিত্তি রচনা করবে। সকল সংশ্লিষ্টকে তিনি শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরও বলেন, আজকের শিশু-কিশোর তারুণ্যই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধে পূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। খেলা মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা এবং দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বিদ্যমান সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, পরিচর্যা এবং বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় কাঠামো গড়ে উঠছে। তার বিশ্বাস, বিরতিহীন এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে জাতীয় দল এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি শক্তিশালী ভিত্তি হবে।
তিনি জানান, সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়া। এই লক্ষ্যে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম এবং যোগ্যতা সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’কে আরও সমৃদ্ধ করতে আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ আসরে টেবিল টেনিস এবং ভলিবল যুক্ত করা হবে। ফলে, ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০ হবে এবং অধিক সংখ্যক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে সম্প্রসারণ করে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবের সঙ্গে বহন করবে এবং দেশের জন্য সাফল্য নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
পোস্টের শেষে, প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’র প্রথম আসরে অংশগ্রহণকারী সকল খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক এবং এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান ও শুভেচ্ছা প্রদান করেন। তিনি সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন