ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু


সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সিলেটে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন, বাঁধ নির্মাণ ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ এর আওতায় সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুরমা নদীর ভাঙন রোধে পর্যায়ক্রমে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

মন্ত্রী আরও জানান, কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালতের আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনে শত কোটি টাকার সরকারি জমি দখলের পাঁয়তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


আদালতের আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনে শত কোটি টাকার সরকারি জমি দখলের পাঁয়তারা

কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রস্থল কলাতলীতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, যার মূল্য শত কোটি টাকা। রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের আলোতে টিনের বেড়ার আড়ালে একের পর এক নতুন স্থাপনা গড়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ থেমে নেই।

কলাতলী পুলিশ বক্স থেকে ওশান প্যারাডাইস-সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১১টি কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি এবং চায়ের দোকান গড়ে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। একই এলাকায় আরও ১৯টি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০টি দোকানের নির্মাণকাজ শেষের পথে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকান বরাদ্দের নামে প্রতি দোকান থেকে ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ‘সালামি’ এবং মাসিক প্রায় ২০ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের বেড়ার ভেতরে বেশকিছু শ্রমিক নির্মাণকাজে নিয়োজিত। সাংবাদিক পরিচয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীসহ শ্রমিকরা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

নির্মাণস্থলের মাঝখানে টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশনার কথাও লেখা আছে। কিন্তু সেই নির্দেশনার মধ্যেই নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আবদুল্লাহ এই জমির মালিক দাবী করলেও বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুলের নেতৃত্বে এই দখল-বাণিজ্য চলছে।

ডলফিন মোড়সংলগ্ন বৈশাখী রেস্টুরেন্ট এলাকার ঘেরা দেওয়া জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫০ একর বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমিতে টানানো নোটিশেও ৪ দশমিক ৫০ একর জমির কথা উল্লেখ করে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে আগে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোর মধ্যে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কিছু প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে ১৩০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ৮৭টি প্লটের মধ্যে ৫৭টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এই প্লটও রয়েছে বলে জানা গেছে।

তাহলে বৈশাখী রেস্টুরেন্টসংলগ্ন ৪ দশমিক ৫০ একর জমিটি ঠিক কোন দাগ, খতিয়ান ও প্লটের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বর্তমান বৈধ মালিকানা বা বরাদ্দের অবস্থা কী—তা নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, “জমিটি আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লট। সরকার এ বরাদ্দ বাতিল করেনি। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে নিজেদের বরাদ্দকৃত জায়গা সুরক্ষিত রাখতে আমরা সেখানে ঘেরাবেড়া দিচ্ছি।”

কক্সবাজারের কলাতলী ও সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি, বাতিল ইজারা এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট এলাকায় সরকারি খাসজমি, গণপূর্তের জমি এবং বাতিল ইজারার জমি নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক অবস্থার কথা উঠে এসেছে।

এর আগে কলাতলীতে আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আবার ২০২২ সালে কলাতলীর গণপূর্তের একটি মাঠ থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও যদি নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কীভাবে এত বড় নির্মাণকাজ চলছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা এসব স্থাপনা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানান তিনি।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই অবস্থানের পর কলাতলীতে কথিত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হয় কি না এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে চুরি-ছিনতাইয়ে আতঙ্ক, মসজিদ-মন্দিরসহ সবখানে চোরচক্রের হানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


ফটিকছড়িতে চুরি-ছিনতাইয়ে আতঙ্ক, মসজিদ-মন্দিরসহ সবখানে চোরচক্রের হানা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে মন্দিরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও পূজার সামগ্রী চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভোরে সিএনজি থামিয়ে চালককে পিটিয়ে যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল লুটের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদ, দানবাক্স, বসতঘর, দোকানপাট, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও টিউবওয়েলও চোরচক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা তিনটি ঘট, ঘটের গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি লকেটসহ পূজার সামগ্রী নিয়ে যায়। মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ ধর জানান, এতে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ ছিল। এর কয়েকদিন আগে বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের বড় ভাইয়ের ঘর থেকেও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে এমন চুরির ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ফটিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি রবিউল আলম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোরে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুলের পশ্চিম পাশের স্পিড ব্রেকারে সিএনজি থামিয়ে চালককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক।

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ছিনতাইকারীরা তার আগেই পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ বা মামলার অপেক্ষায় থাকলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা কী? তাদের দাবি, চুরি-ছিনতাই রোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নগরকান্দায় সন্তানকে ফাঁস লাগানোর চেষ্টায় মা আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


নগরকান্দায় সন্তানকে ফাঁস লাগানোর চেষ্টায় মা আটক

নগরকান্দা পুলিশ অবশেষে আটক করেছে সন্তানকে ফাঁস লাগানোর চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত মা, যিনি স্থানীয়ভাবে ডাইনি হিসেবে পরিচিত। এই মন্তব্য করেছেন রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের আরেক মা, নাজমা বেগম। তিনি ইনকিলাবকে জানান, "এমন মা যেন আর কোনো ঘরে না হয়। ডাইনি মা! নিজের পেটের সন্তানকে কী করে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে!" এই ঘটনার প্রতি তার ঘৃণা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মালদ্বীপে কর্মরত স্বামীর ওপর অভিমান করে নিজের শিশু সন্তানকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিয়ে ভিডিও ধারণ করে স্বামীর কাছে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি। ফরিদপুরের নগরকান্দার রামনগরের বিথী আক্তার (২৮) নামের ওই নারীকে আটক করা হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর আগে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার দুই শিশু সন্তান আবীর (৯) ও তাবির (৭)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে এক নারী তার শিশুকে বিপজ্জনক অবস্থায় রাখছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়। শিশুটির ফুফু থানায় ফোন করে তথ্য দিলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিথী আক্তারকে আটক করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিথী আক্তার জানিয়েছেন, তার স্বামী আব্বাস আলী প্রায় সাত বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরছেন না। স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও ক্ষোভ থেকে তিনি সন্তানকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে ভিডিও ধারণ করে স্বামীর কাছে পাঠান।

ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুই শিশুকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় ফিরে না আসা শিক্ষার্থীদের শোকে শিক্ষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় ফিরে না আসা শিক্ষার্থীদের শোকে শিক্ষকরা

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নেপালের একটি স্কুলে প্রতিদিন সকালে উপস্থিতি নেওয়ার সময় শিক্ষকদের সামনে ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি ফিরে আসে। যেসব শিক্ষার্থী আর স্কুলে ফিরে আসেনি, তাদের নাম উপস্থিতির খাতায় লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করেন শিক্ষকরা।

চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে সৃষ্টি হওয়া এই ভয়াবহ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই নেপালের নাগরিক।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সুনামির মতো ঢেউ পাহাড়ি অঞ্চলের রাস্তা, সেতু ও বসতি ভাসিয়ে নেওয়ার এক মাস পরেও হিমালয়ের দেশটিতে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬ আগস্টের বন্যার পর থেকে নিখোঁজ শিশুদের নামের পাশে এক শিক্ষক লাল বৃত্ত এঁকে রেখেছেন।

বন্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ডজনেরও বেশি স্কুলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় অবস্থিত নীলকণ্ঠ বিদ্যালয়টি প্রায় অক্ষত রয়েছে। তবে এই স্কুলের ৭০ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষককে হারাতে হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাধব লামিছানে এএফপিকে বলেন, ‘রাসুয়ার দিকে তাকালে এমন কোনো পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা পরিবারের কোনো সদস্যকে হারায়নি।’

তিনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একই কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে উপত্যকায় নেমে আসা বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

৩৬ বছর বয়সী শিক্ষক রমা পৌডেল বলেন, ‘আমরা প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের স্মরণ করছি। এত অল্প বয়সে এই দুর্যোগে তারা প্রাণ হারিয়েছে। এটি এক বিরাট ক্ষতি।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ও ২৪ জন শিক্ষক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ১৮টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্কুল পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার খরচ হতে পারে।

নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শ্রী প্রসাদ ভট্টরাই এএফপিকে বলেন, ‘শিক্ষা খাত এর আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।’

‘আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই’

ইউনিসেফের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চলের ৬২টি স্কুল ও শিক্ষা কেন্দ্রে ১৪ হাজারের বেশি শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি অ্যালিস আকুঙ্গা গত সপ্তাহে বলেন, ‘দুর্যোগের পর শিশুদের পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

তিনি বলেন, পড়াশোনায় ফিরে যাওয়া শিশুদের মধ্যে স্থিতিশীলতা, নিয়মিত জীবনযাপন এবং আশার অনুভূতি তৈরি করে। বিশেষ করে যখন অনেক শিশু বড় ধরনের ক্ষতি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন স্কুলে ফেরা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক পরিবারের পক্ষেই এখনো সন্তানদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫০৮ শিক্ষার্থীর অর্ধেকেরও কম দুই সপ্তাহ আগে ক্লাস পুনরায় শুরু হওয়ার পর স্কুলে ফিরেছে।

প্রধান শিক্ষক লামিছানে জানান, প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী এখনো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না, কারণ তাদের যাতায়াতের রাস্তা ও সেতু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ এখন ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শিক্ষকরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেয়েও শিশুদের মানসিক ক্ষত কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।

শিক্ষক শিবা রাম ভট্ট বলেন, ‘আমাদের অনেক শিক্ষার্থী তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। কেউ কেউ নিজের বন্ধুদের পানিতে ভেসে যেতে দেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘এক মাস হয়ে গেছে, কিন্তু তাদের পক্ষে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাচ্ছে। তবে পুনরুদ্ধারের পরবর্তী পর্যায়ে শুধু খাবার ও আশ্রয় যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী আছে। এখন প্রয়োজন মানসিক সহায়তা এবং একটি স্থায়ী সমাধান, যাতে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%