ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে র‌্যাব-৫-এর টাউন হল সভা: মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের আহ্বান


রাজশাহীতে র‌্যাব-৫-এর টাউন হল সভা: মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের আহ্বান

রাজশাহীতে র‌্যাব-৫ এর উদ্যোগে টাউন হল সভার আয়োজন করা হয়েছে।

মাদক, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সীমান্তের চোরাচালান ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য র‌্যাব-৫ ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজশাহী কলেজের মেসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এক টাউন হল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত

সভাটি সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়, সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী, র‌্যাব-৫-এর মেজর মনজুরুল কবির পিয়ালসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় র‌্যাব-৫ মাদকের অপব্যবহার, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সীমান্তের চোরাচালান, যুবসমাজের অপরাধে জড়িয়ে পড়া কারণ ও প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সামাজিক অপরাধ এবং ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক উপস্থাপনা করেন।

একইসঙ্গে র‌্যাব-৫ এর সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে অর্জিত সাফল্যের চিত্রও তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ বলেন, র‌্যাব দেশের অন্যতম দক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষত, মাদকবিরোধী অভিযানে বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসযোগ্য। তিনি বলেন, র‌্যাব সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি আস্থা গড়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে র‌্যাবের চলমান অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং এ কাজে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, অপরাধ দমনে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং জনসচেতনতা বাড়ানো ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ উদ্দেশ্যে র‌্যাব-৫ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীরা র‌্যাব-৫-এর উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেন। তারা সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে এ ধরনের টাউন হল সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে পুলিশের মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ পিরোজপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


নেছারাবাদে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে পুলিশের মহড়া

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের জন্য পিরোজপুরের নেছারাবাদে পুলিশ একটি বিশেষ মহড়া আয়োজন করেছে।

মহড়াটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) প্রণয় রায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় নেছারাবাদ থানার পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সেদিনের মহড়ার সময়, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, মাদক নির্মূলে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে নেছারাবাদ সার্কেলে নিয়মিত অভিযান, টহল এবং বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকমুক্ত নেছারাবাদ গড়ার জন্য নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।"

স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "নিয়মিত এ ধরনের মহড়া এবং অভিযান পরিচালিত হলে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশর পেন্টাগনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর উন্মোচন করল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


মিশর পেন্টাগনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর উন্মোচন করল

মিশর বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ উন্মোচন করেছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনকে পেছনে ফেলেছে। সামরিক শক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নবনির্মিত নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটালে ২২ হাজার একর বিশাল এলাকাজুড়ে এই অত্যাধুনিক ও বিশালাকার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স’ বা অক্টাগন কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন।

এই কমপ্লেক্সটির আয়তন এলাকা হিসেবে প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ বর্গফুট, যা যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের মোট আয়তন ও মেঝের স্থানকে ছাড়িয়ে গেছে। মিশরের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও কমান্ডের প্রতীক হিসেবে আটটি আন্তঃসংযুক্ত অষ্টভুজাকার ভবন নির্মিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভবনের চারপাশে অবস্থিত এই অষ্টভুজাকার ভবনগুলোতে মূল অপারেশনাল কমান্ড, লজিস্টিক সেন্টার এবং জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ইউনিট পরিচালনা করা হবে। এই বিশাল প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো মিশরের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে একটি একক, সমন্বিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, যা আপদকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবেলায় গতি বাড়াবে।

এছাড়া পুরো প্রাঙ্গণটিকে ১৩টি বিশেষায়িত জোনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ড, সংকট, কিংবা যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলার সময় সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার নির্মাণ করা হয়েছে। এই অক্টাগন আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সুসজ্জিত হয়ে রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর সব শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। কায়রো থেকে প্রধান সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে স্থানান্তরের মহাপরিকল্পনা, এই প্রজেক্টটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশ।

সূত্র: ইউরোএশিয়ান টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দিতে ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, জাল ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


বালিয়াকান্দিতে ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, জাল ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম বালিয়াকান্দি সাধুর মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে। এ ঘটনায় অবৈধ জাল সংরক্ষণ করার দায়ে একজন ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই অভিযানে পশ্চিম বালিয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা সুজন শেখ (৩৩), তার পিতার নাম মৃত ওহাব শেখ, থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রমতে, অবৈধ কারেন্ট জাল সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের অপরাধে সুজন শেখকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত কারেন্ট জাল তাৎক্ষণিকভাবে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এই জাল ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদের ক্ষতি না হয়।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে র‍্যাব-১০, ফরিদপুরের একটি দল। মামলার প্রসিকিউশন দায়ের করেন বালিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বালিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক শিপনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে যে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ না পরমাণু যুদ্ধ? কি করবেন ট্রাম্প আর বিকল্প নেই!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ না পরমাণু যুদ্ধ? কি করবেন ট্রাম্প আর বিকল্প নেই!

২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের জবাবে শুরু হওয়া ৪০ দিনের অসম যুদ্ধে বিশ্ব এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যা বহু বছরের মার্কিন সামরিক আধিপত্যের ধারণাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আর একক বিশ্ব সুপার পাওয়ার নয় এমনটা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র ধারণা করতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধের শুরুতে যাদের ধারণা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানকে সামরিকভাবে নতজানু করা যাবে, যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তারাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ইরান তার অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়—হরমুজ প্রণালী তাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজস্ব জলসীমার অংশ এবং এর নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে এই বাস্তবতা উল্লেখ থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বিকল্প পথে ওমান উপসাগর ব্যবহার করে সামরিক ও বাণিজ্যিক চলাচলের চেষ্টা চালায়। ইরান তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিরোধ করলে পুনরায় সংঘাত শুরু হয় এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা কার্যত ভেঙে পড়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে প্রকাশ্য ঘোষণা দেন যুদ্ধবিরতি চুক্তি আর নেই।

ইরানের আরো অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র শুধু যুদ্ধবিরতি চুক্তিই ভঙ্গ করেনি, এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমাহিতকরণের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি লঙ্ঘন করে ব্যাপক হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরানও হাত গুটিয়ে নতজানু হয়ে বসে থাকেনি বরং পাল্টা বিধ্বংসী ও ব্যাপক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, অস্ত্রাগার, রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও ড্রোন হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আঘাত হানে এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয় যে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন যে, মধ্যেপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্রের শক্তি প্রায় ধ্বংসের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি ইরানের এসব নিখুঁত পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক অজেয়তার ভাবমূর্তি গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বাস্তবে কী কী বিকল্প রয়েছে?
===============================
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে যুদ্ধ শুরুর পূর্ব থেকে শুরু করে সব শেষ বক্তব্য পর্যন্ত বড় বড় হুমকি কিংবা রাজনৈতিক ভাষণ দিয়ে বর্তমান সংকট আর সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইরান যে ধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো যেভাবে ধারাবাহিক হামলায় ধ্বংসের মুখে পড়ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রচলিত সামরিক চাপ কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও নিজেদের বিশ্ব পরাশক্তির অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তবে তাদের সামনে "হয় ইরানের সঙ্গে বাধ্য হয়ে একপ্রকার আত্মসমর্পণ বা সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া", নয়তো "এমন এক সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়া, যার শেষ সীমায় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে"। এই দুইয়ের বাইরে কার্যকর কোনো তৃতীয় পথ এখন দৃশ্যমান নয়। তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কি করবেন?

পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা কি আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ কোনো সিদ্ধান্ত?
=================================
ইতিহাস বলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের সময় বিশ্বের কৌশলগত বাস্তবতা আজকের মতো ছিল না। তখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সমমানের কোনো পারমাণবিক প্রতিপক্ষ ছিল না। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি পরমাণু বোমার ট্রিগার চাপলে হয়তো বা উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাক করা পরমাণু বোমার ওয়ারহেডগুলো ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্রসহ উড়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা করা অমূলক নয়।

আজ বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ সেখানে রাশিয়াকে বিপর্যস্ত করতে অশ্চিমা শক্তি তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে। অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্য পরাশক্তি হিসেবে দ্রুত উত্থান ঘটানো চীনও আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রও পারমাণবিক সক্ষমতার প্রশ্নে বারবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইরানের সঙ্গে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বিবেচনায় নিলে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চরম পদক্ষেপ একক সংঘাতের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই।


বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত পুরো বিশ্বকে এমন এক সর্বাত্মক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি মানবসভ্যতার জন্য অকল্পনীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ কারণে যে, বর্তমান সংকট কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনৈতিক কাঠামোরও একটি কঠিন পরীক্ষা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে রাখা উচিত, একক পরাশক্তি হিসেবে আর যুক্তরাষ্ট্র নেই বরং বিশ্বের অপর দুই পরাশক্তির স্নায়ু যুদ্ধ-ই চলছে ইউক্রেন ও ইরানে।

এখন প্রশ্ন একটাই—ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ইহুদীবাদী ইজরাইলি লবির চাপে নিজের বিশ্ব পরাশক্তিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবেন নাকি ইসরাইলকেন্দ্রিক সামরিক কৌশল থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথে হাঁটবেন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং সমঝোতার নতুন অধ্যায় খুলবেন? নাকি শক্তি প্রদর্শনের নামে এমন এক বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নেবেন, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আজকের বিশ্ব আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী একমেরু ভিত্তিক বিশ্ব নয় বরং ইতিমধ্যেই বহু মেরু ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা তৈরি হয়ে গেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া বহুগুণ বেশি জটিল, বহুমাত্রিক এবং সুদূরপ্রসারী। তাই শক্তির প্রদর্শন কিংবা কোন ভুল সিদ্ধান্তই হয়তো আগামী দিনের ইতিহাস নির্ধারণ করবে, বিশ্ব কি নতুন করে আলোর মুখ দেখবে নাকি মহাপ্রলয়ের ধ্বংসলীলা দেখবে এখনকার সিদ্ধান্তই তা নির্ধারণ করবে এমন কথা বলা মনে হয় আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%