০৬:৩৮ এম
হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পেশির শক্তি বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত সাইক্লিংয়ের একাধিক উপকারিতা রয়েছে। দৌড়ের তুলনায় জয়েন্টের উপর চাপও তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু সাইকেলের প্যাডেলে পা রাখা অবস্থায় কি অজান্তেই পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইক্লিং মানেই বন্ধ্যত্বের সমস্যা নয়। সাধারণ বা মাঝারি মাত্রায় সাইক্লিং করলে পুরুষের ফার্টিলিটি নষ্ট হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
কতক্ষণ সাইক্লিংয়ে সমস্যা?
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
সাইক্লিং বন্ধ্যত্বের কারণ নয়। পুরুষদের ফার্টিলিটি রক্ষা করার জন্য সাইক্লিং বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে সাধারণ সিটে দীর্ঘ সময় সাইক্লিং করা অথবা একটানা কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত জোরে সাইক্লিং করলে পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে কিছু প্রভাব পড়তে পারে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সাইক্লিং করা পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং কম গতিশীল শুক্রাণুর ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। অর্থাৎ, সপ্তাহে দু’-তিন দিন অল্প সময় সাইকেল চালানোর সঙ্গে নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ সাইক্লিংয়ের তুলনা করা উচিত নয়।
সিটেই কি লুকিয়ে বিপদ?
দীর্ঘ সময় সাইকেলের সিটে বসে থাকার ফলে শরীরের দুই পায়ের মাঝের অংশে, অর্থাৎ পেরিনিয়ামে দীর্ঘ সময় চাপ পড়ে। সিটের চাপ ও ঘর্ষণের সঙ্গে ওই অংশের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে। অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
শুধু তাপমাত্রা নয়, ভুল সিটের কারণে স্নায়ু ও রক্তনালীর উপরেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে থাকলে ওই অঞ্চলে রক্তসঞ্চালন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। বারবার এমন হলে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা এবং গঠনের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় সাইক্লিংয়ের ফলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ ওয়ার্কআউট শরীরে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা সাময়িকভাবে হরমোনের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আবার সিট ঠিক না হলে পেরিনিয়ামের স্নায়ু ও রক্তনালীর উপর চাপ পড়তে পারে।
প্রভাবটা কখন বোঝা যায়?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সাইক্লিং শুরু করার পর বা হঠাৎ করে কয়েক দিন বেশি সাইকেল চালিয়ে শুক্রাণুর মানে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে, এমন নয়। শুক্রাণু তৈরি ও পরিণত হতে প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তনের প্রভাব বীর্যের গুণমানে দেখা দিতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান
আরও একটি গবেষণায় অতিরিক্ত সাইক্লিংয়ের সঙ্গে বীর্যে প্রদাহজনিত উপাদান এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর ফলে শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতিশীলতা ও গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তাহলে সাইক্লিং কি ছেড়ে দিতে হবে?
একেবারেই নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিটের মতো মাঝারি মাত্রার সাইক্লিং সাধারণত নিরাপদ। বরং নিয়মিত শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সামগ্রিক শারীরিক ও যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। তবে যাঁরা দীর্ঘ সময় সাইকেল চালান, তাঁদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এমন সিট নির্বাচন করতে হবে যাতে পেরিনিয়ামে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। একটানা দীর্ঘ সময় সিটে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া উচিত। সাইকেল চালানোর সময় প্রয়োজনমতো দাঁড়িয়ে গেলে ওই অংশের উপর চাপও কিছুটা কমে।
মূল বিষয় হল পেরিনিয়ামের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া। যাঁরা বেশি সময় বা খুব জোরে সাইক্লিং করেন, তাঁদের সিট, বসার ভঙ্গি এবং বিরতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি
যৌনস্বাস্থ্যের জন্য কেমন ব্যায়াম উপকারী?
পুরুষের ফার্টিলিটি ও যৌনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যধিক শরীরচর্চার চেয়ে নিয়মিত, মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বেশি উপকারী। সপ্তাহে প্রায় ১৫০-১৮০ মিনিট শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
অন্যদিকে প্রতিদিন অতিরিক্ত সময় ধরে অত্যন্ত কঠিন ওয়ার্কআউট করলে শরীরে বাড়তি শারীরিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ফার্টিলিটি ভালো রাখতে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ব্যায়ামের উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন পরিমিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন।
সুতরাং, সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাইকেল চালানোর অভ্যাস থাকলে সিট, বিরতি এবং শরীরের সংকেত, তিনটির দিকেই নজর রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন