হামিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি
০৫:২১ পি.এম
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল পশ্চিমের হাওরে কৃষিজমির অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। জমিতে পানি দেওয়ার পরও মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে এবং শক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুত নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি শক্ত হয়ে গেলে জমি চাষের উপযোগী করতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে বোরো আবাদে বাড়তি খরচের পাশাপাশি চাষাবাদেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবিকা মূলত বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই সময়মতো জমি প্রস্তুত করতে না পারলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় জগদল পশ্চিমের হাওরে কৃষিজমিতে পানির সংকট ও মাটির এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা। সময়মতো জমিতে সেচ ও চাষাবাদের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
#কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে চাঁদা আদায়
#ব্যাংক হিসাব লক ও চাকরিচ্যুতির ভয় দেখানোর অভিযোগ
#তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের (ইফা) ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি, চাকরিচ্যুতির ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক হিসাব লক করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলার কোরআন শিক্ষা প্রকল্পের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া, চাকুরি থেকে বাদ দেওয়া কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার ভয় দেখানো হয়। কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, বেতন উত্তোলনের সময় তাঁদের ব্যাংক হিসাব লক করে দেওয়া হয় এবং পরে সেই সমস্যা সমাধানের বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগী আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের গুজিয়াম কাচাচড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শিক্ষক হাফেজ মো: শাহজাহান। তিনি উল্লেখ করেন, সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে কেন্দ্র নীতিমালা অনুযায়ী সুনামের সাথে শিক্ষকতা করে আসছি। গত কয়েক মাস যাবত ইফার ফিল্ড সুপার ভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন স্যার অনৈতিক ভাবে মোটা অংকের টাকা দাবি করলে স্যারের অনৈতিক আবদার পূরণ করতে না পারায় তিনি দীর্ঘদিন যাবত আমার প্রতি ক্ষিপ্তভাবে আচরণ করে আসছেন। গত ৭ অক্টোবর বকেয়াসহ তিন মাসের সম্মানি ১৮ হাজার ৮শত টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করি। এসময় জাহাঙ্গীর হোসেন স্যার চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলন কৃত টাকা থেকে অনৈতিক ভাবে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অনিচ্ছা থাকা সত্যেও চাকুরীর হারানোর ভয়ে অপারগ হয়ে তার হাতে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছি। অথচ কেন্দ্র পরিদর্শনের নামে আমাদের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করা হচ্ছে। ইসলামি ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার আরিফের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয়। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’ টাকা দাবী করার বিষয়ে কথোপকথনের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
হাফেজ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সুপারভাইজার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষকদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে। আমরা যে সামান্য সম্মানী পাই, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। সেখান থেকে যদি একটি বড় অংশ তাদের দিতে হয়, তাহলে সম্মান নিয়ে দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।’ বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ করা হোক এবং কেউ যেন আর অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার বাদী জানান তিনি।’
ত্রিশাল উপজেলার সানকিভাঙ্গা কেন্দ্রের শিক্ষক আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, একদিন সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন ও মডেল কেয়ারটেকার আরিফ তাঁর কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আগেভাগে ছুটি দেওয়ার কারণ জানতে চান। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হওয়ার কারণে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাঠ শেষ করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে যেতে বলা হয়। অফিসে যাওয়ার পর তাঁকে চাকুরি থাকবে না বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েক দিন পর বেতন ব্যাংকে জমা হলেও ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গেলে জানানো হয় তাঁর হিসাব লক রয়েছে। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তিনি পাঁচ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবেন না বলে জানান। তাঁর দাবি, শুধু তিনি নন, আরও অনেক শিক্ষক একইভাবে অর্থ দাবির শিকার হয়েছেন।
আরেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ব্যাংক হিসাব লক করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অপরদিকে বিধবা ক্যাটাগড়িতে ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে বিতরণকৃত সেলাই মেশিন প্রাপ্ত এক বিধবা নারীকে দিনের পর দিন মোবাইল ফোনে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল ইসলামী ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার ওমর ফারুক। বিষয়টি ওই বিধবা নারী পরিবারের লোকজনদের জানালে ওমর ফারুক কে নিয়ে সামাজিক সালিসের মাধ্যমে তাকে সাবধান করা হয়।
এ বিষয়ে ত্রিশালের আলেম সমাজ মনে করেন, “ইসলামি ফাউন্ডেশনের মতো ধর্মীয় একটি সংস্থা কুরআন শিক্ষার শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ইসলামি ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত কেয়ারটেকার ওমর ফারুক তথ্য সংগ্রহকারী গণমাধ্যম কর্মীদের সরাসরি অর্থ বিনিময়ের অনুরোধ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি কোনো শিক্ষকের কাছে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করিনি এবং কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান বলেন, ‘অভিযোগটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশন। এ সময় শহরের বাইরে মানিকছড়িতে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থানান্তর এবং হাসপাতালসংলগ্ন সড়কসহ শহরের বিভিন্ন সড়কের খানাখন্দ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরূপা পুলিশ ট্রাফিক বক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
পথসভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ঘুম ঘুম চোখে কিংবা মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানো যাবে না। পাশাপাশি নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বন্ধ, যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা এবং নৌ আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
বক্তারা রাঙামাটি শহরের যানজট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল দ্রুত শহরের বাইরে মানিকছড়িতে স্থানান্তরের দাবি জানান। একই সঙ্গে শহরের অলিগলি এবং বিশেষ করে হাসপাতালসংলগ্ন সড়কের বেহাল দশা ও খানাখন্দ দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করার আহ্বান জানান।
নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের রাঙামাটি জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. হাবীব আজমের সভাপতিত্বে পথসভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠক আলমগীর হোসেন। বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন এবং সংগঠক মো. ইভান শফি, হুমায়ুন কবির ও আরিয়ান রিয়াজ।
এ সময় সংগঠনের সদস্য অভি ইসলাম রাফি, সানজিদা ইসলাম সানজু, ইসরাত জাহান ও আরিফুল ইসলামসহ ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. জামান, সার্জেন্ট বিশ্বজিৎ এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে স্থানীয় চালক ও যাত্রীরা অংশ নেন। আয়োজকেরা বলেন, সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশাল জলরাশির যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই লাল-সাদা পদ্মের অপরূপ সমারোহ। পানির বুকে ফুটে থাকা অসংখ্য পদ্মফুলে যেন সেজেছে প্রকৃতি। বর্ষা মৌসুমে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের মুশুরিয়ার বিল এখন পদ্মফুলের সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০০ বিঘা জমিজুড়ে বিস্তৃত এই পদ্মবিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পদ্মবিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন বলে জানান তাঁরা। শাপলাবিলের দেখা মিললেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পদ্মফুলের এমন সমারোহ সচরাচর চোখে পড়ে না। আর এ কারণেই দিন দিন বাড়ছে মুশুরিয়ার বিলের পরিচিতি।
তবে এই পদ্মবিলের সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইতিহাস। স্থানীয় কৃষক প্রকাশ বৈদ্যের হাত ধরেই বিলটিতে পদ্মের বিস্তার ঘটে বলে জানা গেছে। শুরুতে অল্প কয়েকটি পদ্মফুল থাকলেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পদ্মফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়লে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিলটিকে ঘিরে রয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতি। বিলের মাঝখানে অবস্থিত ছোট্ট শীতলা মায়ের মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা বিশ্বাস। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শীতলা মায়ের আশীর্বাদেই বিলজুড়ে পদ্মফুলের এমন সমারোহ। তাই অনেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি মন্দিরে গিয়ে দেবীর চরণে পদ্মফুল অর্পণ করেন।
বিলের ঘাটে বাঁধা থাকে সারি সারি নৌকা। এসব নৌকায় চড়ে দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখেন পদ্মে ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশি। অনেকে বিলের মাঝখানে অবস্থিত মন্দিরেও যান। বর্ষাকালে নৌকাভ্রমণের পাশাপাশি পদ্মফুলের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসছেন অনেকে।
মুশুরিয়ার বিলের পদ্মফুল দেখতে পর্যটকদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিলাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি বিলের ঘাটসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকান। এসব দোকান ও নৌকাকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের।
বিলের ঘাটের আয়োজক প্রকাশ বৈদ্য বলেন, “একসময় এখানে দু-একটি পদ্মফুল ছিল। পরে হঠাৎ করেই অনেক পদ্মফুল ফুটতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে করোনার পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে এখানে আরও বৃহৎ পরিসরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।”
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফিন বলেন, মুশুরিয়ার বিলে দিন দিন পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। দর্শনার্থীদের আগমন বিবেচনায় ভবিষ্যতে এখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় বিশ্বাস আর স্থানীয় মানুষের জীবিকার মেলবন্ধনে মুশুরিয়ার বিল এখন কেবল পদ্মফুল দেখার স্থান নয়, বরং সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য। পরিকল্পিত উন্নয়ন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিলটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় সাতানীপাড়া সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে ২৩তম মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, উপজেলার নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ১০ নম্বর ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, মহিউচ্ছুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ইয়াকুব চৌধুরী, ইউনাইটেড ট্রাস্টের ফেনী জেলা কো-অর্ডিনেটর মো. ফয়সাল ভূঁইয়া, সংঘের প্রধান উপদেষ্টা মো. জিয়া গিয়াস উদ্দিন মোহন, উপদেষ্টা মো. জহির উদ্দিন ও মো. আশরাফ চৌধুরী, নিজকুঞ্জরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেন এবং তরুণ সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী একরামুল হক। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, শিক্ষার প্রসার এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতানীপাড়া সমাজকল্যাণ সংঘ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের মেধাবৃত্তি পরীক্ষাও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিশেষ করে সংঘের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে সুশৃঙ্খলভাবে এ আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তারা।
শিক্ষার প্রসার, মেধার বিকাশ এবং আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে সাতানীপাড়া সমাজকল্যাণ সংঘের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ