এস এম সাহান, ফরিদপুর প্রতিনিধি
১০:৩৩ পি.এম
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার গেরদা ইউনিয়নের পশড়া গ্রামের নিখোঁজ যুবক মো. রনি মোল্যা (২২) ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরে এসেছেন। গত ১৩ আগস্ট সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রনি বাড়িতে ফিরে আসেন, যা তার পরিবারে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাড়ি ফেরার পর রনি পরিবারের সদস্যদের কাছে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফরিদপুর শহরের আলীমুজ্জামান ব্রিজের সামনে পৌঁছালে দুই ব্যক্তি তাকে ভাঙ্গায় রডের কাজের হেলপার হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে রনি তাদের সাথে একটি অটোরিকশায় করে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রনির ভাষ্য অনুযায়ী, তালমা এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তিরা তাকে কোমল পানীয় (স্পিড) পান করতে দেন। সেটি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে একটি বদ্ধ ঘরের মধ্যে দেখতে পান। রনি আরও জানান, জ্ঞান ফিরে পেলে তাকে খাবার দেওয়া হয় এবং বলা হয়, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেখানে রাখা হয়েছে। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, কাজটি একটি হাসপাতালে এবং পরদিন তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। এ সময় তিনি সন্দেহ করেন যে, তিনি কোনো প্রতারক চক্রের কবলে পড়েছেন।
পরে রনি সেখান থেকে পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তিনি পালিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর তিনি প্রায় ছয় ফুট উঁচু একটি দেয়াল টপকে দৌড়ে হাইওয়ে সড়কে পৌঁছান। রনির বর্ণনা অনুযায়ী, হাইওয়েতে একটি বাস যাত্রী ওঠানোর জন্য থামলে তিনি বাসটির পেছনের সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে পড়েন। পরে বাসটি যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে বাসের হেলপার তাকে দেখতে পেয়ে জাগিয়ে তোলেন। কোথা থেকে বাসে উঠেছেন—এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি তখন দিতে পারেননি।
এরপর রনি একটি বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে সাহায্য চান। দোকানের মালিক তাকে আশ্রয় দেন এবং পরে ফরিদপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। দুই দিন পর ওই দোকানের মালিকের সহযোগিতায় রনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
রনির মা রওশন আরা বেগম জানান, গত ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তার ছেলে। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি, ফলে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কোথাও সন্ধান না পেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
রনি বাড়ি ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পেলেও তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজ থাকার সময় তাকে কোনো ধরনের ওষুধ বা মাদকজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। রনিও বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রনি মোল্যার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন এবং কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছে পরিবার। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডে কিশোরদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত এক মাকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন সংগীতশিল্পী টেলর সুইফট। আহত অ্যাশলি টন্টনের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তার জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এনবিসি নিউজ।
তিন সন্তানের মা অ্যাশলি টন্টন গত ১৮ জুলাই প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রোড আইল্যান্ডের হপকিনটনে আন্তঃরাজ্য ৯৫ নম্বর মহাসড়কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সামনে থাকা একটি গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে যেতে দেখেন। গাড়িতে থাকা কিশোরদের সহায়তা করতে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
অ্যাশলি যখন দুর্ঘটনাকবলিত কিশোরদের সাহায্য করছিলেন, তখন আরেকটি গাড়িও বৃষ্টির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে। তার স্বামী জো টন্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাশলি মুহূর্তের মধ্যে অন্য একজনকে বিপদ থেকে সরিয়ে দেন। এতে দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের বড় অংশ তার শরীরে লাগে।
দুর্ঘটনায় অ্যাশলি গুরুতর পায়ে আঘাত পান। একই সঙ্গে তার শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ক্ষুদ্র ও বৃহদান্ত্রে আঘাত লাগে, লিভারে ক্ষত তৈরি হয় এবং ডায়াফ্রাম ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি ফুসফুস ধসে পড়ে।
জো টন্টন জানান, অ্যাশলির অন্তত তিনটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসার সময় তাকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার নাকে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার নলও লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরেন এবং পায়ে বিশেষ সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন।
অ্যাশলি তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর পায়ে সহায়ক যন্ত্র ব্যবহারের ছবিও তিনি শেয়ার করেছেন।
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অ্যাশলির জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তহবিলে টেলর সুইফট ৫০ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন। শুক্রবার অ্যাশলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুদানের কথা জানিয়ে বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অ্যাশলি জানান, সুইফটের এই সহায়তার খবর তার জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আবেগপূর্ণ ছিল। তিনি সুইফটকে ধন্যবাদ জানান এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অ্যাশলির স্বামী এর আগে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তার স্ত্রী নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে কিশোরদের সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিশোরদের বিপদ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে তিনি নিজেই দ্বিতীয় গাড়িটির আঘাতের শিকার হন।
অ্যাশলির দুর্ঘটনার ঘটনা ও পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তার সুস্থতার খবরও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়মিত ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। পরে টেলর সুইফটের অনুদানের খবর প্রকাশ্যে আসে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সুন্দরদী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ৬২ বছর বয়সী স্বরসতি দাস নামের এক বৃদ্ধাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বৃদ্ধা স্বরসতি দাস অভিযোগ করেন, স্থানীয় শামীম ও মিজান প্যাদা তার স্বামীর কিছু জমি বিক্রি করেছেন। জমি বিক্রির পর থেকে তারা বিক্রিত জমির পাশাপাশি তাদের বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, গত কয়েকদিন আগে তাদের বসতবাড়ির একটি গাছ বিক্রি করা হয়। গাছ বিক্রিতে বাধা দেয় শামীম ও মিজান। তাদের বাধা উপেক্ষা করে গাছ বিক্রি করায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে শামীম ও মিজান তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ওই বাড়িতে তার শ্বশুর ও স্বামী ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। সেই বাড়ি থেকে তাদের উৎখাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম প্যাদা বলেন, "আমার জমির গাছ কেটে নিয়েছে তারা। এনিয়ে তর্কবিতর্ক হয়েছে। হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।" তিনি আরও বলেন, তাদেরকে উৎখাতের কোন হুমকি দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, অভিযোগের তদন্তের জন্য শনিবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। রবিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সই করা কার্যালয় আদেশে তাদের বদলির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
কার্যালয় আদেশে ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. সোনাহর আলীকে গোয়েন্দা গুলশানে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (কোয়ার্টার মাস্টার) মো. সাজ্জাদ হোসেনকে গুলশান বিভাগের (ক্যান্টনমেন্ট জোন) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এবং ডিএমপির গুলশান বিভাগে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ক্যান্টনমেন্ট জোন) মোহাম্মদ আবির হাসানকে ডিএমপি কমিশনারের দপ্তরে অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু কমিশনার) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও একই প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-রমনা প্রশাসন) মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীকে ডিএমপি পিওএম-পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএমপির পিওএম-পূর্ব বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. নজরুল ইসলামকে গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (রমনা জোনাল টিম) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাগর শেখ (২৮) নামের এক অ্যাম্বুলেন্সচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সাগর শেখকে আটক করে লোহাগড়া থানার পুলিশ। সাগর শেখ লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা তেলপাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে।
মৃত গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছেঁড়া গ্রামে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সাদিয়া আক্তার লামিয়া নামের এক গৃহবধূ। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। রাতে থানায় নেওয়ার জন্য মরদেহটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে ছিলেন চালক সাগর শেখ। এ সময় তিনি মরদেহটির সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেন। তখন সাদিয়ার মা সেখানে গিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
সাদিয়ার মা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সচালক সাগর শেখ তার মেয়ের শরীরের কাপড় খুলে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি যাতে বাইরে থেকে দেখা না যায়, সে জন্য অ্যাম্বুলেন্সের জানালা গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, অভিযুক্ত সাগর শেখকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ