০৯:০২ এম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হোসিয়ারি শিল্পের শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা শোয়াইব রহমান সোহেবসহ আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বন্দর উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শোয়াইব রহমান সোহেব (৪২)। তিনি বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে, অপর আসামি হলেন বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার বশিরের ছেলে মো. সুমন (৩৮)।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
শনিবার দুপুরে র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর থানার সালেহনগর এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শোয়াইব রহমানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আলমগীর হোসেন ওই সালিশ বৈঠকে আসতে দেরি করায় তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত ফরহাদসহ কয়েকজন। বৈঠকে আলমগীর ও তার ছেলে মুন্না, যিনি মামলার আরেক আসামি মো. জুয়েলের কাছে পাওনা টাকা চাইতে থাকেন। তবে জুয়েল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর একপর্যায়ে আলমগীরকে মারধর শুরু করেন জুয়েল। পরে তাঁকে গ্যারেজের বাইরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
হতাহত আলমগীর হোসেন বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যার মামলা করেন। সেই মামলায় এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি হিসেবে শোয়াইব রহমান সোহেবকে এবং ১০ নম্বর আসামি হিসেবে মো. সুমনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
র্যাব জানায়, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়াইব রহমান এবং তার সহযোগী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তাঁদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোয়াইব রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষে ওই আসনে এনসিপির কেউ মনোনয়ন পাননি, যেহেতু জোটসঙ্গী খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলী জানান, ‘শোয়াইব রহমান বর্তমানে আমাদের দলের কোনও কমিটিতে নেই। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির কমিটি হওয়ার সময় তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বিতর্কিত হওয়ায় তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ বিদ্যমান। বন্দর উপজেলা এনসিপির পূর্ববর্তী কমিটি কে বা কারা তৈরি করেছিল, তা আমার জানা নেই। তদ্ব্যতীত সময়ে এনসিপির সমন্বয়কারী কমিটিতে ছিলেন শোয়াইব। পরে তাঁকে আর কোন কমিটিতেও রাখা হয়নি। গত ছয় মাস ধরে এনসিপির কোনও কর্মকাণ্ডে তাঁকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।’
এনসিপি থেকে মনোনয়নপত্র পাওয়ার ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কেউ এনসিপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এর ধারাবাহিকতায় শোয়াইবও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে শোয়াইব মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। তবে তিনি নির্বাচন করেননি।’
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার
তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলায় তার গ্রেফতারের বিষয়ে আমি জেনেছি। তিনি বর্তমানে দলের কেউ নন এবং আমাদের কোনো কমিটিতেও নেই। ফলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন