ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধুমাসে চট্টগ্রামের ফলের বাজারে বেড়েছে প্রাণচাঞ্চল্য


মধুমাসে চট্টগ্রামের ফলের বাজারে বেড়েছে প্রাণচাঞ্চল্য

মধুমাসের এই সময়ে মৌসুমি সুস্বাদু ফলে সয়লাব হয়ে উঠেছে নগরী ও জেলার বাজারগুলো এবং সড়কপাশের অস্থায়ী দোকানগুলো।

ফলে স্থানীয় বাণিজ্যিক কর্মকা-ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে অ-বাণিজ্যিক ও বসতভিটাভিত্তিক পারিবারিক ফলচাষের বিস্তৃতি ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

বাজারগুলোতে এখন বিভিন্ন জাতের আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস ও জামরুলের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ফলের চাহিদা ও বিক্রি ভালো থাকলেও বিপুল সরবরাহের কারণে মৌসুমের এ সময়ে দাম তুলনামূলক কম রয়েছে।

নগরীর প্রধান পাইকারি ফলের মোকাম রিয়াজউদ্দিন বাজার ও স্টেশন রোডের ফলম-ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত স্থায়ী ফলের আড়ত ও গুদামে বিভিন্ন ধরনের ফলের বিপুল মজুত রয়েছে।

বাহারি রঙ ও তাজা ফলের সমারোহে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি ফলের ব্যাপক সরবরাহ স্থানীয় বাজারে বেচাকেনা বৃদ্ধি করে বাণিজ্যে নতুন গতি এনেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, স্থানীয় ও উন্নত জাতের নানা ধরনের ফল জেলার বিভিন্ন বাজারে উঠতে শুরু করেছে।

সামনের সপ্তাহগুলোতে মৌসুমি ফলের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গাউসিয়া ওয়্যারহাউসের মালিক মো. আরিফ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, বর্তমানে বাজারে হিমসাগর, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা ও মোহনভোগসহ জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

পাশাপাশি গালা, রসা, খাজা, ছোট খাজা, বড় খাজা, দেশি ও মধু জাতের কাঁঠালও বিভিন্ন আড়তে বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-১, চায়না-৩, বেদানা, মুজাফফরপুরী, এলাচি, কদমি ও বারি জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ করে চায়না-৩, বোম্বাই ও মাদ্রাজি জাতের উচ্চফলনশীল ও শংকর লিচুর বাণিজ্যিক চাষে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহের ফলে উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

হানি কুইন (জলডুগি), জায়ান্ট কিউ, ঘোড়াশাল, ক্যালেন্ডার, দেশি ও পাহাড়ি জাতের আনারসেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বাজারে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মান ও আকারভেদে কাঁঠালের দাম প্রতি পিস ১০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

অন্যদিকে আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১২০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং লিচু প্রতি ১০০টি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ফলের দামে ওঠানামা হতে পারে।

তবে অধিকাংশ ফলের দাম বর্তমানে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

এদিকে ফলের দাম নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ফলম-ির পাইকারি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, মৌসুমি ফলগুলো যেমন পুষ্টিকর, তেমনি সুস্বাদুও।

মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা বেশি ছিল, তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে আসছে।

ফল বিক্রেতা আলাউদ্দিন জানান, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়তে থাকায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন ফলের দাম আরও কমতে পারে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

এদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি জেলার কৃষকেরা চলতি মৌসুমের ফলন নিয়ে আশাবাদী।

রাঙামাটির কৃষক অরুণজ্যোতি চাকমা বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক।

অন্যদিকে জেলার বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর এলাকার লিচুচাষি মোস্তাক আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে ‘কালীপুর ব্র্যান্ড’ লিচু বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছেন, যা নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম জেলা ও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের পার্বত্য জেলাগুলোসহ মোট ৫০৬ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে।

এছাড়া ২১৬ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হচ্ছে এবং লিচু ও আনারসের চাষ মিলিয়ে প্রায় ১০০ হেক্টর জমি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অ-বাণিজ্যিক ও বসতভিটাভিত্তিক ফলচাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃতি ঘটছে।

একই সঙ্গে আপেল, আঙুর, মাল্টা (মোসাম্বি) ও খেজুরসহ বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ফলের চাহিদা ও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইকুয়েডরে মাদক সহিংসতা ঠেকাতে ১০টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


ইকুয়েডরে মাদক সহিংসতা ঠেকাতে ১০টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে মাদক সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ২৪টি প্রদেশের মধ্যে ১০টি প্রদেশে ৬০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, মাদক কার্টেল-সম্পর্কিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের হঠাৎ বৃদ্ধি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুসারে, ইকুয়েডরের ২৪টি প্রদেশের মধ্যে ১০টিতে এই জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজনবোধে এটি আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান মতে, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ৮৭৯টি হত্যা ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটিতে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতির চিত্র তুলে ধরছে।

জরুরি অবস্থার আওতায় পড়া প্রদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গুয়ায়াস, মানাবি, সান্তা এলেনা, লস রিওস, এল ওরো, পিচিঞ্চা, এসমেরালদাস, সান্তো দোমিঙ্গো দে লস সাচিলাস, সুকুমবিওস এবং আজুয়াই।

এই অঞ্চলগুলোকে মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কোকেন উৎপাদন এলাকা থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর দিয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার হয়ে থাকে।

নতুন আদেশ অনুসারে, গুরুতর সন্দেহ থাকলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিচারিক পরোয়ানা ছাড়াই ব্যক্তিগত বাড়িতে প্রবেশ এবং তল্লাশি করতে পারবে। ফলে, বাসার অখণ্ডতার সাংবিধানিক সুরক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তটি কয়েক সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট নোবোয়ার যে অবস্থান ছিল, সেখানে বড় পরিবর্তনের চিত্র নির্দেশ করে, যখন তিনি জরুরি ক্ষমতার মেয়াদ না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইয়েনিসাফাক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাটহাজারীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


হাটহাজারীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, যাঁর (তারেক রহমান) গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ আজ নতুন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম তৃণমূলের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাঁরই জনকল্যাণমুখী ভাবনার এক অনন্য প্রকাশ।

আজ বুধবার (১৭ জুন) ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের পাইলটিং-এর তৃতীয় পর্যায়ে মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি ১৯টি উপজেলার সাথে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। এই সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ১২৪ জন পরিবারের সদস্যদের হাতে এ কার্ড তুলে দেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর গুমানমর্দ্দন প্রান্তের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন হাটহাজারী ও চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং আপসহীন দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক ও শুভক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। যাঁর আদর্শ ও জনমুখী দর্শন আমাদের আজীবন অনুপ্রেরণা জোগায়। কৃতজ্ঞতা জানাই আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি, যাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ত্যাগ এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইকে বেগবান করেছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া অনুষ্ঠানে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আল-আমিন ও ড. মো. শফিকুল ইসলাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন。

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নেয়, গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নেয়, গ্রেফতার ২

পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেয়ার জন্য প্রতারণার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের একজন নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পরিচয় দিতেন এবং চাকরিপ্রার্থীদের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন, এটি জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

শাফায়েত হোসেন ও এনামুল হক পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য কয়েকটি ধাপে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করতেন। তারা পরবর্তীতে দাবি করতেন যে, তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এবং চাকরি নিশ্চিত করার শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে নগদ টাকাসহ এই প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে সিআইডি সদরদফতরে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন সরকার।

তিনি জানান, প্রতারকরা চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস অর্জনে অভিনব কৌশল ব্যবহার করতেন। তারা অগ্রিম টাকা নেয়ার আগে জামানত হিসেবে ব্যাংকের চেক ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেলের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করতেন। তাদের ধরার সময় সাড়ে চার লাখ টাকা নেয়ার চেষ্টা করছিলেন এমন এক প্রার্থীর কাছ থেকে।

এদিকে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশেষ পুলিশ সুপার জয়নুল আবেদীন জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতার শাফায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, চেক জালিয়াতি এবং প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানায় সিআইডি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য, বাজেটে সেই ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য, বাজেটে সেই ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ভিয়েতনাম গতকালকের সফলতার গল্প, ইন্দোনেশিয়া আজকের বাস্তবতা এবং বাংলাদেশ হতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে পলিসির ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা। বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিক সংকট থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বলছে, দেশোপযোগী নীতি গ্রহণ করা গেলে অর্থনীতি আবারও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে—নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষতিগ্রস্ত ও নতুন শিল্পে অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের করনীতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে আস্থা পাবেন। একই সঙ্গে লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিল্প খাতকে চাঙা করার জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কোভিড-১৯ সময়ের মতো নির্বিচারে প্রণোদনা নয়, এবার কর্মদক্ষতা ও ফলাফলের ভিত্তিতে সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টেকসই বিনিয়োগের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। এজন্য জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এলএনজির সরবরাহ নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কার্যকর রেলসংযোগ ছাড়া কৃষি ও শিল্পপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব নয়। তাই পরিবহন ব্যয় কমাতে সমন্বিত বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিতুমীর মনে করেন, শুধু শিক্ষা নয়, দক্ষতা, উদ্ভাবন ও নাগরিক মূল্যবোধ—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া বিনিয়োগের পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-এ উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিশু থেকে প্রবীণ—সব নাগরিককে ধাপে ধাপে এই সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনতে হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি ও কর জালিয়াতি কমানোর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে পরিকল্পনা করা, বাস্তবায়ন, মূল্যায়ন এবং তথ্য উন্মুক্তকরণে ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার অযৌক্তিক প্রশংসা নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনা চায়। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে। এই কাজে ব্যবসায়ী সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় সহযোগিতাও প্রয়োজন।

আলোচনায় এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাহিদী সাত্তার, অর্থনীতিবিদ ড. বজলুল এইচ খন্দকার এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজের ইজাজ বিজয়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%