ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপ না খেললেও পাকিস্তানের বলেই হবে প্রতিটি গোল


বিশ্বকাপ না খেললেও পাকিস্তানের বলেই হবে প্রতিটি গোল

ফিফা বিশ্বকাপে মাঠে মাঠে পাকিস্তানকে দেখা যাবে না। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এবং শিরোপা নির্ধারণী মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পাকিস্তান তৈরি করা বল।

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল 'ট্রিওন্ডা' তৈরি করেছে দেশটির সিয়ালকোটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'ফরওয়ার্ড স্পোর্টস'।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা খাজা মাসুদ আখতার একসময় পাকিস্তান রেলওয়েতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৯১ সালে মাত্র ২০ জন কর্মী এবং একটি ছোট কক্ষ নিয়ে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস শুরু করে ব্যবসা। আর ৩৫ বছর পর এখন প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ ফুটবল উৎপাদন করে।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

ফরওয়ার্ড স্পোর্টস টানা চতুর্থবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে।

এর আগে তারা ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের 'ব্রাজুকা', ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের 'টেলস্টার ১৮' এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের 'আল রিহলা' বলগুলোও তৈরি করেছিল।

দেশটি 'বিশ্বের ফুটবল কারখানা' হিসেবে পরিচিত এবং সিয়ালকোটে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয়। স্থানীয় ক্লাবের অনুশীলন বল থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল—সব ক্ষেত্রেই এই শহরের অবদান রয়েছে।

পাকিস্তান বছরে প্রায় ৪ কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এবং প্রতিদিন সিয়ালকোটের কারখানাগুলো থেকে প্রায় ৩ লাখ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে খাজা মাসুদ আখতার পাকিস্তান রেলওয়েতে চাকরি শুরু করেন। পরে তার চাচার উৎসাহে ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন শিল্পে যোগ দেন।

মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'আমি কখনো ভাবিনি ফুটবল তৈরি করব। এ শিল্পে আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

তবে প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনা ছিল এবং চাচার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করি।'

প্রথমদিকে উৎপাদন ছিল মাসে মাত্র এক হাজার ফুটবল। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকাও ছিল কঠিন।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়

ফরওয়ার্ড স্পোর্টসের সাফল্যের বড় মোড় আসে ১৯৯৪ সালে, যখন বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাস তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব শুরু করে।

খাজা মাসুদ আখতার বলেন, 'অ্যাডিডাসের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। কঠোর পরিশ্রম ও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের উৎপাদক হয়ে উঠেছি।'

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা

প্রথমে হাতে সেলাই করা ফুটবল উৎপাদন করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস থার্মো-বন্ডেড প্রযুক্তি, মেশিন স্টিচিং, ল্যামিনেটেড ফুটবল প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ সেন্সরযুক্ত 'ট্রিওন্ডা' বল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া

একটি বিশ্বকাপ বল তৈরি করতে সাধারণত তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। বলের গোলাকৃতি, স্থায়িত্ব, সেলাইয়ের নিখুঁততা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

ফরওয়ার্ড স্পোর্টসের কর্মীদের একটি বড় অংশ নারী। তাদের অবদানকে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করেন খাজা মাসুদ আখতার।

নারীদের জন্য পরিবহন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখনও ফুটবল তৈরির অনেক ধাপে দক্ষ কারিগরদের হাতে কাজ সম্পন্ন হয়।

আখতার বলেন, 'নারীরা আমাদের সাফল্যের বড় অংশ। সুযোগ ও সম্মান পেলে তারা অসাধারণ ফল দেখাতে পারে।'

আরও পড়ুন: বৃষ্টি বলয়ের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক নিচে এবং দেশটি কখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। কিন্তু ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে তাদের অবদান অনন্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো শিরোপা নির্ধারণী গোল হোক কিংবা টাইব্রেকারের নাটকীয় মুহূর্ত—সবকিছুর কেন্দ্রে থাকবে সিয়ালকোটে তৈরি একটি বল।

এ যেন বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য গল্প—যে দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না, সেই দেশই বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি করে।

আরও পড়ুন: মুশফিক ইনজুরিতে, সিলেট টেস্টে খেলবেন তো?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম

 ১৬ জুন, ২০২৬,মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এক যুবককে ধাওয়া করে কুপিয়ে জখম করার একটি ভিডিও এবং ছবির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গীলাতলী আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে আহত ব্যক্তি অমনি ওরফে রমেশ অভিযোগ করেন যে, স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের মাদক কারবারে তিনি বিভিন্ন সময় বাঁধা দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের দিন, ১২ জুন দিবাগত রাতে জাকির তাকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে, কিন্তু সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরের দিন, ১৩ জুন সকালে সকাল নয়টার দিকে গীলাতলী আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনের দিকে বসেছিলেন, সেই সময়ে জাকির দেশীয় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে তার (রমেশ) উপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের তৎপরতার আগেই তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে জাকির। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত রমেশের বড় ভাই অপূর্ব বাড়ৈ জানান, হামলার ঘটনা পর তিনি বাদি হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি (অপূর্ব) প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মামুন-উল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মনের গতি বুঝতে যে কৌশল নিয়েছিল ইরান: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মনের গতি বুঝতে যে কৌশল নিয়েছিল ইরান: রিপোর্ট

যুদ্ধের অবসানের উদ্দেশ্যে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান। রবিবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি কার্যকর হবে।

এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘মাইন্ডগেম’ চলছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে ইরান একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল বলেও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

জানা গেছে, বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রতিনিধিদলের মনোভাব কেমন থাকতে পারে এবং তাদের আচরণ কেমন হতে পারে সে বিষয়ে একটি ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করেছিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে দেশটি দুই মনোবিদের সাহায্য নিয়েছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইটের এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। ইরান প্রশাসনের এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইসলামাবাদে দু’দেশের প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে বসার আগে তেহরান দুইজন মনোবিদকে নিয়োগ করেছিল। যদিও ওই বৈঠকে ট্রাম্প সরাসরি অংশ নেননি। তবে আমেরিকার প্রতিনিধিরা কী বলতে পারেন, ট্রাম্পের নির্দেশ কেমন হতে পারে তা নিয়ে একটি ‘মাইন্ডগেম’ চলছিল। সেই ‘মাইন্ডগেম’-এ এগিয়ে থাকার জন্য ট্রাম্পের মনোভাব বোধ করা জরুরি ছিল বলে ওই সূত্রের দাবি।

ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রতিনিধিদলের মধ্যে দেশের দু’জন শীর্ষ মনোবিদকে রাখা হয়েছিল যাতে ট্রাম্পের মতিগতি বোঝা যায়। আর সে অনুযায়ী বৈঠকে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারা যায়। ঐ বৈঠকে বসার আগে এই বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছিল।”

সূত্রের দাবি, মনোবিদেরা যেভাবে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেভাবেই কাজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মনোবিদদের পরামর্শ ইরানের আলোচনার কৌশলেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই পরামর্শ কার্যকরও হয়েছিল বলে ওই সূত্রের দাবি হয়েছে। ওই বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

ঘটনাচক্রে দেখা গেছে, প্রথম বৈঠক শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেলেও আমেরিকা কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি, ট্রাম্প ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করার পরেও পরে আগ্রাসী কৌশল থেকে সরে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটার কৌশল নেওয়া শুরু করেন।

ইসরায়েল যদিও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কৌশল নেওয়ার পক্ষেই বারবার তাগাদা দিয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, ট্রাম্প সেই ফাঁদে পা দেননি। বরং তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তাতেই হেঁটেছেন। ফলস্বরূপ, রবিবার তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হয়।

যদিও এবারের সমঝোতা চুক্তিতে ট্রাম্পের মতিগতি বুঝতে মনোবিদদের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল কিনা সে প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনে। তবে এখন ১৯ জুনের (শুক্রবার) ওই বৈঠকের ওপরই আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। সূত্র: আইরিশ স্টার, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেলেনি বড় বিনিয়োগকারী, আটকে আছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের রেলপথ প্রকল্প”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


মেলেনি বড় বিনিয়োগকারী, আটকে আছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের রেলপথ প্রকল্প”

১৬ জুন, ২০২৬: অর্থ সংকটে আটকে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প।

২১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা চূড়ান্ত হলেও মেলেনি কোনো বড় বিনিয়োগকারী। অন্যদিকে, দীর্ঘ আট বছর আগে জমি অধিগ্রহণের তালিকায় থাকা ঘরবাড়িতে রেল কর্মকর্তাদের দেওয়া লাল নম্বরের কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে স্থানীয়দের।

সব ধরনের সংস্কার ও জমি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখনো মেলেনি ক্ষতিপূরণের টাকা। ফলে থমকে গেছে পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সাথে যুক্ত করার মহাপরিকল্পনা। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রেলপথটি বরিশাল জেলার গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল বিমানবন্দর, বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এবং মহানগরীর সাগরদী ও টিয়াখালী এলাকা ছুঁয়ে কীর্তনখোলা নদী অতিক্রম করবে। এরপর এটি দপদপিয়া হয়ে বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দিকে এগিয়ে গিয়ে শেষ হবে কুয়াকাটায়। এই রুট ম্যাপের আওতায় বরিশাল নগরীর টিয়াখালী ও দক্ষিণ সাগরদীসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকার হাজারো বাসিন্দা এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন।

রেললাইনের জমিতে নাম ওঠায় শেষ বয়সে বিপাকে পরা মহানগরীর টিয়াখালী এলাকার বৃদ্ধ সুলতান খান বলেন, আটবছর আগে তার একতলা ভবনের দেয়ালে লাল রঙ দিয়ে নম্বর লিখে গেছে রেলের লোকেরা। বলা হয়েছে, এখানে নতুন কোনো স্থাপনা করা যাবে না, বাড়ি মেরামত বা বিক্রিও করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, শেষ বয়সে এসে সন্তানদের সাথে ঢাকায় থাকতে চান। তাই প্রয়োজনে নিজের বসতভিটাসহ পাঁচ শতক জমি বিক্রি করতে চাইলেও তা পারছি না।

একই সংকটে পড়া টিয়াখালী আরেক বাসিন্দা গৃহিণী রাবেয়া বেগম বলেন, বর্ষায় ঘরের চাল দিয়ে পানি পরে। রেলের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকা বা টেকসই কোনো সংস্কার করতে পারছি না। দক্ষিণ সাগরদীর বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মচারী আমজাদ হোসেন জানান, মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য পৈতৃক জমির ১৫ শতক থেকে ৩ শতক বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রেতারা এসে যখনই দেখে ঘরবাড়িতে লাল রংয়ের নম্বর দেয়া, তখনই ফিরে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ধার করে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

সূত্রমতে, ফরিদপুরের ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০০ একর জমির মহাপরিকল্পনায় ১৯টি স্টেশন ও একটি জংশন সমৃদ্ধ এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। তবে বছরের পর বছর কাজ ঝুলে থাকায় এই ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সরকারি বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, যেকোনো মেগা প্রকল্প দীর্ঘায়িত হলে তার প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় আর ঠিক থাকেনা। মুদ্রাস্ফীতি, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাড়ার কারণে এই ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা মুশকিল।

প্রকল্পের এমন ধীরগতি এবং স্থানীয়দের ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য লাইফলাইন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মানুষকে আশার বাণী শুনিয়ে অর্থ সংকটের অজুহাত দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ তাদের নিজেদের জমি ব্যবহার করতে পারছে না, এটি চরম অন্যায়। আমরা দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত অর্থ সংস্থান করে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক, না হলে লাল নম্বর তুলে দিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সুযোগ করে দেয়া হোক।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই রেলপথটি নির্মাণ কাজ ২০২২ সালে শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৯ সালে। তবে ২১৫ কিলোমিটারের এই বিশাল প্রকল্পটির ভবিষ্যত এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বড় কোনো অর্থ সহায়তা বা ঋণের ওপর। উন্নয়ন সহযোগী না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। তবে এটি একটি বিশাল বাজেটের মেগা প্রকল্প। বর্তমানে অর্থ সংকটে প্রকল্পটি আটকে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ পি.এম


জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজা আব্বাসকে জাতীয় মহিলা সংস্থা আইন, ১৯৯১ এর ধারা-৮(১) এবং ধারা-৮(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

যোগদানের তারিখ থেকে চেয়ারম্যানের কার্যকাল পরবর্তী দুই বছরের জন্য বলবৎ থাকবে।

তবে উক্ত মেয়াদ শেষের আগে সরকার ইচ্ছে করলে যে কোনো সময় তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবে। তিনিও সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠিতে যেকোনো সময় স্বীয় পদ ছাড়তে পারবেন। উক্ত নিয়োগ অবৈতনিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%