ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ৩, আহত ৫


তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত ৩, আহত ৫

ভারী বৃষ্টির ফলে তুরস্কের পর্যটনকেন্দ্র ক্যাপাডোসিয়ায় ভূমিধসের কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক এবং বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ক্যাপাডোসিয়ার গোরেমে শহরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। শহরের উন্মুক্ত জাদুঘরের নিকটবর্তী একটি গাড়ি পার্কিং এলাকার পাশে অবস্থিত পাথরের স্তম্ভটি ভূমিধসের কারণে ভেঙে পড়ে।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে জানান, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় এবং পাঁচজন আহত হন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনের লাশ উদ্ধার করেন, ফলে নিহতের সংখ্যা তিনে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন: ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ডভাবে কমেছে, কলকাতার চিকিৎসা ও পর্যটন ব্যবসা সংকটে

নেভশেহির প্রদেশের গভর্নর হুসেইন কোক জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি দুজন তুরস্কের নাগরিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাথরের স্তম্ভটি ধসে পড়ার সময় একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ধুলায় ঢেকে যায়।

দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মীরা শক্তিশালী আলোর ব্যবস্থা করে সারা রাত ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। এই কাজে খননযন্ত্রও ব্যবহার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান শেষে গভর্নর হুসেইন কোক জানান, উদ্ধার ও তল্লাশির সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে উদ্ধারকারী দলগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানে আর অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ‘গার্ডিয়ান শার্ক’ মহড়া শুরু

তিনি আরও জানান, শুক্রবার থেকে প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, তুরস্কের ক্যাপাডোসিয়া অঞ্চল বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এই অঞ্চলটি আগ্নেয়গিরির প্রাচীন কার্যকলাপে তৈরি শঙ্কু আকৃতির পাথুরে স্তম্ভের জন্য বিখ্যাত। স্থানীয়ভাবে এসব গঠনকে ‘ফেরি চিমনি’ বলা হয়।

তথ্যসূত্র: সিএনএ

আরও পড়ুন: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিকে আরও শক্তিশালী হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে বালুর স্তূপ, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে বালুর স্তূপ, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রাস্তার সংলগ্ন বিশাল বালুর স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন ড্রেজার এবং ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে বালু এনে সড়কের পাশে স্তূপ করা হচ্ছে। বালু বিক্রি হলে সেগুলোও ট্রাকে তোলা হচ্ছে। বালুর স্তূপগুলো মূল সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায়, সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিশেষ করে, হালকা বাতাস হলেই উড়ন্ত বালু চালকদের চোখে-মুখে এসে পড়ছে। এর ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চালকদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, বালু উড়ে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ী উপজেলার সোনাদিঘী, গোপালপুর, বিজয়নগর, সারেংপুর, জৈতগশাই, সুলতানগঞ্জ, গাংগোবাড়ী ও মহিশালবাড়ীসহ প্রায় ১৫টি স্থানে মহাসড়ক ঘেঁষে এভাবে বালুর স্তূপ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় অটোরিকশাচালক দুলাল মন্তব্য করেন, "এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি। বাতাস উঠলেই বালু উড়ে চোখে ঢুকে যায়, সামনে কিছু দেখা যায় না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও মোটরসাইকেলচালক ওবাইদুল্লাহ বলেন, "রাস্তার পাশে বালুর স্তূপ থাকায় আমাদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এগুলো দ্রুত সরানো না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"

সুলতানগঞ্জ গাংগোবাড়ী এলাকার বালু ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, "রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বৈধভাবে সর্বোচ্চ দর দিয়ে আমরা ইজারা নিয়েছি। বালুর কারণে কিছুটা সমস্যা হয়, তা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি।"

গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন বিশ্বাস বলেন, "এভাবে সড়কের পাশে বালুর ব্যবসা চলায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, অথচ প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।"

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) রাজশাহী জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিক আহমেদ টিটু বলেন, "রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কটি তুলনামূলক সরু দুই লেনের। সেখানে সব সময় যানবাহনের চাপ থাকে এবং বেশ কিছু বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। বালুর ব্যবসার কারণে এখন ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বালু রাখা কিছুতেই কাম্য নয়।"

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, "মহাসড়কের পাশে বালু রেখে ব্যবসা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা সরানোর উদ্যোগ নিলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেবে।"

রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, "সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, মহাসড়কের অন্তত ৩৩ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা বা ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি নেই। নিয়ম অমান্য করে কেউ সড়কের ওপর বা পাশ ঘেঁষে বালু রাখলে, তা অপসারণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের।"

এ বিষয়ে রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, "সড়ক-মহাসড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালু স্তূপ করে ব্যবসা বা মজুত করা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। বালুর ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই তা পলিথিন বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং পরিবহনের সময়ও বালু ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ক্রিকেটে ৮ বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত, দায়িত্ব পাচ্ছেন ৮ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


নারী ক্রিকেটে ৮ বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত, দায়িত্ব পাচ্ছেন ৮ জন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির বিস্তার ঘটানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্কুল ক্রিকেট চালুর পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে কোচ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে, সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। নারী ক্রিকেটের জন্য আট বিভাগে কোচ নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে বিসিবি।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আট বিভাগে মোট আটজন প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী এবং তিনজন পুরুষ কোচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া, বিভাগীয় পর্যায়ে সহকারী কোচ ও ম্যানেজার নিয়োগের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সাবেক ক্রিকেটার এবং লেভেল-১ কোচিং সনদধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তালিকায় জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা একাধিক সাবেক ক্রিকেটারও রয়েছেন।

বিসিবির এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে নারী ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে এনে নারী ক্রিকেটের পাইপলাইন আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বোর্ড কাজ করছে।

কোন বিভাগে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন চলুন দেখে নেওয়া যাক-

ঢাকা বিভাগ

মাকসুদা লিজা : ম্যানেজার

রেশমা আক্তার আদুরী: প্রধান কোচ

নাদেজা মুনতাহা: সহকারী কোচ

বরিশাল বিভাগ

মাহমুদুল হায়দার: সহকারী কোচ

আখতারুজ্জামান নয়ন: প্রধান কোচ

মুর্শিদা নাজনীন: ম্যানেজার

চট্টগ্রাম বিভাগ

মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী: ম্যানেজার

মোহাম্মদ ইসমাইল: কোচ

পারমিতা দত্ত: সহকারী কোচ

রংপুর বিভাগ

মনিকা আক্তার আশা: ম্যানেজার

আরিফা জাহান বীথি: প্রধান কোচ

মুর্শেদা খাতুন সোমা: সহকারী কোচ

খুলনা বিভাগ

সুলতানা ইয়াসমিন: ম্যানেজার

আয়েশা রহমান শুকতারা: প্রধান কোচ

তাজিয়া আক্তার: সহকারী কোচ

সিলেট বিভাগ

আল ওয়াদুদ সুইট: প্রধান কোচ

শাহনাজ পারভীন: সহকারী কোচ

সেলিনা আক্তার চৌধুরী: ম্যানেজার

রাজশাহী বিভাগ

পান্না ঘোষ: প্রধান কোচ

মোহাম্মদ সান: সহকারী কোচ

ইমরুল কায়েস: ম্যানেজার

ময়মনসিংহ বিভাগ

মৃদুল: প্রধান কোচ

লিলি রানী বিশ্বাস: সহকারী কোচ

সুজন: ম্যানেজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের শেষ দিনেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


জাতিসংঘের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের শেষ দিনেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দেশগুলো

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্বনেতাদের নেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন কপ-১৭ এর শেষ দিনের আলোচনায় এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে জানা যায়, আর্মেনিয়ায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা ও দর-কষাকষির পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।

সরকারি ভর্তুকি কীভাবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা কমানো হবে, পৃথিবীর স্থলভাগ ও সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অর্থায়ন কীভাবে বৃদ্ধি করা হবে এবং জাতিসংঘের তহবিলশূন্য সংরক্ষণ তহবিলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবদান কীভাবে বাড়ানো যাবে—এসব বিষয়ে দেশগুলো এখনো একমত হতে পারেনি।

এছাড়া, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী নেওয়া অঙ্গীকারগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন নিয়েও কোনো সমঝোতা হয়নি। শুক্রবারের আগেই এটি অনুমোদিত হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

১৯ অক্টোবর আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে অগ্রগতি হয়েছে ধীরগতিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।

গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি আইরিন ওয়াবিউয়া বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, "আলোচনা থেকে আমাদের সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকারগুলো বেরিয়ে আসতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখা যাচ্ছে না।"

ইয়েরেভানে সম্মেলনের শেষ দিন জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক প্রধান অ্যাস্ট্রিড শুমাখার বলেন, দেশগুলোকে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে সাহসী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে হবে। জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কনভেনশনের নির্বাহী সচিব শুমাখার বলেন, "আমাদের সামনে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শেষ করতে এখন ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।"

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে

২০২২ সালে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ প্রকৃতির অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বন্ধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করেছিল। ওই চুক্তিকে ‘প্রকৃতির জন্য প্যারিস চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

এই চুক্তির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ২৩টি বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ, পরিবেশদূষণ ও ক্ষতিকর আগ্রাসী প্রজাতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

তবে দ্বিবার্ষিক এ সম্মেলনের আগে জাতিসংঘের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘বৈশ্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা’। এর মাধ্যমে পিছিয়ে থাকা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথা।

কিন্তু কয়েক দিনের দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ফনা অ্যান্ড ফ্লোরার প্রতিনিধি ক্যাথরিন ওয়েলার বলেন, "আমাদের গ্রহের মূল্যবান জীববৈচিত্র্য যখন চারদিক থেকে ক্রমাগত ধ্বংসের মুখে পড়ছে, তখন এই সুযোগকে কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেওয়া যায় না।"

বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমে অর্থ জোগানোর নতুন উৎস খুঁজে বের করাও সম্মেলনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় বিষয়টি নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও জটিল হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনসহ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী উদীয়মান দেশগুলোকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়নে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে।

এ ছাড়া ‘ক্যালি ফান্ড’ নামে জাতিসংঘের একটি তহবিলকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগও বাধার মুখে পড়েছে। উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীবের জিনগত তথ্য ব্যবহার করে মুনাফা অর্জনকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এই তহবিল গঠন করা হয়েছে।

২০২৫ সালের শুরুতে চালু হওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য বছরে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এতে জমা পড়েছে মাত্র প্রায় ১০ হাজার ডলার।

এর আগে ২০২৪ সালে কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জীববৈচিত্র্য সম্মেলনেও সংরক্ষণ কার্যক্রমে অর্থায়ন নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘ দর-কষাকষি হয়। নির্ধারিত সময়ের পরও আলোচনা চললেও কোনো চুক্তি ছাড়াই সম্মেলন শেষ হয়। পরে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে রোমে পুনরায় আলোচনা শুরু হলে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।

এদিকে শুক্রবারের সম্মেলনে ২০২৮ সালে পরবর্তী জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে পানামা নাকি ইকুয়েডরকে নির্বাচন করা হবে, সে সিদ্ধান্তও নেওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় দুই বৌদ্ধবিহারের কঠিন চীবরদান পরিদর্শনে জোন কমান্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


দীঘিনালায় দুই বৌদ্ধবিহারের কঠিন চীবরদান পরিদর্শনে জোন কমান্ডার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবরদান উপলক্ষে দীঘিনালা বনবিহার ও কামুকাছড়া বনবিহার পরিদর্শন করেছেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি।

বৃহস্পতিবার রাতে তিনি পৃথকভাবে দুই বিহার পরিদর্শন করেন। এ সময় বিহারে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং উৎসবের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে দীঘিনালা জোনের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর মো. তৌকির আহমেদ, এসইউপি, পিএসসি, দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী, জনপ্রতিনিধি, বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে বিহার পরিচালনা কমিটির হাতে প্রীতি উপহার তুলে দেওয়া হয়।

জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে দীঘিনালা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ধর্মীয় উৎসবে জোন কমান্ডারের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে স্থানীয়দের মধ্যে আন্তরিকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%