ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষকদের ওপর বিএসএফের হামলা, স্থানীয়দের ধাওয়ায় অস্ত্র ফেলে পালাল সদস্যরা


কৃষকদের ওপর বিএসএফের হামলা, স্থানীয়দের ধাওয়ায় অস্ত্র ফেলে পালাল সদস্যরা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী সীমান্তে বিএসএফের অনধিকার প্রবেশ ও কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনতা যখন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি-আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকার শূন্য লাইন সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি-আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকার শূন্য লাইন সংলগ্ন বাংলাদেশি কৃষকরা নিজেদের জমিতে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। এ সময়, ভারতীয় কুচলিবাড়ী বিএসএফ ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য আইনগত কারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএসএফ সদস্যরা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই মাঠে কর্মরত সাধারণ কৃষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং মারধর শুরু করেন। কৃষকদের আত্মচিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর

গ্রামবাসীর সম্মিলিত ধাওয়া ও তুমুল প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত দুটি সরকারি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে অবহিত করেন। বনচৌকি ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকিগুলো নিরাপদে উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার জন্য বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং নিরীহ কৃষকদের ওপর হামলার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈঠকে বিএসএফের প্রতিনিধিরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। আলোচনার পর বন্ধুসুলভ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিজিবি কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকৃত দুটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি বিএসএফের নিকট বুঝিয়ে দেন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং বিজিবির কড়া টহল অব্যাহত রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সুখবর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সুখবর!

নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে।

এর আগে আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনার কারণে তা পিছিয়ে যায়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির কাজও শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে আরও একটি বৈঠকের পর প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় যাবে। চলতি বছরের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে আর্থিক সংকটের কারণে নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হতে পারে।

এদিকে পে কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


রাসূলের শিক্ষায় পরিচালিত হলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে শিক্ষা মানব জাতীকে দিয়ে গিয়েছেন সেই শিক্ষা পরিচালিত করতে পারলে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। 

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। 
মঈন খান বলেন, মহানবী পৃথিবীতে সাম্যের অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যার মাধ্যমে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান দূর করা সম্ভব। 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন তা ইসলামের আদর্শকে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি তারেক রহমান দিয়েছিল তা মাত্র ছয় মাসে মধ্যে একটি একটি করে পূরণ করছেন তিনি। 

পলাশ উপজেলার বিএনপির সভাপতি আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টনের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, মিলেনিয়ান ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোকসেনা খন্দকার, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জাল হোসেন মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাক সাইফুল হক, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। 

আলোচনা সভা শেষে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিশেষ দোয়া করা হয়। এর আগে দুপুরে ড. মঈন খান নেতাকর্মীদের নিয়ে চরনগর্দীর নিজ গ্রামে পিতা মরহুম মোমেন খান ও খোরশেদা বানুর কবর জিয়ারত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুবিতে দুই বছরেও সম্পন্ন হয়নি ৩৫ লাখ টাকার বাস্কেটবল কোর্ট, আক্ষেপ শিক্ষার্থীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ পি.এম


কুবিতে দুই বছরেও সম্পন্ন হয়নি ৩৫ লাখ টাকার বাস্কেটবল কোর্ট, আক্ষেপ শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাস্কেটবল কোর্টের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার দুই বছরেও হয়নি শেষ। ফলে বাস্কেটবলের বদলে সেই কোর্টেই ক্রিকেট খেলছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামোর অভাবে ক্যাম্পাসে খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণেও পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের মার্চে কাজ শুরু করে এবং চুক্তি অনুযায়ী একই বছরের ১৩ জুলাই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটি কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যায়।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, কোর্টে কেবল মাটির ভিত্তি ও দুই পাশে দুটি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো কোর্টের ফিনিশিং, বাস্কেটবল পোস্ট, রিং ও নেট স্থাপন করা হয়নি।

প্রকৌশল দপ্তর আরও জানায়, বাস্কেটবল কোর্টের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের ছয়টি গ্যালারি নির্মাণের কাজও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মাঠের গ্যালারির কাজের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বাস্কেটবল কোর্টের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭১ শতাংশ।

জানা গেছে, কুবির কেন্দ্রীয় মাঠের গ্যালারি ও বাস্কেটবল কোর্টের জন্য প্রকল্প বরাদ্দ ছিল ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭১৯ টাকা। এর মধ্যে বাস্কেটবল কোর্টের নির্মাণকাজে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৫ লাখ টাকা। দুটি কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৯ টাকা পরিশোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। 
 
দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীরা। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, “এতদিন ধরে বাস্কেটবল কোর্টের কাজ বন্ধ থাকলেও এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও কাজটি বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পাশাপাশি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায়ও কুবির শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। আমার বিনীত আহ্বান, দ্রুত বাস্কেটবল কোর্টের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।”
 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি এইচ. এম. পিয়াস বলেন, বাস্কেটবল কোর্ট ও গ্যালারির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা আগের প্রশাসনের কাছে একাধিক বার দাবি জানিয়েছিলাম। তারা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। কোর্ট না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অনুশীলন করতে পারছে না। এর ফলে আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবল টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠন পর্যন্ত করতে পারছি না। বর্তমান প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস.এম. শহীদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব খাতের কাজ ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে হয়। নির্ধারিত এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে বরাদ্দের অর্থ পুনরায় সরকারের রাজস্ব খাতে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি। ফলে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার অবশিষ্ট অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে ফেরত চলে গেছে। পরবর্তীতে চাহিদার ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ হলে পূনরায় নির্মাণকাজ শুরু হবে।
 
এ বিষয়ে জানার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং' এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস্কেটবল কোর্টের কাজ বন্ধ আছে সে ব্যাপারে আমি অবগত আছি। বাস্কেটবল মাঠের নির্মাণকাজ এ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আল-জাজিরার প্রতিবেদন

ট্রাম্পের কোরিয়া চালেই বদলে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ার শক্তির সমীকরণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ পি.এম


ট্রাম্পের কোরিয়া চালেই বদলে যাচ্ছে পূর্ব এশিয়ার শক্তির সমীকরণ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কোরিয়া নীতি ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন করে যোগাযোগের উদ্যোগ পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক মহড়া সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত, পিয়ংইয়ংয়ের সতর্ক প্রতিক্রিয়া, চীনের কৌশলগত অবস্থান এবং জাপানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে নতুন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মিত্রদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে চীন তার আশপাশের অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জাপানের সামরিক উত্থান ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) সামরিক মহড়ার মেয়াদ ১১ দিন থেকে কমিয়ে পাঁচ দিন করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয় সিউল। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং থেকেও আসে সতর্ক ও হিসাবি প্রতিক্রিয়া।

ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিমকে তিনি ‘খুব ভালোভাবে চেনেন’ এবং তাদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে।

ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা পাঠায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সব দেশকে রক্ষা করে বেড়াতে পারে না’, বিশেষ করে যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন জোটগুলোর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গির লেনদেনভিত্তিক চরিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


ট্রাম্পের এই উদ্যোগে উত্তর কোরিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিলেও কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বেশ সতর্ক অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে কোনও যোগাযোগ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি ‘অবগত নন’। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের দাবি করা ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ যোগাযোগের বিষয়টি কার্যত খণ্ডন করেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিম জং উনের মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ‘ভালো স্মৃতি ও অনুভূতি’ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এবার শর্তও ভিন্ন।

উত্তর কোরিয়া চায়, ওয়াশিংটন দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিক এবং পিয়ংইয়ংয়ের ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতাপূর্ণ নীতি’ পরিত্যাগ করুক।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে ভবিষ্যতে ট্রাম্প-কিম বৈঠক হলেও দুই পক্ষের অবস্থান না বদলালে তা বাস্তব অগ্রগতির বদলে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য নতুন যোগাযোগের বিষয়ে চীন প্রকাশ্যে তুলনামূলকভাবে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সম্ভাব্য ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় বেইজিংয়ের বৃহত্তর অবস্থান স্পষ্ট হয়।

ওয়াং ই দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘প্রকৃত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশটিকে কোনও সামরিক জোটভিত্তিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া বা পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

চীন-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ রূপান্তর ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াং ই তার বক্তব্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের কথা উল্লেখ করেননি। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার বহুপক্ষীয় শান্তি উদ্যোগকেও সরাসরি সমর্থন দেননি। বরং তিনি কোরীয় উপদ্বীপে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে বেইজিং হয়তো কোরীয় উপদ্বীপে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের স্থায়ী বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার দিকে আরও এগোচ্ছে। অর্থাৎ এত দিন কূটনীতির কেন্দ্রে থাকা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি চীনের কাছে আগের মতো অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।

এদিকে ওয়াশিংটনের অবস্থানেও কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ২৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফোনালাপের বিবরণে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর উত্তর কোরিয়ার ‘পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’-এর কোনও উল্লেখ করেনি। অথচ ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ত্রিপক্ষীয় বিবৃতিগুলোতে এ শব্দবন্ধ নিয়মিতই ব্যবহৃত হয়েছে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জাপানের ‘ডানপন্থী শক্তিগুলোর ইতিহাসের গতিপথ পাল্টানোর প্রচেষ্টার’ বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “জাপানি সামরিকতাবাদকে কখনওই আবার উত্থানের সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

ওয়াংয়ের এই মন্তব্য মূলত জাপানের দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই ইঙ্গিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করছে। গত ৩১ জুলাই দেশটি জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো চালু করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের ওপর প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

জাপানের মূল প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড ৯ দশমিক ০৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে বা প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দেশটির দাবি, প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট সামগ্রিক ব্যয় ইতোমধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে পৌঁছে গেছে—যা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে নতুন কর আরোপের বিষয়টিও জাপানের আর্থিক নীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

জাপানের এই সামরিক উত্থানে উত্তর কোরিয়াও ক্ষুব্ধ। কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, টোকিও কোনও ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিলে তার পরিণতি হবে ‘তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক’ হামলা।
চীনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়; বরং টোকিও কতটা স্বাধীনভাবে এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে জাপান ধীরে ধীরে সামরিক সক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অস্ত্র রফতানির নিয়ম শিথিল করা এবং মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ, কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও আইএইচআইয়ের মতো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এর উদাহরণ। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অর্ডারের পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৩৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

চীনের আশঙ্কা, দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়ানো জাপান ভবিষ্যতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং স্বাধীন বৃহৎ শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাববলয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পর দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যুদ্ধকালীন সময়ে দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন করে জোরদারের কথা বলেন।

একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।

তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বজায় রেখেও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের স্বাধীন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।


পূর্ব এশিয়ার নতুন বাস্তবতার কেন্দ্রে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ত্রিভুজ তৈরি হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীন।

একদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্রমেই লেনদেনভিত্তিক হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জাপান দ্রুত নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

চীন একই সময়ে নিজের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে এবং জাপানের সামরিক ও রাজনৈতিক ডানমুখী পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে।

এই সমীকরণের মাঝখানে দক্ষিণ কোরিয়াকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তা, বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং টোকিওর দ্রুত সামরিক উত্থান।


বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তবে কয়েকটি সম্ভাবনা স্পষ্ট।

ট্রাম্পের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের নতুন করে সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ যদি বাস্তব ফল না আনে, তাহলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি আরও এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সুরক্ষা পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক চাপ থেকে আরও দূরে রাখবে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন যদি দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে সফল হয়, তাহলে সিউল মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাইওয়ান—বিভিন্ন সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে।

আর জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোও বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।


চীনের শেনজেনে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলন এই নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

সম্ভাবনা রয়েছে, সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এবং সম্ভব হলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও একই শহরে উপস্থিত থাকতে পারেন।

এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতা তৈরির ক্ষেত্রে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পেতে পারে। তবে সম্মেলনটি যদি প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদ ও পরস্পরবিরোধী কৌশলগত অবস্থান প্রদর্শনের আরেকটি মঞ্চে পরিণত হয়, তাহলে পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৭৫ বছর ধরে পূর্ব এশিয়াকে স্থিতিশীল রাখা পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি এখন নড়বড়ে হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা নিজেদের নির্ভরতার সীমা নতুন করে পরীক্ষা করছে, জাপান যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক বিধিনিষেধ কাটিয়ে উঠছে এবং চীন নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা নিজের অনুকূলে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

ফলে পূর্ব এশিয়া এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যেখানে ওয়াশিংটনের এককভাবে আঞ্চলিক নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা কমছে, মিত্ররা আরও স্বাধীন হওয়ার পথ খুঁজছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক ব্যবস্থা নিজেদের মতো করে সাজাতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%