০৯:৩৪ পি.এম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী সীমান্তে বিএসএফের অনধিকার প্রবেশ ও কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনতা যখন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন বিএসএফ সদস্যরা দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি-আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকার শূন্য লাইন সংলগ্ন এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি-আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকার শূন্য লাইন সংলগ্ন বাংলাদেশি কৃষকরা নিজেদের জমিতে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। এ সময়, ভারতীয় কুচলিবাড়ী বিএসএফ ক্যাম্পের কয়েকজন সদস্য আইনগত কারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএসএফ সদস্যরা কোনো প্ররোচনা ছাড়াই মাঠে কর্মরত সাধারণ কৃষকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং মারধর শুরু করেন। কৃষকদের আত্মচিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
আরও পড়ুন: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পাশে ছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনেও তাঁরা পাশে ছিলেন : প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর
গ্রামবাসীর সম্মিলিত ধাওয়া ও তুমুল প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত দুটি সরকারি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে অবহিত করেন। বনচৌকি ক্যাম্পের বিজিবি টহল দল মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকিগুলো নিরাপদে উদ্ধার করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার জন্য বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ এবং নিরীহ কৃষকদের ওপর হামলার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। বৈঠকে বিএসএফের প্রতিনিধিরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। আলোচনার পর বন্ধুসুলভ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিজিবি কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকৃত দুটি শর্টগান ও ওয়াকিটকি বিএসএফের নিকট বুঝিয়ে দেন। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং বিজিবির কড়া টহল অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন