রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৭ পি.এম
মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে নোয়াখালীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করায় ১৩ শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আসরের নামাজের পর নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল ফালাহ জামে মসজিদে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মসজিদের ইমামের সংরক্ষিত হাজিরা খাতা অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ১৩ শিশু-কিশোর টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেছে। অনুষ্ঠানে তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রত্যেকের হাতে একটি করে বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।
এসময় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, সমাজে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে শিশু-কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। ভালো উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে উঠবে। পাশাপাশি তারা মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাংয়ের মতো কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কিনশাসার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা লিংওয়ালার একটি পার্টি হলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় মেয়র কার্যালয়ের বিবৃতির বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সি(এসিপি) জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিনশাসা পৌর কর্তৃপক্ষের বরাতে এসিপি জানিয়েছে, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা বৈদ্যুতিক কোনো ত্রুটি বা বিয়ের অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা-সংক্রান্ত কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।নিহতদের মধ্যে ছিলেন কঙ্গোলিজ ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (আরটিএনসি) ক্যামেরাম্যান গাই কিটোকো আলোমা। তিনি অতিথি হিসেবে ওই বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন।
এদিকে কঙ্গোর উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়া, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আজ (রোববার) বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে, বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করার জন্য এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নাই। তাই লোকের কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।"
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’
তিনি এসময় চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন, যা কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের স্থানীয়ভাবে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’
এসময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।
তরুণ সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার এবং জেলাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তিনি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, কিংবা প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারের একটা সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁয়ে কোন সংঘাত কোন সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, দলের মতবাদ প্রচার করবেন কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।’
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের ওপর হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেন এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অফ রিকনসলেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরুব্বি, শিক্ষকসহ তাঁর জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজারে একটি ছাত্রী মেস থেকে র্যাব পরিচয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই তারা চলে যান বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ছোট বোনের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
এদিন সকালে কলতাবাজারের জনসন রোডের লবণের গুদাম গলির একটি ছাত্রী মেসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মমতাজ আরা বর্ষা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ আরা বর্ষা দাবি করেন, চলতি বছরের মে মাসে তার ছোট বোনের সঙ্গে সুমন মিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই সুমন তাদের পরিবার ও তার বোনকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। গত মাসে দিনাজপুর জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুমনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে তাদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন বর্ষা।
তিনি বলেন, ভোরে সিভিল পোশাকে কয়েকজন তাদের ফ্ল্যাটের দরজায় এসে র্যাবের পরিচয় দেন। তবে তারা কোনো আইডি কার্ড, মামলা বা ওয়ারেন্ট দেখাননি। বারবার ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলেও তারা তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বাসা তল্লাশি করেন।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বর্ষা।
মেসের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভোর পৌনে ৬টার দিকে র্যাবের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন সিভিল পোশাকের ব্যক্তি সেখানে আসেন। তারা মেসে তল্লাশি করার কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন। এমনকি দরজার লক ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আরও একজন বলেন, পরবর্তীতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। এর মধ্যে র্যাবের পরিচয়ে আরও কয়েকজন সেখানে আসেন। মোট চারটি গাড়ি এসেছিল। একপর্যায়ে মমতাজ আরা বর্ষাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। প্রথমে সেখানে ‘দুইজন সন্ত্রাসী’ থাকার কথা বলা হলেও পরে ৩০ লাখ টাকা চুরির মামলার কথা বলা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে আসেন। র্যাবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র্যাবের সদস্যরা আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। ঘটনাটি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থী কোনো অপরাধ করলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যকে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অধ্যাপক তারেক বিন আতিক আরও বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আসা ব্যক্তিরা র্যাবের সদস্য ছিলেন এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিলেন। পরে পুলিশ জানতে পারে, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মমতাজ আরা বর্ষার বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে।
তবে সুমন মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘একজন পুলিশ সদস্য আমার সামনে থাকা এক বড় ভাইয়ের পেটে কোমরে থাকা পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিল, পেছনে চলে যা, নয়তো গুলি করে দেব।’— এই বক্তব্যটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রদত্ত জবানবন্দিতে তুলে ধরেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী মো. শাকিল আহম্মেদ।
রবিবার, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রসিকিউশনের ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে শাকিল জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরদিন স্টেডিয়ামের সামনে গিয়ে তিনি দেখেন, পুলিশ ও সাদা পোশাকধারীরা ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে। আন্দোলনকারীরা মিরপুর-১০ নম্বরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে পুলিশ তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এ সময় এক পুলিশ সদস্য পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়।
তিনি আরও জানান, পাশের রাস্তা দিয়ে মিরপুর-১০ নম্বরে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন। ফলপট্টি এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি দেখেন, পুলিশ, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। তার সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান আন্দোলনকারী মোস্তাকিন বিল্লাহ। তাকে সরিয়ে নেওয়ার সময় আরও একজনকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেন। পরে জানতে পারেন মোস্তাকিন মারা গেছেন।
শাকিল বলেন, ৪ আগস্ট আবারও মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে গেলে একই ধরনের হামলার মুখে পড়েন। পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ একজনকে সাহায্য করতে গিয়ে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি বাম নিতম্ব দিয়ে ঢুকে পেটের ভেতর দিয়ে ডান পায়ের গোড়ার দিকে বের হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন তার মনে হয়েছিল, মারা গেলে হয়তো লাশও গুম হয়ে যাবে। তাই আশপাশের লোকজনকে মায়ের ফোন নম্বর দিয়ে দেন এবং কয়েকবার কালেমা পাঠ করেন। পরে তাকে প্রথমে মিরপুরের একটি হাসপাতালে এবং এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে শাকিল জানান, দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। মলদ্বার সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ডাইলেশনের মাধ্যমে শারীরিক প্রয়োজন সারতে হয়। ডান পায়ের প্রধান ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শক্ত খাবার খেতে পারেন না, অধিকাংশ সময় তরল খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডেও যেতে হয়েছে তাকে।
সাক্ষ্যে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গু হয়েছেন। এসব ঘটনার মূল কারণ ছিল ১৯ জুলাই কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত।
শাকিলের দাবি, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং ভাইরাল হওয়া অডিওর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কারফিউ জারির পেছনে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের ভূমিকা ছিল। তাদের পরামর্শেই পতিত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা কারফিউ জারিতে সম্মত হন। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর সাহস পায়।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের নির্দেশনা ও কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ