বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ এম
২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে, দেশের বাজারে বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে। একদিনের ব্যবধানে ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে, বুধবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দাম সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। এর আগে, ২১ জুলাই বাংলাদেশের জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। ওই দিন ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আরও উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, চলতি বছর দেশে ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৭ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানোর ঘটনা ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি, মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও প্রদান করা হয়েছে।
কারাগারে পাঠানো আসামির নাম আমিনুর রহমান (৫৫)। তিনি মামলার বাদী ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই। বুধবার (২২ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের পল্লবী জোনাল দলের উপপরিদর্শক রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানালে ঢাকার মহানগর হাকিম কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে সেই আবেদনটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে, আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার একটি বাসায় তার বোনের সঙ্গে ছিলেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, একপর্যায়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং গাজী নজরুলকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওবায়দুরকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, পরবর্তীতে একটি চক্র গাজী নজরুল ও ওই নারীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। গাজী নজরুলের সন্দেহ হয়, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
এই বিতর্কের জেরে ১৪ জুলাই গাজী নজরুলের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলার উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে, ওই দিন আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিদের সহায়তায় তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। সে সময় তার মা ও ছোট বোন চিৎকার দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে, আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। ফলশ্রুতিতে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এর আগে, গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি এক পোস্টে ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন এবং ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে উল্লেখ করেন।
ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হওয়া বিতর্কের মধ্যে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার (২২ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে আকারভেদে ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দেশে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়েছে। গত দেড় দশকে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প খাত জাহাজভাঙা শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ অর্জনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রত্যেকটি গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোক্তারা ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ করছেন। কিন্তু তাতেও দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জাহাজভাঙার ইয়ার্ডে ২৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের অদক্ষতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ কম হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।
পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সম্মতভাবে স্ক্র্যাপ জাহাজ (পুরাতন) ভাঙার জন্য ২০২০ সালে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত হংকং কনভেনশন অনুযায়ী কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইয়ার্ডের আন্তর্জাতিক সনদ পায়। জুন মাস থেকে বাংলাদেশের অনুসমর্থন কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে গ্রিন সনদপ্রাপ্ত ইয়ার্ডের সংখ্যা ২৫টি।
সর্বশেষ ১৮ মার্চ সীতাকুণ্ডের উত্তর সলিমপুরে এনবি স্টিল ও দক্ষিণ শীতলপুরে আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন সনদ অর্জন করে। এর মধ্যে আরব শিপব্রেকিংকে আন্তর্জাতিক মানের দাবিদাওয়ার জন্য ইয়ার্ডের অবকাঠামো খাতে ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) জানাচ্ছে, গত ছয় বছরে যেসব ইয়ার্ড গ্রিন সনদ পেয়েছে, সেগুলোর অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে আধুনিক ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি, উন্নত মেঝে, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।
কিন্তু গ্রিন ইয়ার্ডের এ আয়োজনের পরেও শ্রমিকের নিরাপত্তা বাড়ছে না। উল্টো চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি দুর্ঘটনার খবর দিয়েছে।
রিপোর্টে দেখা যায়, এসব দুর্ঘটনার ৮০ শতাংশের কারণে ঘটে গিয়েছে ওপর থেকে গার্ডার কিংবা অন্যান্য ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন হুক খুলে যাওয়া এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে কাটারম্যান, কাটার ও ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে অনিরাপদ আচরণ, কর্মপরিবেশের অনিরাপদ অবস্থা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব দায়ী বলে জানা গেছে।
বিলস সূত্র অনুযায়ী, গত দেড় দশকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের এসব ইয়ার্ডে ২ শতাধিক দুর্ঘটনায় শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫ শতাধিক। ২০২৩ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ২৮ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হন। ২০২৫ সালে ৪৮টি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও ৫৮ জন আহত হন। এছাড়া ২০২০ সালে ১০ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে ১৮ জন এবং ২০১৬ সালে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্যও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। তিনশো বছরের জন্মদিন আগেই পেরিয়ে এসেছে এই স্থান।
তবুও এদেশে যন্তর মন্তর নামটি আজও উচ্চারিত হয় প্রায় নিয়মিত। কেননা দিল্লিতে যেকোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে ককরোচদের আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রস্থল এ স্থানই।
কিন্তু কেন দিল্লিতে বিক্ষোভ বা জন সমাবেশ মানেই যন্তর মন্তর?
ন্যায্য বিচারের দাবিতে ন্যাংতম বিতর্কের প্রতিবাদ হিসেবে যন্তর মন্তরে ব্যাপকভাবে অনশন করছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, এবং সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেছেন। এ প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যন্তর মন্তর। সাম্প্রতিক বহু বিক্ষোভের মতো এবারও এ স্থানটিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
অথচ যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। কবে থেকে শুরু হল এ বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সে বছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
গত শতকের নয়ের দশকের আগে দিল্লিতে মুখ্য প্রতিবাদের স্থল হিসেবে বোট ক্লাব ব্যবহৃত হত। সেখানকার লনেই জমায়েত করতেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৮৮ সালে বিষয়টি চরমে ওঠে যখন ৫ লক্ষ কৃষক জমায়েত করেন। ফলস্বরূপ, চারপাশ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে বোট ক্লাবে জমায়েত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে, এবং এটি কার্যকর করা হয় ১৯৯৩ সালে।
রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও, প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এ স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।
আসলে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব অনেকটাই। ফলে এখানে বিক্ষোভজনিত যানজট ইত্যাদির প্রভাব ওই অঞ্চলে পড়ে না। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখানে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। যদিও তা করতে হবে আইন মেনে।
চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের পরোক্ষভাবে 'তেলাপোকা' (ককরোচ) ও সমাজের পরজীবী বলে উল্লেখ করেন। চরম এ অপমানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজ) গঠন করেন। অতি দ্রুত ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
২০ জুলাই (সোমবার) সিজেপির ডাকে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুরো মধ্য দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে পড়ে। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পুলিশের নজিরবিহীন সহিংসতার পর আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন যে তারা আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করবেন না। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্য প্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বাধিক দাম।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নতুন করে ইরানে হামলা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এর আগে আগের দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ