বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ এম
গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে আকারভেদে ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ হচ্ছে। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দেশে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়েছে। গত দেড় দশকে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৫ শতাধিক আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প খাত জাহাজভাঙা শিল্প। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা গ্রিন ইয়ার্ডের সনদ অর্জনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রত্যেকটি গ্রিন ইয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোক্তারা ৫০-১০০ কোটি টাকার বেশিও খরচ করছেন। কিন্তু তাতেও দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জাহাজভাঙার ইয়ার্ডে ২৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকদের অদক্ষতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ কম হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।
পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিকের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ সম্মতভাবে স্ক্র্যাপ জাহাজ (পুরাতন) ভাঙার জন্য ২০২০ সালে গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রচলন শুরু হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত হংকং কনভেনশন অনুযায়ী কেবল দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন ইয়ার্ডের আন্তর্জাতিক সনদ পায়। জুন মাস থেকে বাংলাদেশের অনুসমর্থন কার্যকর হওয়ার পর গ্রিন ইয়ার্ডের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে গ্রিন সনদপ্রাপ্ত ইয়ার্ডের সংখ্যা ২৫টি।
সর্বশেষ ১৮ মার্চ সীতাকুণ্ডের উত্তর সলিমপুরে এনবি স্টিল ও দক্ষিণ শীতলপুরে আরব শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রিন সনদ অর্জন করে। এর মধ্যে আরব শিপব্রেকিংকে আন্তর্জাতিক মানের দাবিদাওয়ার জন্য ইয়ার্ডের অবকাঠামো খাতে ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) জানাচ্ছে, গত ছয় বছরে যেসব ইয়ার্ড গ্রিন সনদ পেয়েছে, সেগুলোর অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে আধুনিক ক্রেন, ভারী যন্ত্রপাতি, উন্নত মেঝে, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।
কিন্তু গ্রিন ইয়ার্ডের এ আয়োজনের পরেও শ্রমিকের নিরাপত্তা বাড়ছে না। উল্টো চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি দুর্ঘটনার খবর দিয়েছে।
রিপোর্টে দেখা যায়, এসব দুর্ঘটনার ৮০ শতাংশের কারণে ঘটে গিয়েছে ওপর থেকে গার্ডার কিংবা অন্যান্য ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন হুক খুলে যাওয়া এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে কাটারম্যান, কাটার ও ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা অবস্থান করছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে অনিরাপদ আচরণ, কর্মপরিবেশের অনিরাপদ অবস্থা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব দায়ী বলে জানা গেছে।
বিলস সূত্র অনুযায়ী, গত দেড় দশকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের এসব ইয়ার্ডে ২ শতাধিক দুর্ঘটনায় শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৫ শতাধিক। ২০২৩ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ২৮ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হন। ২০২৫ সালে ৪৮টি দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও ৫৮ জন আহত হন। এছাড়া ২০২০ সালে ১০ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০১৮ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে ১৮ জন এবং ২০১৬ সালে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্যও জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৭২৪ সালে স্থাপিত হয় যন্তর মন্তর। তিনশো বছরের জন্মদিন আগেই পেরিয়ে এসেছে এই স্থান।
তবুও এদেশে যন্তর মন্তর নামটি আজও উচ্চারিত হয় প্রায় নিয়মিত। কেননা দিল্লিতে যেকোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে তা প্রদর্শনের স্থান হিসেবে জায়গাটিকে বেছে নেওয়া হয়। এ মুহূর্তে ককরোচদের আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। কেন্দ্রস্থল এ স্থানই।
কিন্তু কেন দিল্লিতে বিক্ষোভ বা জন সমাবেশ মানেই যন্তর মন্তর?
ন্যায্য বিচারের দাবিতে ন্যাংতম বিতর্কের প্রতিবাদ হিসেবে যন্তর মন্তরে ব্যাপকভাবে অনশন করছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে, এবং সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেছেন। এ প্রতিবাদের ক্ষেত্র হিসেবে আলোচিত হচ্ছে যন্তর মন্তর। সাম্প্রতিক বহু বিক্ষোভের মতো এবারও এ স্থানটিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।
অথচ যন্তর মন্তর আসলে জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। কিন্তু আজ তা বিক্ষোভের স্থল হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। কবে থেকে শুরু হল এ বিষয়টি? এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালে। সে বছর সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আর তার ফলে নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার ও শহরের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে যন্তর মন্তর রোডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রীয় স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
গত শতকের নয়ের দশকের আগে দিল্লিতে মুখ্য প্রতিবাদের স্থল হিসেবে বোট ক্লাব ব্যবহৃত হত। সেখানকার লনেই জমায়েত করতেন বিক্ষোভকারীরা। ১৯৮৮ সালে বিষয়টি চরমে ওঠে যখন ৫ লক্ষ কৃষক জমায়েত করেন। ফলস্বরূপ, চারপাশ যেন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সেই সময় থেকে বোট ক্লাবে জমায়েত নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতে থাকে, এবং এটি কার্যকর করা হয় ১৯৯৩ সালে।
রাজধানীতে যে কোনও ধরনের জনসভা বা প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তর একটি সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে যন্তর মন্তরে চলতে থাকা সিজেপির দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কর্মসূচির ক্ষেত্রে কোলাহল ও যানজটের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবুও, প্রশাসনের কাছে নিজেদের কথা পৌঁছে দিতে চাওয়া নাগরিকদের কাছে এ স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।
আসলে দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব অনেকটাই। ফলে এখানে বিক্ষোভজনিত যানজট ইত্যাদির প্রভাব ওই অঞ্চলে পড়ে না। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখানে করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। যদিও তা করতে হবে আইন মেনে।
চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের পরোক্ষভাবে 'তেলাপোকা' (ককরোচ) ও সমাজের পরজীবী বলে উল্লেখ করেন। চরম এ অপমানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ১৬ মে সম্পূর্ণ ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজ) গঠন করেন। অতি দ্রুত ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এ দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
২০ জুলাই (সোমবার) সিজেপির ডাকে প্রায় ২০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুরো মধ্য দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে পড়ে। যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পুলিশের নজিরবিহীন সহিংসতার পর আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন যে তারা আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করবেন না। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট ও শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্য প্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত ৮ জুনের পর সর্বাধিক দাম।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নতুন করে ইরানে হামলা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এর আগে আগের দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে আবাসিক হোটেল থেকে একজন নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের সঙ্গে হোটেলে যে ব্যক্তিটি অবস্থান করছিল, তাকে খুঁজছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে মহানগরীর বাসন থানার চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় ‘ই ভ্যালি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শান্তা বেগম (৩৩) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি কিছুদিন আগে লিখন মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে ওঠেন। তবে ঘটনার সাথে সাথে ওই ব্যক্তি পলাতক হয়ে গেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় লিখন মিয়া একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যথাযথভাবে যাচাই বা সংরক্ষণ না করেই হোটেল কর্তৃপক্ষ কক্ষ ভাড়া দিয়েছে।
বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুপক জানান যে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আসার পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলা দায়ের করা হবে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য এবং পলাতক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় দ্রত উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের হতাশা কাটিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই সফরে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। দেশে ফেরার ফ্লাইটে ওঠার ঠিক মুহূর্তে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্ল Claudio তাপিয়া এবং তোভিগিনোর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে ও ক্লারিন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটির কারণে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিনিধিদল বহনকারী চার্টার ফ্লাইট প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বে উড্ডয়ন করে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, আর্জেন্টাইন দলটি যখন তাদের ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ফেডারেল এজেন্টরা একটি বাসের ভেতরে তাপিয়া ও তোভিগিনো উভয়কে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে প্রশ্ন করেছেন।
জানা গেছে, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেনের সম্পর্কিত চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই তাপিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাপিয়াকে তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘ মেয়াদে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের স্পনসরশিপ, প্রীতি ম্যাচ আয়োজন এবং সম্প্রচার স্বত্বের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় দলের স্পনসরদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক মিলিয়ন ডলার ওই প্রতিষ্ঠানের মিয়ামিভিত্তিক ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে, কিন্তু সেইসব তথ্য আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আর্থিক বিবরণীতে প্রতিফলিত হয়নি।
এ ছাড়া তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত হয়েছে আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির দায়ের করা প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলার মাধ্যমে। তার অভিযোগ, ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ক্ল তাপিয়াও গণমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করেননি।
এখন পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন। কোনও আদালত ক্ল তাপিয়া, আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
সূত্র : গোল ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ