বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩২ এম
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাদের প্রভাব তাদের নিজস্ব গানের সংখ্যা কিংবা জনপ্রিয়তার চেয়ে অনেক বড়। নিলয় দাশ তেমনই একজন। গিটার হাতে তিনি যে পথ তৈরি করেছিলেন, সেই পথ ধরে বাংলাদেশের বহু গিটারিস্ট পরবর্তী সময়ে নিজেদের পরিচিতি গড়েছেন। তবে সময়ের সঙ্গে আজকের প্রজন্মের একটি বড় অংশের কাছে তার নাম ক্রমেই অপরিচিত হয়ে উঠছে।
গতকাল, ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল এই গুণী গিটারিস্টের জন্মদিন। ১৯৬১ সালের এই দিনে নিলয় দাশের জন্ম হয়। গিটারিস্ট হিসেবে তার পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গায়ক, সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং শিক্ষক। ২০০৬ সালে এই শিল্পীর মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পরও বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতে তার প্রভাবের কথা বারবার উঠে আসে। প্রয়াত কিংবদন্তি গায়ক ও গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু একবার নিলয় দাশ সম্পর্কে বলেছিলেন, "তার মতো করে বাংলাদেশে আর কেউ গিটার বাজাতে পারেননি।" তিনি বলেন, নিলয় ছিলেন দেশের একমাত্র নিও-ক্ল্যাসিক্যাল গিটারিস্টদের একজন। নিলয়কে হারানোর প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ ওকে হারিয়েছে বা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। ওর অভিমান থেকে ও চলে গেছে।"
নিলয় দাশের জন্মদিন পেরিয়ে তাকে স্মরণ করার উপলক্ষটি তাই শুধু একজন শিল্পীর জন্মদিন মনে করা নয়; বরং বাংলাদেশের গিটারচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে ফিরে দেখার সুযোগও। আশির দশকে ঢাকার সংগীতাঙ্গনে গিটার শেখা ও বাজানোর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই নিলয় দাশের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সম্পর্ক ছিল। কেউ তার কাছে সরাসরি শিখেছেন, কেউ তার সঙ্গে বাজিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, আবার কেউ তার বাজানোর ধরন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এই কারণেই সংগীতাঙ্গনে তাঁকে অনেকে ‘গিটারিস্টদের গিটারিস্ট’ বলে মনে করেন।
তৎকালীন ঢাকার অনেক মিউজিশিয়ানের নিয়মিত আড্ডার জায়গা ছিল নিলয় দাশের বাসা। সেখানে গিটার নিয়ে বসতেন তারা, গান হতো, আলোচনা হতো বিভিন্ন ধরনের সংগীত নিয়ে। নিলয় তাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন রক, কান্ট্রি, জ্যাজ, ব্লুজ থেকে শুরু করে ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিক্যাল ও স্প্যানিশ ফ্ল্যামেনকোর নানা দিক। বিশ্বসংগীতের প্রতি তার ছিল গভীর আগ্রহ। হার্ড রক ও হেভি মেটাল থেকে শুরু করে ক্ল্যাসিক্যাল ও নিও-ক্ল্যাসিক্যাল—বিভিন্ন ধারার সংগীত তিনি শুনতেন এবং অন্যদেরও সেসবের সঙ্গে পরিচিত করাতেন।
তার গিটার বাজানোর দক্ষতা ছিল আলাদা ধরনের। বিশেষ করে নিও-ক্ল্যাসিক্যাল ও ফ্ল্যামেনকো গিটারে তার দখল ছিল অসাধারণ। সমসাময়িক গিটারিস্ট ওয়ারফেজের কমলও নিলয়ের রিদম গিটারের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, নিলয় এমন সব রিদম বাজাতেন, যার তাল ধরাও অনেক সময় কঠিন হয়ে যেত। নিলয় দাশের সংগীতজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে আরেক কিংবদন্তি হ্যাপী আখান্দের নাম। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিলয় প্রথমদিকে নজরুলসংগীত গাইতেন। পরে হ্যাপী আখান্দের পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় গিটারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
১৯৮১ সালে নিয়মিতভাবে গিটার বাজানো শুরু করেন তিনি। এরপর নিজের চেষ্টাতেই গিটার শেখার পথ তৈরি করেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো গিটার শিক্ষকের কাছে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নেননি। এক কোরিয়ান গিটারবাদকের কাছ থেকে শুরুতে কয়েকটি কর্ড শেখার পর বাকি পথটা অনেকটাই নিজের চেষ্টায় এগিয়ে নেন। বাখ, মোজার্ট, বিথোভেনের মতো ধ্রুপদি সুরকারদের সংগীত শুনে সেগুলো গিটারে তোলার চেষ্টা করতেন। এভাবেই তৈরি হয় তার নিজস্ব সংগীতভাষা।
বন্ধু হ্যাপী আখান্দের অকালমৃত্যু নিলয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বন্ধুর স্মৃতিকে ধরে রাখতে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘হ্যাপী স্কুল অব মিউজিক’। সেখানে গিটার শেখানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পীকে সংগীতের নানা ধারার সঙ্গে পরিচিত করে তুলেছিলেন তিনি।
আশির দশকে ঢাকার অভিজাত হোটেলগুলোর সংগীত আয়োজনেও নিলয় দাশ নিয়মিত বাজিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সে সময়ের বিভিন্ন ব্যান্ডও হোটেলভিত্তিক সংগীতচর্চায় নিজেদের জায়গা করে নেয়। ‘দ্য জেনমস’ ও ‘ট্রিলজি’—এই দুই ব্যান্ডের সঙ্গে তার কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ট্রিলজি সে সময় ঢাকার সংগীতাঙ্গনে বেশ পরিচিত একটি নাম ছিল। শুধু ব্যান্ডসংগীতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না নিলয়। শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চেও তার ইন্সট্রুমেন্টাল পরিবেশনা শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। গিটার বাজানোর জন্যই সেখানে দর্শকের ভিড় হতো। তার প্রতিভা বুঝতে পেরে তৎকালীন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সুরকার আজাদ রহমান তাকে সেখানে গিটার শিক্ষক হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেন। উপমহাদেশের খ্যাতিমান শিল্পী গোলাম আলী ও মেহেদী হাসানের সঙ্গেও তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন।
১৯৮৮ সালে সারগামের ব্যানারে প্রকাশিত হয় নিলয় দাশের প্রথম একক অ্যালবাম ‘কত যে খুঁজেছি তোমায়’। ফুয়াদ নাসের বাবুর সংগীত আয়োজনে অ্যালবামটির গান লিখেছিলেন কাউসার আহমেদ চৌধুরী, আহমেদ ইউসুফ সাবের ও আসিফ ইকবাল। অ্যালবামের শিরোনাম গানটি তখন শ্রোতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। চার বছর পর, ১৯৯২ সালে আশিকুজ্জামান টুলুর সংগীত পরিচালনায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘বিবাগী রাত’। নিলয়ের গানগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গিটার। কণ্ঠের পাশাপাশি তার গিটারওয়ার্কই গানগুলোকে আলাদা মাত্রা দিত। এর বাইরে ‘স্টারস-১’, ‘স্টারস-২’, ‘দেখা হবে বন্ধু’, ‘টুগেদার’, ‘তুমিহীনা সারাবেলা’ ও ‘কেউ সুখী নয়’-এর মতো বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামেও গান করেছেন তিনি। তবে সংখ্যার দিক থেকে তার গানের তালিকা খুব দীর্ঘ নয়। নিজের কাজ নিয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বেছে নেওয়া এবং যত্নশীল।
নিলয় দাশের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল তার প্রচারবিমুখতা। সংগীত নিয়ে যতটা নিবেদিত ছিলেন, নিজেকে আলোচনায় রাখার ব্যাপারে ততটাই অনাগ্রহী ছিলেন। নিভৃত জীবন পছন্দ করতেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিতভাবে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে সেগুলোর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। এই নিভৃতচারিতাই হয়তো ধীরে ধীরে তাকে মূলধারার স্মৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। এর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত বহুবার বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্ম, নতুন গিটারিস্ট। কিন্তু তাদের অনেকের সংগীতচর্চার পেছনে নিলয় দাশের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব আজও আলোচিত হয়।
নিলয় দাশের কাছে গিটার কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র ছিল না; সেটিই ছিল তার সংগীতজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তার গিটারসাধনার গভীরতা বোঝাতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় জীবনের শেষ সময়ের একটি ঘটনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তিনি চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলেন, তার বাম হাতে যেন স্যালাইন না দেওয়া হয়। কারণ, হাতে ব্যথা হলে তিনি গিটার বাজাতে পারবেন না। এই একটি ঘটনাই হয়তো নিলয় দাশকে বোঝার জন্য যথেষ্ট। জনপ্রিয়তার চেয়ে সংগীতের প্রতি তার নিবেদনই ছিল বড়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সোমালিয়ার আল-কায়েদাঘেঁষা আল-শাবাবের মধ্যে যোগাযোগ, অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক প্রশিক্ষণের বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ধরনের বিপদের সংকেত দিচ্ছে। এই দুই পক্ষের সখ্যতা কেবল নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে না, বরং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই সম্পর্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এটি হর্ন অব আফ্রিকায় আল-শাবাবের হামলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে, পাশাপাশি লোহিত সাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরের সামুদ্রিক পথগুলোতে হুথির প্রবেশাধিকারকে আরও সহজ করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি সাধারণ অস্ত্র চোরাচালানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, চোরাচালানের রুট এবং উপকূলীয় সুবিধাগুলো একত্রিত করে এডেন উপসাগর জুড়ে নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম হতে পারে।
সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক দানিয়েলে গারেফালো জানান, দুই পক্ষের এই সম্পর্কের গভীরতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সোমালিয়ায় ইয়েমেনি অস্ত্রের উপস্থিতি তাদের সহযোগিতার প্রমাণ দেয়; বরং ২০২৪ সাল থেকে সরাসরি যোগাযোগ, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং সোমালি যোদ্ধাদের ইয়েমেনে যাতায়াতের প্রমাণও রয়েছে।
কৌশলগত জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তির হাতবদল নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীদের জন্য অস্ত্রের চেয়েও বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি অস্ত্রের চালান আটকানো বা জব্দ করা সম্ভব, কিন্তু বিস্ফোরক তৈরি, ড্রোন সাজানো কিংবা অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের মতো কৌশল যোদ্ধাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা সহজে থামানো যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, আল-শাবাব একটি ড্রোন বা অস্ত্র কেনার চেয়ে সেটি নিজে নিজে পরিবর্তন, তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল আয়ত্ত করা অনেক বেশি ভয়ংকর। বিশেষ করে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) তৈরি বা ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
এদিকে, আল-শাবাব তাদের বর্তমান প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সোমালিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করতে চাইছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক লেসলি অ্যান ওয়ার্নার জানান, আদর্শগত মিল না থাকলেও আর্থিক সুবিধার কারণে মূলত এই দুই গোষ্ঠী হাত মেলাচ্ছে।
তার মতে, হুথিদের জন্য এটি অপারেশন পরিচালনার অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম, আর আল-শাবাবের জন্য এটি সামরিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ। এডেন উপসাগর দুই ভিন্ন ভূখণ্ডকে আলাদা করেনি, বরং অবৈধ বাণিজ্যের একটি সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো— এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মধ্যে অস্ত্র, পণ্য ও মানুষ পারাপারের এই নেটওয়ার্ক বহু পুরনো। তবে এবার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই যোগাযোগকে সামরিক সহযোগিতার একটি স্থায়ী অবকাঠামোতে রূপ দিচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথির সামরিক প্রকৌশলীরা সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আল-শাবাব আস্তানা জিলিব সফর করেছেন। সেখানে তারা বিস্ফোরক ও ড্রোন প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪০০ সোমালির জন্য ইয়েমেনে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
ইয়েমেন ও সোমালিয়া সংকট নিয়ে কাজ করা সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য এই যৌথ আঁতাত নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে, অন্যদিকে সোমালিয়ায় শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
আদর্শগতভাবে হুথি ও আল-শাবাব ভিন্ন ধারার হলেও নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে তারা এই মতপার্থক্য পাশে সরিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাত্ত্বিক অমিল সত্ত্বেও পারস্পরিক সুবিধার এই বাস্তবমুখী সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক দীর্ঘমেয়াদি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ। সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে পরিচিত রেজাকে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি কোটচাঁদপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং প্যানেল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদেও ছিলেন। সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এই গ্রেপ্তারটি করা হয়েছে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি আজাদ রহমান জানিয়েছেন, তাকে পরে কারাগারে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভাল্বের (পিওআরভি/পিওএসভি) ১৬ এমপিএ উচ্চচাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকালে শেষ হওয়া এই পরীক্ষা ইউনিটটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, জানায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
এনপিসিবিএল জানায়, মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষা শুরু হয়। মেইন কন্ট্রোল রুম (এমসিআর) এবং ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ইসিআর) থেকে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এই সময় প্রকৌশলীরা কন্ট্রোল ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভাল্বের (এমএসভি) কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার সময় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকারিতা, প্রতিক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় এনপিসিবিএল।
কর্মকর্তারা জানান, চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে নিরাপদ চাপ বজায় রাখতে পিওআরভি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিশনিংয়ের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এনপিসিবিএল জানায়, পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে পরীক্ষা চালানো হবে। প্রতিটি ধাপ যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রমে এগোবে কমিশনিং দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হলো। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডান জোট এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং সরকারি সেবা নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ১নিউজ-ভেরিয়ান জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হতে পারে। জরিপে এই জোট ৬৫টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল, অ্যাক্ট ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের জোট ৫৯টি আসন পেতে পারে।
নিউজিল্যান্ডে জার্মানির মতো মিশ্র সদস্য আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জোট সরকার গঠন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ছোট দলগুলোও সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে সাধারণত ১২০টি আসন থাকে। তবে কোনো দল জাতীয় ভোটের অনুপাতে পাওয়ার চেয়ে বেশি নির্বাচনী আসনে জয়ী হলে পার্লামেন্টে অতিরিক্ত আসন যোগ হতে পারে।
জনমত জরিপগুলো নির্দেশ করছে, প্রায় এক দশক আগে গঠিত মধ্যপন্থী অপরচুনিটি পার্টি এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের ভোট দেওয়া শুরু হবে ২১ অক্টোবর। আর আগাম ভোট শুরু হবে ২৬ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ