বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১৩ পি.এম
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ৩৪ জন ব্যক্তি গ্রেফতার করেছে। বুধবার থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই তথ্যটি আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে- মো. মিলন (৪৫), মো. আরিফ শেখ (১৯), মো. ইমরান হোসেন হাওলাদার (৩০), মো. ইউসুফ মিয়া (৩০), মো. মোক্তার মিজি (৩৪), মো. ইয়াসিন রহমান ওরফে খোকন (৩৮), মো. হৃদয় (১৯), মো. রমজান (৩০), মো. আব্দুল্লাহ (২০), মো. সাকিব (২৪), মো. রবিউল (২৪), মো. শহিদুল ইসলাম (১৯), মো. সাগর (১৯), মো. শিপন (২৬), মো. সুজন মিয়া (৩১), আয়েশা (২৫), রমজান শেখ (১৯), মোছা. শাহনাজ (৪৫), মো. রেজাউল করিম (২৬), মো. ইব্রাহিম (২০), মো. অমিত ফরাজি ওরফে নাজিম (২৫), মো. জিসান (২০), মো. নাজির উদ্দিন (৪৫), মো. শরিফ (৪০), আ. গফুর (৬৩), মো. আনোয়ার হোসেন (৪০), মো. ইদ্রিস আলী (৩৫), মো. শাহীন (৩৮), মো. মনির (৪০), মো. উজ্জল (৩৫), ইমন (২৫), মো. পারভেজ (৩০), আশিকুর শেখ ওরফে অহিদুল ও মো. ছিয়াদ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭ জনকে নিয়মিত মামলায়, ৩ জনকে পুরাতন মামলায়, ২ জনকে গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে এবং ২২ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য যারা অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস ফুটবলের উন্মাদনায় মুখরিত হয়ে ওঠে। খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন আবাসিক হল ও মেস থেকে শিক্ষার্থীরা হবিবুর রহমান হল মাঠ ও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন। তারা প্রিয় দলের জার্সি, পতাকা, ব্যানার, মুখে রঙের আঁচড় দেওয়ার পাশাপাশি স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসটিকে একটি ফুটবল গ্যালারিতে পরিণত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত এই সেমিফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান হল মাঠে রাকসুর উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি বড় এলইডি পর্দায় ম্যাচটি সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। দুই স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে খেলা উপভোগ করেন এবং আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুটি দলের সমর্থকদের মধ্যে ছিল গভীর উত্তেজনা।
ম্যাচ চলার সময় প্রতিটি আক্রমণ, গোলের সুযোগ এবং শক্তিশালী রক্ষণে করতালি, উল্লাস এবং হতাশার মিশ্র প্রতিক্রিয়া ক্যাম্পাসটিকে মুখর করে তোলে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার গোলের পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং স্লোগানে উৎসবের আমেজ আরও বৃদ্ধি পায়।
আর্জেন্টিনার সমর্থক সাজ্জাদ হোসেন আরটিভিকে বলেন, "আজ পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ। মনে হচ্ছে, আমরা যেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই বসে খেলা দেখছি। আমি প্রিয় দলের জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছি। আশা করি, ফাইনালেও শিরোপা জিতবে আর্জেন্টিনা।"
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা আনন্দ মিছিল করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। তাদের স্লোগানে ক্যাম্পাসের এলাকা মুখর হয়ে উঠে। তবে পুরো আয়োজনজুড়ে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব এবং খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার চিত্রটাই ছিল সবচেয়ে বড় খণ্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের নির্ঝর আবাসিক এলাকায় গাছের চারা রোপণ করে তিনি বৃক্ষরোপণ অভিযানের শুরু ঘোষণা করেন।
‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৬ সব সেনানিবাস, ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকার উপযুক্ত স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষ এবং সৌন্দর্যবর্ধন গাছের চারা রোপণ করছে।
এ কার্যক্রম এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। এর সময়কালে ১১ লাখের বেশি গাছ লাগানো হবে। দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে সবার মধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী শুধু বৃক্ষরোপণ করেই থেমে নেই, বরং সেগুলোর সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সংরক্ষণও করে। বৃক্ষরোপণ একটি পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি। এর ফলে অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত হয়ে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটে।
এ কারণে তিনি সকলকে বৃক্ষরোপণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পেশাগত নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা মহাসমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় পাঁচ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা অংশ নিয়ে দ্রুত নিবন্ধনের দাবি জানান।
৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মহাসমাবেশ এবং পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন আইএইচটির ডেন্টাল অনুষদের শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় ৫ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীগণ, বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন।
মহাসমাবেশে বক্তারা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের একাধিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমাভাস)-এর মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেশাগত নিবন্ধন প্রদান করা বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংগ organization's মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র নিজেই চার বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমা শিক্ষা চালু করেছে। এবং কি রাষ্ট্র কারিকুলাম ও প্রণয়ন করেছে, শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে, পরীক্ষা নিয়েছে, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে, সনদ দিয়েছে এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই জনবল নিয়োগ ও দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০ টি কাজের উপর আমাদের কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দিয়েছে। অথচ, এই প্রশিক্ষিত জনবল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর পেশাগত নিবন্ধন এবং নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ফলে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী কর্মসংস্থানের সংকট, পেশাগত বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাছাড়া, উক্ত কোর্সের নামের সাথে সিলেবাসের অসংগতি থাকায় দেশের বাহিরে ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে বিভিন্ন বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
কোর্সের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও অজানা কারণে সেটি আর আলোর মুখ দেখছে না।
বক্তারা আরো জানান, সমযোগ্যতা সম্পন্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টগণ বিএমডিসি আইন-২০১০ এর ১৫ ধারায় এবং ৫ম তফসীলে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিএমডিসি আইন- ১৯৮০ এর ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের তাগিদে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী কে বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে, এমনকি অদ্যবধি পর্যন্ত তা নবায়ন পর্যন্ত করা হচ্ছে।
অথচ, ৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯, ২৬, ২৭ ও ৪০ এর পরিপন্থী। আমরা সরকারের কাছে আশা করবো, অনতিবিলম্বে বিএমডিসি আইন ২০১০ এর ৩৫ ধারার অনুকুলে তফশীল সংশোধন করতে হবে অথবা একই আইনের ৩৬ ধারার অনুকুলে ৪ বছর মেয়াদী ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নতুন বিধি প্রনয়ন করতে হবে।
সংগ organization's সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, এমট্যাবের মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান, সিঃ যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন খান তুষার, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আইনুল হক সহ আরো অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ অথবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করার সুযোগ নেই, এমন যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনো পরিস্থিতিতেই মা-বাবার তালাকের বিরোধের ওপর নির্ভর করে না; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।
বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ হয়। পরবর্তীতে, স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যা সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী দাবী করেন যে, তিনি আগে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইন অনুযায়ী সেই তালাকের প্রমাণ দিতে পারেননি। ফলে আদালত স্ত্রী এবং সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন। পরে স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং এই মামলার অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রির এক্সিকিউশন স্থগিত করার আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদনটি খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।
রায়ে কি বলেছেন হাইকোর্ট
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, শুধু একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেই পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোন সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে, এবং এক্সিকিউশন কোর্টকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আদালত আরো বলেন, যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর নয়, সেই তালাকের কোন আইনগত কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়নের পথে কোন আইনি বাধাও সৃষ্টি করতে পারে না।
ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ার পুনর্ব্যক্ত
রায়ে আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং বৈবাহিক অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।
নাবালক সন্তানের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
হাইকোর্টের রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের বিষয়টি। হাইকোর্ট বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না। বাবা শুধুমাত্র তালাকের বিরোধের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
আরও পড়ুন: পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। তারা নতুন করে তালাক বৈধ কি না অথবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না, এসব প্রশ্ন বিচার করতে পারে না। ডিক্রির বাইরে গিয়ে নতুন বিরোধ নিষ্পত্তি করার কোন এখতিয়ার তাদের নেই।
অকার্যকর তালাক নতুন তালাকের পথে বাধা নয়
আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেছেন, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেয়ার সুযোগ তার রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা পূর্বে প্রদত্ত ডিক্রির অধীনে সৃষ্ট দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তাকে মুক্তি দেয় না।
চূড়ান্ত আদেশ
হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখে। একই সঙ্গে আদালত স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
রায়ের তাৎপর্য
এই রায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে আরো সুদৃঢ় করেছে—তালাকের আইনগত কার্যকারিতা অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রমাণিত হতে হবে; নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন অধিকার; এবং নতুন মামলা দায়ের করে কোন চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ফলে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নারী ও শিশুর আইনগত অধিকার সুরক্ষায় এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে শুনানী করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।
আইনজীবী ইশরাত হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই রায়টি পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেছেন যে, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না। পাশাপাশি আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার এবং বিবাহ, তালাক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। আমি বিশ্বাস করি, এই রায় নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ