০৯:৪২ পি.এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ‘চীন-মায়ানমার করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় একটি ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিপুল গতি আসবে।
এছাড়া, এতে বিনিয়োগ অবশ্যই বাড়বে।’
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী দিনে দেশে চীনের বিপুল বিনিয়োগ থাকবে এবং বলেন, ‘আগামী দিনে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমাদের স্ট্যাটেজি। চীনে ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে।
আমাদের কাছে একটাই সম্ভাব্য উপায়, যা আমরা অনুসরণ করছি, তা হলো বাংলাদেশে বেশি বেশি চায়নিজ বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।’
মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘চট্টগ্রামে ৮০০ একরের একটি চায়নিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের ব্যাপারে কিছুদিন আগে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামীতে বিপুল চায়নিজ বিনিয়োগ আসবে। চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের শীর্ষ নেতৃবন্দ ও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ দেখতে পাবো।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
এতে বাণিজ্য ঘাটতিও হ্রাস পাবে।’
সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ‘মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
এর আগে আইনজীবী সমিতির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো জানান, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরীর (সুহেল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন