ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বীমা কোম্পানির সিএফও পদে ৭টি যোগ্যতা বাধ্যতামূলক


বীমা কোম্পানির সিএফও পদে ৭টি যোগ্যতা বাধ্যতামূলক

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমা কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করেছে। প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করার পর কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করতে হবে নিয়োগের আগে। বর্তমান প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের জন্যও নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা আবশ্যক।

বুধবার আইডিআরএ এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমাকারীর আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য যোগ্য ও পেশাদার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অপরিহার্য। যেসব বিমাকারী যোগ্য ও পেশাদার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০-এর ধারা ৫৬(গ) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের ওপর দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে।

এই নির্দেশনার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কর্ণফুলী ওপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু, তিন জেলার মানুষের স্বস্তি মিলবে

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হতে হলে প্রার্থীদের নিচের সাতটির যেকোনো একটি শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হবে—

১. ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ফেলো বা সহযোগী সদস্য হতে হবে।

২. ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের ফেলো বা সহযোগী সদস্য হতে হবে।

৩. যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার সনদপ্রাপ্ত পাবলিক অ্যাকাউনট্যান্ট (সিপিএ) হিসেবে সনদধারী হতে হবে।

আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার

৪. যুক্তরাজ্যের অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফাইড অ্যাকাউনট্যান্টসের (এসিসিএ) ফেলো বা সহযোগী সদস্য হতে হবে।

৫. ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) ফেলো বা সহযোগী সদস্য হতে হবে।

৬. যুক্তরাষ্ট্রের চার্টার্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) হিসেবে সনদধারী হতে হবে।

৭. বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো দেশ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পেশাগত যোগ্যতার সনদধারী হতে হবে। তবে সেই সনদ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) অথবা ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।

আরও পড়ুন: পাঁচ মাসে বিএসইসি অনুমোদন করল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড

সার্কুলার জারির পর থেকে সব বিমাকারীকে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিয়োগের আগে নির্ধারিত শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্বানুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পরেই প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ কার্যকর হবে।

বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা থাকলে আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিস্তারিত যোগ্যতাসহ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।

যদি কোনো বিমাকারীর বর্তমান প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার নির্ধারিত শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা না থাকে, তবে আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মালাগার সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে চায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি

"দ্রুততাই আমাদের প্রতিশ্রুতি" এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গতকাল বিকেলে মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন করা হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি। উদ্বোধনটি সম্পন্ন করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস কার্যক্রমে নতুন এই সেবাকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় ডাকসেবা এখন আরো সহজ ও কাছে পৌঁছাবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেবাকেন্দ্রটি পরিচালনা করবে স্পীডি। স্পীডি এর পরিচালকরা জানান, "জনগণের দোরগোড়ায় ডাকসেবা আরো সহজে ও সুবিধাজনকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে এই উদ্যোগ, একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে।" পরিচালকরা আরো জানান, এ সেবাকেন্দ্রটি শুক্র ও শনিবারসহ সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গ্রাহকসেবা প্রদান করবে। তাদের লক্ষ্য হলো, পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩১ পি.এম


বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন

জুয়া নিষিদ্ধের অঙ্গীকার জেনেও হাউজি-লটারির আয়োজনের উদ্যোগ, এত সাহস কোথায় পেল চেম্বার অব কমার্স?


উপকূলীয় জেলা বরগুনায় শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজনের নামে হাউজি ও পুরস্কারভিত্তিক লটারি কার্যক্রমের প্রস্তাব ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে বরগুনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে। কুটিরশিল্পের প্রসার, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিকাশ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে মেলার আয়োজনের কথা বলা হলেও আবেদনপত্রে হাউজি, প্রবেশ টিকিটের বিপরীতে আকর্ষণীয় পুরস্কার, জেলার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে টিকিট বিক্রি এবং স্থানীয় ডিসকেবলে প্রতিদিনের ড্র সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে। এতে মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত কার্যক্রমের আইনগত বৈধতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বরগুনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সচিব মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বরগুনার ভূতমারা দক্ষিণ মনসাতলী বালির মাঠে মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

আবেদনে দেশীয় কুটিরশিল্প ও পণ্যের দোকান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত পণ্যের প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনের পাশাপাশি হাউজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেলায় প্রবেশের টিকিটের বিপরীতে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, আবেদনপত্রে মেলা চলাকালে অবৈধ জুয়া থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ফলে একদিকে হাউজি ও পুরস্কারভিত্তিক টিকিটের পরিকল্পনা, অন্যদিকে অবৈধ জুয়া থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মেলার প্রবেশ টিকিটের নামে গ্রামগঞ্জে লটারি বিক্রির পরিকল্পনা:

বরগুনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আবেদনে বলা হয়েছে, মেলায় প্রবেশের টিকিট বিক্রির জন্য জেলার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি এবং বুথের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা। একই সঙ্গে প্রবেশ টিকিটের বিপরীতে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার এবং স্থানীয় ডিসকেবলের মাধ্যমে প্রতিদিনের ড্র সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

এখানেই উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মেলায় প্রবেশের টিকিট সাধারণত মেলার প্রবেশপথে বিক্রি করা হয়। কিন্তু সেই টিকিট জেলার বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি এবং বুথের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা কেন? মেলায় প্রবেশের টিকিটের সঙ্গে পুরস্কারের ড্র যুক্ত করে তা মেলার বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ কি কেবল দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুবিধার জন্য, নাকি এর মাধ্যমে পুরো জেলায় লটারি টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হবে?

প্রতিদিনের ড্র স্থানীয় ডিসকেবলে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এর ফলে মানুষ শুধু মেলায় উপস্থিত হয়েই নয়, ঘরে বসেও লটারির ড্র দেখতে পারবেন। অর্থাৎ, আবেদনপত্রে বর্ণিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে টিকিট বিক্রি ও ড্র সম্প্রচারের কার্যক্রম মেলার মাঠের বাইরেও বিস্তৃত হবে। এতে সাধারণ মানুষকে আকর্ষণীয় পুরস্কারের আশায় টিকিট কিনতে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তাহলে প্রশ্ন হলো, মেলার প্রবেশ টিকিটের নামে জেলার শহর, গ্রাম ও হাটবাজারে টিকিট বিক্রি এবং প্রতিদিনের ড্র ডিসকেবলে সম্প্রচারের পরিকল্পনা আসলে কোন উদ্দেশ্যে? শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে এই কার্যক্রমের সম্পর্ক কী, এবং এর আইনগত ভিত্তি কোথায়? বিষয়টি শুধু মেলার অনুমতির প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে টিকিট বিক্রির প্রকৃতি, পুরস্কারভিত্তিক ড্রয়ের বৈধতা এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বার্থ।

প্রতিদিনের ড্র ঘরে বসে দেখার ব্যবস্থা, প্রশ্ন আইনগত বৈধতা নিয়ে,:

আবেদনপত্রে মেলার প্রবেশ টিকিটের বিপরীতে পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ডিসকেবলের মাধ্যমে প্রতিদিনের ড্র সরাসরি সম্প্রচারের কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় পুরস্কারের ড্র কেবল মেলার মাঠে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সম্প্রচারের মাধ্যমে তা ঘরে বসে দেখার সুযোগও তৈরি হবে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিক্রি করে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাটি কীভাবে পরিচালিত হবে, বিজয়ী নির্ধারণের পদ্ধতি কী হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রচারের আইনগত অনুমোদন রয়েছে কি না। সরাসরি সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত পুরস্কারভিত্তিক টিকিট বিক্রির প্রকৃতি ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মেলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আয়োজনের নাম বা আয়োজকদের অঙ্গীকার বিবেচনা করলেই হবে না; প্রস্তাবিত কার্যক্রমের বাস্তব ধরন, টিকিট বিক্রির পরিধি এবং পুরস্কার বিতরণের নিয়মও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ ও হাইকোর্টের রায়: অনুমতির আগে আইনি যাচাই জরুরি

জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৯৮ নং আইন) ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী, জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জুয়া পরিচালনা বা এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য স্থান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়গুলো আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত মেলায় হাউজি, পুরস্কারভিত্তিক টিকিট বিক্রি এবং ড্র সম্প্রচারের পরিকল্পনা থাকায় এসব কার্যক্রমের প্রকৃতি ও বৈধতা সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে বিবেচ্য।

এর আগে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১৫০৯০/২০১৬-এর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখের রায়ে হাউজিসহ ভাগ্যনির্ভর বিভিন্ন খেলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত নির্দেশনা দেওয়া হয়। অর্থ বা মূল্যমানের বিনিময়ে ভাগ্যনির্ভর খেলায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জেতার ব্যবস্থা জুয়ার আওতায় পড়তে পারে। তবে র‍্যাফেল ড্রয়ের ক্ষেত্রে আয়োজনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য বিবেচ্য। পিকনিকের প্রবেশ টিকিটের সঙ্গে আনুষঙ্গিকভাবে দেওয়া কুপন কিংবা পণ্য কেনার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রচারমূলক কুপনের বিষয়ে রায়ে পৃথক ব্যাখ্যা রয়েছে।

এ কারণে হাউজি, র‍্যাফেল ড্র কিংবা লটারির নাম ব্যবহার করলেই কোনো আয়োজন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। বরগুনার প্রস্তাবিত মেলায় প্রবেশ টিকিট বিক্রি, পুরস্কারের জন্য ড্র এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকিট বিক্রির পরিকল্পনার আইনগত বৈধতা প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনার আলোকে বিবেচনা করা জরুরি।

আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রলোভনে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা:

মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার কিংবা গাড়ির মতো আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণা সাধারণ মানুষকে টিকিট কিনতে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জ ও হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ও বুথের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হলে সীমিত আয়ের মানুষও পুরস্কার জেতার আশায় একাধিক টিকিট কিনতে পারেন। এতে তাঁদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অর্থ এ ধরনের টিকিটে খরচ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারের মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে টিকিট বিক্রি করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুরস্কার জেতার প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় টিকিট কেনার পেছনে ব্যয় করা অর্থ হারানোর ঝুঁকিও থেকে যায়। ফলে এ ধরনের আয়োজনের সামাজিক ও আর্থিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বরগুনায় হাউজি-লটারি চান না স্থানীয়রা

স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের মতে, শিল্প ও বাণিজ্য মেলার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন, কুটিরশিল্পের প্রসার এবং বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা। সেই আয়োজনের সঙ্গে হাউজি বা পুরস্কারভিত্তিক লটারি যুক্ত হলে মেলার মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, বরগুনায় এমন আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বার্থ, সামাজিক প্রভাব এবং প্রযোজ্য আইন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের মতে, আকর্ষণীয় পুরস্কারের প্রচারের আড়ালে টিকিট বিক্রির বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালিত হলে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রস্তাবিত মেলার আবেদনপত্রে হাউজি, জেলার বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ও বুথের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, টিকিটের বিপরীতে আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং স্থানীয় ডিসকেবলে প্রতিদিনের ড্র সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা উল্লেখ রয়েছে। এসব তথ্য সামনে আসার পর মেলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শিল্প ও বাণিজ্য মেলার নামে আবেদন করা হলেও এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কার্যক্রমের প্রকৃতি ও আইনগত ভিত্তি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে মেলার প্রবেশ টিকিট জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি এবং প্রতিদিনের ড্র সম্প্রচারের পরিকল্পনা থাকায় টিকিট বিক্রির উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছে নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি

প্রস্তাবিত মেলায় হাউজি ও লটারিসংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ নাগরিক আইনগত সহায়তা কল্যাণ সোসাইটি জেলা প্রশাসককে বার্তার মাধ্যমে অবহিত করেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, আইনবিরোধী কোনো কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হলে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি:

প্রস্তাবিত মেলায় হাউজি, পুরস্কারভিত্তিক টিকিট বিক্রি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় টিকিট বিক্রি এবং স্থানীয় ডিসকেবলে ড্র সম্প্রচারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে বরগুনার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

বরগুনার প্রস্তাবিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলা ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের নামে হাউজি, পুরস্কারভিত্তিক টিকিট বিক্রি এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্র সম্প্রচারের পরিকল্পনার আইনগত ভিত্তি কী? জুয়া থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারের পাশাপাশি আবেদনে হাউজি ও পুরস্কারভিত্তিক টিকিটের পরিকল্পনা উল্লেখ থাকায় চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবির আইবিএতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর বিজনেস প্রফেশনালস’ কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


ঢাবির আইবিএতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর বিজনেস প্রফেশনালস’ কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর বিজনেস প্রফেশনালস (এআইবিপি)’ নামক একটি ছয় সপ্তাহের সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কোর্সটি পরিচালিত হবে।

এ কোর্সটি আইবিএর ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিপি)-এর অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পেশাজীবী ও ব্যবস্থাপকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করা, যাতে তারা পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হন।

কোর্সটিতে জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহারিক প্রয়োগ, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই-নির্ভর কর্মপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে উন্নত এআই মডেলের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও, ব্যবসায়িক যোগাযোগ, তথ্য বিশ্লেষণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই ব্যবহারের কৌশল শেখানো হবে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রম্পট লাইব্রেরি তৈরি, দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়করণ এবং এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত দল পরিচালনার ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই ছয় সপ্তাহব্যাপী কোর্সে মোট ১২টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি ক্লাসের সময়কাল তিন ঘণ্টা। আইবিএ প্রাঙ্গণে শুক্রবার ও শনিবার দুটি পৃথক সেকশনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস শুরু হবে ২৭ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার এবং সেকশন ‘বি’-এর ক্লাস শুরু হবে ২৮ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার।

আবেদনের জন্য প্রার্থীকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে নিজস্ব ল্যাপটপ সঙ্গে আনতে হবে।

কোর্সের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের মোট ৪০ হাজার টাকা ফি প্রদান করতে হবে। অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন ব্যক্তিগত ও দলীয় অ্যাসাইনমেন্ট, কেস স্টাডি এবং পরীক্ষার মাধ্যমে করা হবে। সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন এবং ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর সনদ প্রদান করা হবে।

এ কোর্সে পাঠদান করবেন আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ পেশাজীবী ও এআই বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের ১৪ নভেম্বর ২০২৬, শনিবারের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করা যাবে https://mdp.iba-du.edu/এআইবিপি ঠিকানায়। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।

ভর্তি ও কোর্স-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এমডিপি), রুম ৪০২ (তৃতীয় তলা), আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়। যোগাযোগ: ০১৭৬৬৯৯৩৩৯০, ০১৭২৬৮৮৫৩২৯। ই-মেইল: [email protected]। ওয়েবসাইট: www.iba-du.edu

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইদুলের মহৎ উদ্যোগে অভিভূত সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রশংসা করলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


সাইদুলের মহৎ উদ্যোগে অভিভূত সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রশংসা করলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক অর্জনকারী সাইদুল হকের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মন্তব্য করেন, "বেসরকারি পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) যে কাজ করছে, তা অসাধারণ।" প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক তার প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজধানীসহ ১৭টি জেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তার মতো একজন মেধাবী ও দক্ষ মানুষকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও কতটা সক্ষম হতে পারেন।" মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে বার্ডোর কার্যালয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন জানান, বার্ডোর ছয়তলা ভবনটি ঘুরে দেখে তিনি গর্বিত হয়েছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনন্য। রাষ্ট্রের দুটি সর্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত দেশপ্রেমিক সাইদুল হকের গড়া প্রতিষ্ঠানে আসতে পারা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

বার্ডোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "এসব দাবি বাস্তবায়নে যা যা করণীয়, তা করা হবে। রাষ্ট্র ও সরকার সব সময় তার এই মহৎ উদ্যোগের পাশে থাকবে।" সাইদুল হক কেবল বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি পুরো জাতির অহংকার এবং সবার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডোর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদার। বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক অমৃতা রেজিনা রোজারিও, সমাজসেবক শাহনা আউয়াল ও মাসুদ আলম, কবি ও লেখক নাঈমা আক্তার, বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক শের আলী, ইউএনডিপির অসীম ডিও এবং বার্ডোর হোসনে আরা বেগম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এরশাদ আলী ও ফিরোজা খাতুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক।

সাইদুল হক বলেন, "দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।" তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩৬ বছর ধরে তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করছেন বলে জানান। ১৯৯১ সালের ১৭ জুলাই বার্ডো প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার সহায়তায় বার্ডো এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীসহ ১৭টি জেলা ও ৩৮টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেন। বক্তারা মন্তব্য করেন, প্রতিবন্ধী হয়েও একজন সফল ব্যক্তির এমন উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় সংসদে অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%