ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
জামালগঞ্জে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজির ১১ দফা ঘোষণা


শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজির ১১ দফা ঘোষণা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ পিএফজির উদ্যোগে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সম্মেলন কক্ষে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এমআইপিএস প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংলাপে পিএফজির পক্ষ থেকে ১১ দফা ঘোষণা করা হয়। সুনামগঞ্জ পিস এম্বাসেডর নেটওয়ার্ক (প্যান) এর সমন্বয়কারী নুরুল হক আফিন্দীর সভাপতিত্বে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের মাঠ সমন্বয়কারী কীদরত পাশার সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বন্দে আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. নাজমুন নাহার নূর (লুবনা)।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাম শাহা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার পীযুষ কান্তি মজুমদার, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সাব্বির সারোয়ার, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নান তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক, মডেল মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ বিন ফরিদ মুছা, পুজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি শম্ভু আচার্য্য, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি সঞ্জবি বরুয়া, মহিলা পরিষদের সভাপতি শেখ আয়শা।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

সভা শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোহাম্মদ বিন ফরিদ মুছা, গীতা পাঠ করেন পিএফজির নারী এম্বাসেডর বীণা রানী তালুকদার, ত্রিপঠক পাঠ করেন সঞ্জিব বরুয়া। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর কিদরত পাশা।

উক্ত সংলাপে বক্তব্য রাখেন জামালগঞ্জ উপজেলা মসজিদের ইমাম হাফেজ নূর উদ্দিন, জামালগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ সরকার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অঞ্জন রায়, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল খালিক, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, মাওলানা ইমরান, আলী হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মারজানা ইসলাম শিবনা, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমীন, পিস এম্বাসেডর আলেয়া বেগম, ইউপি সদস্য মিনারা আক্তার বেবী রানী, ইয়থ পিস এম্বাসেডর গ্রুপের সাদিকুর রহমান স্বাধীন, শারিফ আহমদ, সালমা আক্তারসহ অন্যান্যরা।

প্রধান অতিথি বন্দে আলী অনুষ্ঠানে আসার আগে বুঝতে পারিনি যে এত ভালো একটি অনুষ্ঠান হবে, আমার মনে হচ্ছে ভাল এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি অনুষ্ঠানে এসেছি। আমি আশা করি আপনাদের মাধ্যমে জামালগঞ্জ উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকবে। আমি যেহেতু আইন-শৃঙ্খলার কাজে জড়িত, আপনাদের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন হবে। আপনাদের প্রয়োজনে আমাকে সবসময় পাশে পাবেন। আমরা সবাই মিলে একটি শান্তির জামালগঞ্জ গঠনে কাজ করবো। তিনি আহ্বান জানান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে যে আমাদের সচেতন হতে হবে, সেখানে কোনো ধরণের গুজব ছড়ানো হলে না জেনে সহমত প্রকাশ করা যাবে না। যাচাই-বাচাই করতে হবে। বিশেষ মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি কার্যক্রমের সুফল কামনা করে এমন একটি ভালো উদ্যোগের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সভায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং পিএফজির কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং এযাবৎকালে পরিচালিত কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরা হয়। ধর্মীয়, জাতিগত এবং রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা পরিহার করে একটি শান্তি ও সম্প্রীতির জামালগঞ্জ গড়তে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করা হয়।

ধর্মীয় নেতারা বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান থেকে সম্প্রীতির বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ধর্মের নামে অধর্ম করা যাবে না। যারা ধর্মীয় অনুসাসন মেনে চলে, তারা সংঘাত সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে না। অংশগ্রহণকারীরা শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এ সময় শান্তি-সম্প্রীতির জামালগঞ্জ গড়তে ১১ দফা সম্বলিত ঘোষণা পাঠ ও সনদ প্রকাশ এবং স্বাক্ষর করেন উপস্থিত সকলে।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে মাদক কারবারীসহ গ্রেপ্তার ১৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতখানে মেধাবৃত্তি প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


দৌলতখানে মেধাবৃত্তি প্রদান

ভোলার দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) কমার্স ব্যাংকের এমডি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এ বৃত্তি প্রদান করেন। সপ্তম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি শ্রেণির প্রথম মেধাবী ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ৩ হাজার টাকা ও তৃতীয় মেধাবী শিক্ষার্থীকে ২ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করেন। বৃত্তি প্রদানকালে তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বলেন, মোবাইল ছেড়ে পড়াশোনার প্রতি ওদের মনোযোগী ও আগ্রহী হতে হবে। এতে ভবিষ্যতের পথ উজ্জ্বল হবে। দেশ ও জাতির সেবা করার সুযোগ পাবে। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক শামসুদ্দিন সামসু মিয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার হালদার, সহকারি শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ ও জাবের হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি দৌলতখান মহিলা কলেজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুসল বিনিময় করে তাদের খোঁজখবর নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মানবস্বাস্থ্য নিশ্চিতে

মৎস্য সম্পদের গুনগত মান রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


মৎস্য সম্পদের গুনগত মান রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার খাল-বিল ও জলাশয়ের দূষিত পানি ব্যবহার করে বরফ তৈরি হচ্ছে। ফ্রি-স্টাইলে যুগের পর যুগ দূষিত পানির মাধ্যমে প্রস্তুত বরফ দিয়ে সমুদ্র অথবা নদী থেকে আহরিত ইলিশ এবং নানা ধরনের সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করে বাজারজাত করানো হচ্ছে। এসব দূষিত বরফ ব্যবহার করে মাছ খাওয়ার ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি মরনব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ওই দূষিত পানির বরফে সংরক্ষণ করা মাছের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জেলেরা মাছের ন্যায্য দামও পাচ্ছে না। কলাপাড়া এলাকায় ৬০টিরও অধিক বরফকল রয়েছে, কিন্তু সেখানেও মাত্র একটি বরফকল নিরাপদ পানির ব্যবহারে বরফ উৎপাদন করে। বর্তমানে কলাপাড়ার উপকূলে ডিপ অথবা শ্যালো স্থাপন করেও সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে ফ্রি-স্টাইলে দূষিত পানির তৈরি বরফ ব্যবহার করে প্রতি বছর অন্তত ৫০ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যা মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং নিরাপদ নয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মানবস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং মৎস্য সম্পদের গুণগত মান বজায় রাখতে বরফ তৈরির জন্য ব্যবহৃত পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত: নিরাপদ পানির ব্যবহার, পানির লাইন পৃথকীকরণ, নিয়মিত ল্যাব টেস্ট এবং পানির ট্যাংক ও কাঠামোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কলাপাড়া উপজেলার মুন, লাবীবা, ভাই ভাই, জমজম এবং তামান্না আইস প্লান্টের বরফকলের পানির মান যাচাইয়ের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

তিনি জানান, বরফকলগুলোর বরফ উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির উৎস এবং আশপাশের পরিচ্ছন্নতার জন্য অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। কুয়াকাটা সি ফুড আইস প্লান্টে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে ফিল্টার পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু এটি ব্যয়বহুল, তাই প্রত্যেক বরফকলে এই ধরনের ফিল্টার উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়। এর জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কুয়াকাটায় দেড় একর জমিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং দ্রুত পচনশীল খাদ্য। মাছ ধরার পর থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত এর সতেজতা বজায় রাখতে বরফ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কিন্তু যদি মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ অনিরাপদ বা দূষিত পানির মাধ্যমে তৈরি হয়, তাহলে সেই বরফ মাছকে নিরাপদ রাখার পরিবর্তে জীবাণু ও রাসায়নিক দূষণের উৎসে পরিণত হতে পারে। এর ফলে মাছের গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, খাদ্যজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, কৃষিজ রাসায়নিক, কীটনাশক, আগাছানাশক এবং সারজাতীয় রাসায়নিক প্রয়োগ করা পানির উৎস থেকে সংগৃহীত পানি দিয়ে বরফ তৈরি হলে, সেই মাছ খেয়ে যেকোনো বিষক্রিয়া ও হরমোনজনিত সমস্যাগুলি আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ক্যান্সারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

দূষিত পানির তৈরি বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করলে, মাছের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং দ্রুত পচনশীল হয়ে পড়ে। কারণ দূষিত বরফে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেশি থাকে। ফলে মাছ কোমল হয়ে যায়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং বাজারমূল্য কমতে থাকে। জীবাণুর কার্যকলাপের কারণে মাছের প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত বরফ ব্যবহারে জেলেদের ক্ষতি হয়, মাছ দ্রুত নষ্ট হয়, বাজারমূল্য কমে যায়, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, ভোক্তাদের আস্থা কমে যায়, জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি ঘটে এবং রপ্তানিযোগ্য মাছের মানহীন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, যার ফলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

কলাপাড়া উপজেলার প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ আব্দুর রহিম জানান, দূষিত পানির বরফে জীবাণু, ভাইরাস বা রাসায়নিক দূষক থাকতে পারে। বরফ গলে গেলে মাছের ত্বকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাদ্যবাহিত রোগ যেমন সালমোনেলোসিস, শিগেলোসিস, কলেরা, হেপাটাইটিস এ এবং নোরোভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভারী ধাতু যেমন সিসা, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, পারদ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি দূষিত পানির বরফে কলেরা, টাইফয়েড বা হেপাটাইটিস এ-এর জীবাণু বা ভাইরাস উপস্থিত থাকে, তাহলে মাছ দূষিত হতে পারে, এবং যথাযথভাবে রান্না না করা বা দূষিত অবস্থায় খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া, দূষিত বরফে পরজীবীর ডিম বা সিস্ট থাকলে পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। অন্যদিকে রাসায়নিক দূষক মাছের শরীরে জমে বিষক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ভারী ধাতু মাছের শরীরে স্থানান্তরিত অথবা জমা হতে পারে, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘মাছের গায়ে যদি ক্ষত বা কাটা অংশ থাকে তবে জীবাণু দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। তবে সাধারণভাবে দূষণ সবচেয়ে বেশি হয় মাছের বাইরের অংশে। তবে মূল বার্তা হচ্ছে, দূষিত বরফ মাছের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, ‘অনিরাপদ বা দূষিত পানির তৈরি বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করলে মাছ রোগজীবাণু, রাসায়নিক দূষক এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ দ্বারা দূষিত হতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাছের স্বাদ, গন্ধ, রং, পুষ্টিমান ও সংরক্ষণক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দূষিত বা অনিরাপদ বরফ ব্যবহারে ফলস্বরূপ আহরিত মৎস্যের আহরণ পরবর্তী ক্ষতি হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৮%। তাছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইতিমধ্যে নিরাপদ ও পানযোগ্য পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মাছের গুণগত মান বজায় রাখতে নিরাপদ পানির তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত বরফ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৩ মিনিটে সৌদির জালে স্পেনের ৩ গোল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


২৩ মিনিটে সৌদির জালে স্পেনের ৩ গোল

চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের সন্ধানে মুখোমুখি হয়ে পড়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর দল স্পেন এবং ৫৯ নম্বর স্থানে থাকা সৌদি আরব। রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় জর্জিয়ার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু হয় ‘এইচ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ।

তবে ম্যাচের শুরুতেই দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলা জমে উঠে। একপর্যায়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সৌদি আরবের জালে বল পাঠায় স্পেন। পেশির চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লামিন ইয়ামালের পাস থেকে প্রথম গোলের দেখা পায় স্পেন।

অথচ ইয়ামাল খেলায় থাকবে কিনা, সে সম্পর্কে ছিল না কোনো নিশ্চয়তা। এই সব অনিশ্চয়তা দূর করে ইয়ামাল শেষ পর্যন্ত শুরুর একাদশে জায়গা পায়। গোল করে তার উপর রাখা আস্থার প্রতিদানও দিলেন ইয়ামাল।

এদিকে সৌদি আরবও পাল্টা গোল দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে সৌদি না পারলেও স্পেন আবারও সফলতার মুখ দেখে। ২১ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল সৌদি রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে স্পেন ২-০ গোলে এগিয়ে যায়।

এর ঠিক মিনিট পর, ২৪ মিনিটে আবারও সৌদি জালে বল পাঠায় স্পেন। এবারও গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মাঠের এক প্রান্ত থেকে উড়ে আসা একটি কোণাকুণি ক্রস দারুণ দক্ষতায় বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন মার্ক কুকুরেয়া। সেখান থেকে দানি ওলমো মাথা ছুঁইয়ে বল সামনে বাড়িয়ে দেন। আর বল পেয়েই নিখুঁত শটে জালে জড়াতে একদম ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল।

অল্প সময়ের মধ্যে এটি ওইয়ারসাবালের দ্বিতীয় গোল। সৌদি আরব কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ৩-০ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


গাইবান্ধায় শিবির নেতাকে হত্যা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকায় ছাত্র শিবিরের এক নেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সালাউদ্দিন নামের একটি শিবির কর্মী।

রবিবার (২১ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম সাইফুল্লাহ বারী (২৪), যিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি।

স্থানীয় জনগণের ভাষ্য অনুযায়ী, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এর পর স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

এর মাত্র ১০ মিনিট পর, বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা সাইফুল্লাহ বারী এবং সালাউদ্দিনের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা অভিযোগ করেন, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, এবং বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলামসহ ১০ থেকে ১২ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাউয়ুম বলেন, "ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।" সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলমও বলেন, "ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%