বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১২ পি.এম
একদল চোর নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে জাদুঘরের সুরক্ষিত কাচ ভেঙে মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সোনার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন চুরি করে পালিয়ে গেছে। তবে তাড়াহুড়ায় চকচকে সোনার লোভে তারা একটি অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস ফেলে রেখে গেছে, যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরো সংগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে দামি। সেটি হলো মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পড়া এক খণ্ড উল্কাপিণ্ড দিয়ে তৈরি একটি প্রাচীন ব্রেসলেট।
স্পেনের ভিয়েনা মিউজিয়ামে চাঞ্চল্যকর ও রহস্যময় এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাগৈতিহাসিক সংগ্রহ এবং ৩ হাজার বছরের পুরোনো ‘ট্রেজার অব ভিয়েনা’-র একটি বড় অংশ চুরি করে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রোঞ্জ যুগের অমূল্য সোনার বাটি, বোতল ও ব্রেসলেট, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
চুরির পরিকল্পনাটি ছিল অত্যন্ত পেশাদার। ভোরের দিকে কাছের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ‘ফলস অ্যালার্ম’ বাজিয়ে পুলিশের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো হয়। এই সুযোগে মুখোশধারী চোরেরা মিউজিয়ামের পাশের জানালা ও আর্মার্ড শোকেস ভেঙে প্রায় ৬০টি সোনার নিদর্শন লুট করে। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে মিউজিয়ামের অ্যালার্ম বাজলেও, মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে তারা কাজ গুছিয়ে চম্পট দেয়।
ভিয়েনার মেয়র ফুলজেন্সিও সেরদান এই ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি।"
অন্যদিকে, গবেষক ইগনাসিও মন্টেরো জানান, চোরেরা কেবল আর্থিক মূল্যের লোভেই এই কাজ করেছে। তাই সোনাগুলো গলিয়ে ধ্বংস করে ফেলার তীব্র শঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "এগুলো চিরতরে হারিয়ে গেলে ভবিষ্যতের গবেষণার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল আবারও ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি প্রদান করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, যদি ইরান ইসরায়েলে আক্রমণ করে, তাহলে তাঁর দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে যদি কোনো ধরনের উসকানি বা হামলা হয়, তাহলে ইসরায়েলের ওপর থাকা সমস্ত কৌশলগত বিধিনিষেধ উঠে যাবে।
এক বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইসরায়েলে আক্রমণ চালানো হলে আমরা ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে সব এনার্জি ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানব। এর মাধ্যমে ইরানকে সম্পূর্ণ অন্ধকার এবং মধ্যযুগীয় প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানো হবে।’
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার চলমান নতুন সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাত থেকে আপাতত নিজেদের কিছুটা দূরে রেখেছিল তেল আবিব। ইসরায়েলের নতুন এই বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে অপহরণ ও চাঁদাবাজির একটি মামলায়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহিদ হোসাইনের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ফেনীর কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক এসএম আতিক উল্লাহ জানান, অভিযুক্ত জামশেদুর রহমান ফটিকের বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। তিনি ওই মামলার একমাত্র আসামি। জামিনের জন্য আদালতে হাজির হয়ে তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, ফটিকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১১টি মামলা চলমান রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাজী জামশেদুর রহমান ফটিককে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৬০ লাখ আফগান শরণার্থী তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের এক্সে প্রকাশিত পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দশকে অভিবাসনের এই উল্টোমুখী পরিবর্তন একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের ফিরে আসা বর্তমান ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তারা জোর দিয়ে বলেছে, প্রত্যাবর্তন যেখানেই ঘটুক না কেন, তা অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, খাদ্য বহির্ভূত ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি জমির প্লট বরাদ্দ করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে, রেকর্ড সংখ্যক চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। অনেক প্রত্যাবর্তনকারী কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং প্রতিদিনের অর্থনৈতিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন। তারা সমাজে পুনরায় খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ করার জন্য এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুন মাসে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করার পর থেকে ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকে প্রায় ২১ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন। ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন এবং পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল।
জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনও নিবন্ধিত বা নথিবদ্ধ ৭ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন। অন্যদিকে, সেখানে অনিবন্ধিত বা অবৈধ শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার ‘বড় হুজুর’ মাওলানা আবুল কালামকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরপাড়া গ্রামের একটি মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে মাওলানা আবুল কালামের বিরুদ্ধে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে স্থানীয়রা মাদরাসায় জড়ো হতে শুরু করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদরাসার ভেতর মাওলানা আবুল কালামকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাকে মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই মাদরাসা শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ