মোঃ শরীফ উদ্দিন : (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
০৯:০৩ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে আয়োজিত জসনে জুলুসে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের মোবাল্লেগ মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি নাসিরনগরে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজন বন্ধের চেষ্টা এবং মৌলভীবাজার মডেল মসজিদের ইমামকে কিয়াম করার কারণে অপসারণের কথিত উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর শান্ত নাসিরনগরে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ বন্ধ করতে চায় এবং মৌলভীবাজার মডেল মসজিদের ইমামকে কিয়াম করার কারণে অপসারণ করতে চায়—অথচ এসবকিছু প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় অধিকার।”
তিনি আরও দাবি করেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, প্রশাসন দ্রুত এসব কথিত উগ্রবাদী ও ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠতে পারে।
মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানান।
তবে তাঁর স্ট্যাটাসে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একান্ত সচিব হিসেবে মো. আবু আউয়াল নিয়োগ পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর পূর্বে, মো. আবু আউয়াল স্থানীয় সরকার বিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যত দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকবেন অথবা রাষ্ট্রপতি যত দিন মো. আবু আউয়ালকে একান্ত সচিব হিসেবে বহাল রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, তত দিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনা সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
ট্রাইব্যুনাল-১, ৯ আগস্ট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তারা বিমাবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরে আজ সকালে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। তার হাজিরির পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠবে যে, তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হোক।
এদিকে, সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান গুমের মামলায় অভিযুক্তরা একজন ছিলেন, তার একসময়ের দেহরক্ষী সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্যে ইলিয়াস আলীর গুমের তথ্য উঠে এসেছে। ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালে প্রতিষ্ঠানসূত্রে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার আগে মহাখালী এলাকায় একটি অভিযানের সময় জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সাইফও উপস্থিত ছিলেন।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ইলিয়াস আলী ঢাকা শহরের বনানী থেকে গুম হন। তিনি সিলেট-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারে আটক তিনজন ইরানি পাইলটের শারীরিক অবস্থা খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। তিনি তাদের দ্রুত স্থলভাগের কোনো হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরাকের বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন বাঘেরজাদেহ। তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি জানতে পেরেছেন যে, তিনজন পাইলটকে উপকূলের বাইরে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। এর ফলে, তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনজন ইরানি পাইলটকে আটকে রাখার অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি বিমানটি দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর এবং যোগাযোগের চেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় কাতারি বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একজন পাইলটের মরদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করে বলেও কাতার জানায়।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট, বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছিলেন যে, পাইলটদের পরিণতি তদন্তের জন্য ইরানের একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানোর অনুরোধে কাতারি কর্তৃপক্ষ দেরি করছিল।
কিন্তু কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগকেও অস্বীকার করেছে। কাতারের দাবি, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের বিস্তারিত পর্যালোচনা করার জন্য ইরানি একটি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ফলে, তিনজন পাইলটের বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং কাতারের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এর ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হতে চলেছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন এগিয়ে রয়েছেন।
এর পাশাপাশি জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মির্জা ফখরুলের মেয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জার নামও আলোচনা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানিয়েছেন, উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে হাইকমান্ড। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার জন্য নেতাকর্মীরা সমর্থন দেবেন।
মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেন প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেছেন, মাঠে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তারা নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। দেলাওয়ার হোসেনের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, উপনির্বাচনে তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিএনপির নতুন প্রার্থীকে তার প্রাপ্ত ভোটের বড় অংশ ধরে রাখতে পারার সক্ষমতা দেখাতে হবে, এবং এই ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অপরদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, যদি মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হন, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তার পক্ষে থাকবে। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত ইমেজ ও তার ছোট ভাইয়ের ইমেজ এক নয়। এজন্যে বিএনপির ভোট কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেছেন, দেলাওয়ার হোসেন গত নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাবে। তবে সার্বিকভাবে মির্জা ফয়সল আমিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, যদিও বিএনপির প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, উভয় দলের মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা উপনির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ