বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
ইয়েমেনের মারিব, আল-জউফ, তাইজ এবং হুদায়দাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট একযোগে অন্তত ৩২টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ভূ-পৃষ্ঠে নিজেদের সামরিক শক্তি ও সৈন্য সমাবেশ পুনর্গঠন করতেই রিয়াদ এই আকস্মিক হামলা ত্বরান্বিত করেছে।
২০২২ সালের দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। আগস্টের গোড়ার দিকে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আগ্রাসনের পর ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর পর হুতি বিদ্রোহীরা বিমানবন্দর এবং অবরোধের বদলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নতুন নীতি গ্রহণ করে। এর ফলস্বরূপ সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগার, আবহা বিমানবন্দর এবং মূল অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। তাছাড়া, সৌদিগামী ও সেখান থেকে প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক জাহাজের ওপর কঠোর নৌ-নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়।
আল-জউফ প্রদেশের খব ও আশ-শা'আফ জেলার ঐতিহাসিক সুক আল-ইয়াতামা এলাকায় সৌদি সৈন্য ও সামরিক ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে হুতি পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। ওই তীব্র লড়াইয়ে সৌদির পক্ষের বহু সাঁজোয়া যান ও সামরিক যানবাহন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় মাঠপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, সুক আল-ইয়াতামা বাজারসহ সংলগ্ন সমস্ত এলাকা থেকে প্রতিপক্ষকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে আল-জউফের বহির্ভাগে অবশিষ্টাংশ বাহিনীকে তাড়া করা হচ্ছে। ইয়েমেনি বাহিনী মূলত অতর্কিত হামলা, চারপাশ থেকে ঘেরাও এবং বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখছে।
রিয়াদ এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সানা সরকারের আওতাধীন বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং বেশ কিছু সাধারণ বেসামরিক বাসভবনে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীর খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটি এবং তায়েফের বাদশাহ ফাহাদ বিমান ঘাঁটি থেকে তিন দিনের মধ্যে অন্তত ১২১টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। এই আক্রমণের মধ্যে আল-জউফের আল-হাজম কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে, যেখানে বন্দীদের পাশাপাশি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসা বহু নারী ও শিশু মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
হুতি বিদ্রোহীরা এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি। তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিধ্বংসী ড্রোন বহর ব্যবহার করে সৌদি আরবের আবহা, নাজরান, জাজান এবং খামিস মুশাইতের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন হামলা চালায়। নাসার স্যাটেলাইট চিত্রেও আরামকোর জাজান শোধনাগার, আসির কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাদশাহ খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের তাপীয় সংকেত স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
পরবর্তীতে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাময়িকভাবে ওই সমস্ত কেন্দ্রে উৎপাদন ও পরিচালনা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরান করেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে ড্রোনটি শনাক্ত করার পর ইরানি সামরিক বাহিনী সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে জানা গেছে, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ওই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন যে, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক সংকট সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি এবং আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে।
তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, ‘আজকে অনেক সংকটের মধ্যেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি যে কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করছেন, তার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—একজন দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে জনগণের স্বার্থকেই সবচেয়ে বড় করে দেখেন।’
জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ফলাফল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস বহনকারী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বৈশ্বিক সংকট একক কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে সম্পূর্ণরূপে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে বিকল্প উপায়ে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সংকট মোকাবিলায় সরকার গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফলেই আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকট সত্ত্বেও বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনার তালতলীতে আন্দারমানিক নদীর তীরে ভেসে এসেছে প্রায় ৩২ ফুট দীর্ঘ এক বিশাল আকৃতির সামুদ্রিক তিমির মরদেহ।
বুধবার সকাল ৭টার দিকে, উপজেলার বড়বগি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কাছে আন্দারমানিক নদীর তীরে স্থানীয় লোকজন তিমিটি দেখতে পান।
জেলায় এটি চতুর্থবারের মতো গভীর সমুদ্র থেকে তিমির মরদেহ ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তিমিটি দেখতে সকাল থেকে সেখানে মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সামুদ্রিক জাহাজের আঘাত অথবা রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় তিমিটি মারা যেতে পারে।
বন বিভাগের তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, কলাপাড়ার সঙ্গে তালতলীর সীমান্তবর্তী আন্দারমানিক নদীর দিকে মৃত তিমিটি ভেসে যাচ্ছিল। সেটিকে নিশানবাড়িয়ার দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। মাটিচাপা দেওয়ার আগে তিমিটির প্রয়োজনীয় তথ্য ও নমুনা সংরক্ষণ করা হবে।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেবল কুয়াকাটাতেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৬টি ডলফিন ও চারটি তিমির মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে উপকূলে বহু মৃত তিমি ভেসে এসেছে। এর মধ্যে বরগুনা এবং তালতলীতে চারটি তিমি ভেসে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই বরগুনার পায়রা নদীর মোহনায় ছোনবুনিয়ার চরে বিশাল আকৃতির একটি তিমি ভেসে আসে।
২০১৪ সালে তালতলীর নলবুনিয়ায় একটি তিমি ভেসে আসার পর সেটি ওই চরেই মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। তার আগে ১৯৯১ সালে ৪৮ ফুট লম্বা বিশাল আকারের একটি মৃত তিমি ভেসে আসে, যা পরে উদ্ধার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে নিখোঁজ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার নজরুল ইসলাম রনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং কথিত মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ডামুড্যার আওরঙ্গজেবের মোড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন রনির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় জনগণ।
মানববন্ধনে রনির স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, সৌদি আরবে পাঠানোর সময় তার সঙ্গে জাল টিকিটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে রনির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দালাল চক্রের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও রনির অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। এ ঘটনায় পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত রনিকে খুঁজে বের করে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আরহান রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক শাহীন বাবুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজনেরা।
রনির মা রোকসানা বেগম বলেন, "আমরা জানি না আমার ছেলে কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে।" তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যে, দ্রুত তার ছেলেকে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, রনির নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রনির সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ