ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত


বরিশালে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জেলার মধ্যে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মত বিনিময় সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালনায় বরিশাল সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম।

প্রধান অতিথি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সকল মামলার গুণাগুণ বিচার করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

তিনি আরো বলেন, দমনমূলক কাজের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত রয়েছে। তবে প্রতিরোধমূলক কাজগুলোতে জনসম্পৃক্ততা অনেক বেশি প্রয়োজন। সেজন্য আমরা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যেসব শিক্ষিত ব্যক্তিগণ আছেন এবং যারা অবিতর্কিত অবস্থানে রয়েছেন, তাদের মাধ্যমে কমিটি করছি। এই কমিটির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ নানা কাজ করা হচ্ছে।

মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার এবং বরিশালের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মধ্যে অন্য অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে গতি আনতে নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে গতি আনতে নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য অস্ত্র দ্রুত এবং কম খরচে তৈরি করতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। এ জন্য তারা গাড়ি, তেল-গ্যাস (ফ্র্যাকিং) এবং ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ কাজে লাগাচ্ছে।

বুধবার (১ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক অভিযানের কারণে রকেট মোটরের চাহিদা অনেক বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি নতুন স্টার্টআপগুলোও দ্রুত উৎপাদন ও কম খরচে অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য রকেটচালিত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট উৎপাদন বাড়াতে সরকার ৫৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়াও সহজ করছে।

তবে বিশ্বর বড় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো—লকহিদ মার্টিন, বোয়িং এবং আরটিএক্স—আগে থেকেই সতর্ক করেছে, রকেট মোটরের সংকটের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

গাড়ি ও তেল-গ্যাস শিল্পের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টার্টআপ কোম্পানি ক্যাস্টিলিওন। তাদের দাবি, গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত উন্নতমানের ইলেকট্রনিক চিপ তারা ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করছে। এসব চিপ মহাকাশ শিল্পের সমমানের যন্ত্রাংশের তুলনায় প্রায় ১০ ভাগ দামে পাওয়া যায় এবং সংগ্রহ করতেও প্রায় ছয় গুণ কম সময় লাগে।

এ ছাড়া কম্পানিটি তেল ও গ্যাস শিল্পে ফ্র্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত উচ্চচাপ সহনশীল ধাতব পাইপ ব্যবহার করছে। এগুলো রকেট মোটরের জন্য প্রয়োজনীয় তাপ ও চাপ সহ্য করতে পারে, আবার দামও কম ও সহজে পাওয়া যায়।

আরেক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আন্দুরিল রকেট মোটরের জ্বালানি তৈরিতে ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত বিশেষ ব্লেডবিহীন মিক্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কয়েক মিনিটেই বড় পরিমাণ জ্বালানি মেশানো সম্ভব, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তারা দাবি করছে, এতে উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে।

থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির ব্যবহারও রকেট মোটর তৈরিতে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান -এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত ধাতব যন্ত্রপাতির বদলে থ্রিডি প্রিন্টেড টুল ব্যবহার করলে নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করতে প্রায় এক বছরের বদলে মাত্র ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। নিউ মেক্সিকোভিত্তিক এক্স-বো সিস্টেমস থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে কম খরচে রকেট মোটর তৈরি করছে। তাদের দাবি, নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপনের সময় তিন থেকে ছয় বছর থেকে কমে প্রায় এক বছরে নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে তারা পেন্টাগনের কাছ থেকে ১৯১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেয়েছে।

অন্যদিকে ফায়ারহক অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তিতে রকেটের জ্বালানি তৈরির সময় ৬০ দিন থেকে কমে মাত্র ৭ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় এক-দশমাংশ খরচে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও রকেট মোটর উৎপাদনে এখনো কাস্টিং, কিউরিং, বেকিং, এক্স-রে পরীক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের মতো জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এ ছাড়া কিউরিং ওভেন ও এক্স-রে যন্ত্রপাতির সীমিত সংখ্যা বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর বড় বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

অন্যদিকে স্টার্টআপগুলোর সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা। বর্তমানে তারা বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়নি। পাশাপাশি পেন্টাগনের দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তি না থাকায় নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় ৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


মাগুরায় ৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও গাছের চারা বিতরণ

 সদর উপজেলার ৬৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

এগুলো বিতরণ করা হয়েছে সদর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল (এডিপি)-এর অর্থায়নে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সহায়তা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, মাদ্রাসার সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইজুড়ে বীরত্বগাথা প্রচারে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা এনডিএফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


জুলাইজুড়ে বীরত্বগাথা প্রচারে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা এনডিএফের

 

জুলাই মাস জুড়ে গণ-অভ্যুত্থানে হামলা, হুমকি ও বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে আহতদের চিকিৎসাসেবা, রক্ত ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করেন চিকিৎসকরা। এমনকি সরকারি পর্যায় থেকে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার (নো ট্রিটমেন্ট) নির্দেশ থাকলেও নানা কৌশলে আহতদের চিকিৎসা করে বহু প্রাণ রক্ষা করার দাবি করে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।

সংগঠনটি জানাচ্ছে, ওই বীরত্বগাথা, আত্মত্যাগ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের ইতিহাসের সূচনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তারা মাসব্যাপী 'জুলাই উদযাপন' কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'জুলাই অভ্যুত্থান: ইনসাফ, মেধা ও রাষ্ট্র বিনির্মাণ/রাষ্ট্র সংস্কার' শীর্ষক মাসব্যাপী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় এনডিএফ। কর্মসূচির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘জুলাইয়ের আত্মত্যাগ থেকে আগামীর অঙ্গীকার’ বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হক জানান, জুলাই স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় গবেষণা, চিকিৎসাবিষয়ক সম্মেলন, স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বিতর্ক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ‘এনডিএফ ৩৬ জুলাই অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানসহ নানা আয়োজন করা হবে।

আসন্ন ৯ আগস্ট রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপী সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

তিনি জানান, এই আয়োজনে লক্ষ্য শুধু একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মান দেওয়া, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের অবদান তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ন্যায়বিচার, মেধা, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা উদ্ভাবন করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তারা দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। সেই সাথে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমও আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

এনডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও নীরবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে যাওয়া, মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসা কিংবা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের ঠাণ্ডা মাথায় চিকিৎসা দিয়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র এনডিএফের উদ্যোগেই আন্দোলনের সময় আহতদের জন্য ৮৪ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেইসাথে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়, যাতে আহতদের চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

এনডিএফের সহ-সভাপতি ডা. আতিউর রহমান জানান, আন্দোলনের সময় সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দেওয়া সত্ত্বেও সংগঠনের পক্ষ থেকে সেগুলি সরবরাহ করা হয়। তাই চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুদ্দিন তালুকদার দাবী জানান যে, সে সময় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের কখনও কখনও আহতদের পরিচয় গোপন করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল—‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অনেক ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, বলার জন্য যে, তিনি গুলিবিদ্ধ নন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এই ভাবে চিকিৎসা দিয়ে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

ডা. নুরুদ্দিন আরো জানান, চিকিৎসকদের জন্য রোগীর জীবন সর্বাধিক অগ্রাধিকারে। তাই সেই নৈতিক দায়িত্ব থেকে এনডিএফের চিকিৎসকেরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

এনডিএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক খান জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এই ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব সকলের।

তিনি জানান, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মেধানির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা থেকেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

এনডিএফের যুগ্ম সম্পাদক ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব জানান, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং চিকিৎসকদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মাসব্যাপী কর্মসূচিতে গবেষণাপত্র আহ্বান, স্মৃতিকথা সংগ্রহ, আলোকচিত্র ও তথ্যভিত্তিক প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. উসামা রাইয়ান। সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএমইউতে ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


বিএমইউতে ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের আওতায় হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর উদ্যোগে ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে এই ল্যাবের উদ্বোধন করেন।

এ সময় ইন-সিলিকো কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজি গবেষণার জন্য স্থাপিত দু’টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়ার্কস্টেশনও উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনকালে উপাচার্য বলেন, নতুন ওষুধ আবিষ্কার, বায়োইকুইভ্যালেন্স গবেষণা এবং আধুনিক কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দুর্বার আগ্রহ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলোরা শারমিন।

উপাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণায় ইন-সিলিকো কম্পিউটেশনাল ফার্মাকোলজির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই ল্যাবটি ড্রাগ-রিসেপ্টর ইন্টারঅ্যাকশন, ড্রাগ, ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন বিশ্লেষণ, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং উচ্চতর গবেষণা, বিশেষ করে পিএইচডি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তিনি আরও বলেন, ফার্মাকোলজি বিভাগের মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কার, ওষুধের বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি এবং বিভিন্ন গবেষণায় বিভাগটি অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উদ্বোধনের পর উপাচার্য বিভাগের গবেষণাগার পরিদর্শন করেন। উক্ত সময় তিনি লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি-ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি এবং হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। গবেষণাগারের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি গবেষণার পরিধি আরও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

ডা. ইলোরা শারমিন জানান, অত্যাধুনিক এসব যন্ত্রের মাধ্যমে বিভাগে থেরাপিউটিক ড্রাগ মনিটরিং, বায়োইকুইভ্যালেন্স স্টাডি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ইউনিট এবং টক্সিকোভিজিল্যান্স-সংক্রান্ত সেবা চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি গবেষণা ও রোগীসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।

এছাড়া, উপাচার্য হিট প্রোজেক্ট-১২২৫৬-এর আওতায় পরিচালিত গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ড্রাই ফার্মাকোলজি ল্যাবের উদ্বোধন এবং গুড ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ফার্মাকোলজি বিভাগের গবেষণা অবকাঠামো, কম্পিউটেশনাল গবেষণা সক্ষমতা এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করার ও তা শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, উপাচার্যের একান্ত সচিব-১ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা জোহরা, সহকারী অধ্যাপক ডা. শরদিন্দু কান্তি সিংহ, সহকারী অধ্যাপক ডা. নাজিরা মাহমুদ বাধন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও উপাচার্যের একান্ত সচিব-২ মো. লুৎফর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর হোসেন, সায়েন্টিফিক অফিসার ড. হাবিবা আক্তার ভূঁইয়াসহ বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%