০৭:৫৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চোখের ছানি রোগ এখনও বাংলাদেশে অন্ধত্বের একটি প্রধান কারণ হয়ে রয়ে গেছে। তবে রোগ নির্ণয় যদি সময়মতো করা হয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে সক্ষম হন।
আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত ‘ছানি সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে যে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে তিনি তার বক্তব্যে এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাকটিভ সার্জনস (বিএসসিআরএস) এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ডা. জিয়াউদ্দিন আরও বলেন, চোখের ছানি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে অন্ধত্বের প্রায় ৫১ শতাংশের কারণ ছানি হলেও, বাংলাদেশে এই হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চিকিৎসানির্ভর থাকায় রোগের প্রাথমিক শনাতকরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার বর্তমান চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পিবিআই তদন্ত
জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে। যাতে চোখের রোগ সমেত বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শওকত কবির। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন ছানি সচেতনতা মাস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ. এস. এম. মইন উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডা. মইন উদ্দিন উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যাকলগ প্রায় ১০ লাখ। প্রতি ৮৩৩ জন অপেক্ষমাণ রোগীর প্রতি একজন যোগ্য সার্জন রয়েছেন। দেশে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০ জন, যা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় চার গুণ কম।
তিনি জানিয়েছেন, দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার অন্ধ শিশুর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিশু চিকিৎসাযোগ্য হলেও, এখনও তারা শৈশবকালীন ছানির অস্ত্রোপচার পায়নি। একজন সার্জনের ওপর যদি ১ হাজারের কাছাকাছি রোগীর দায়িত্ব পড়ে, তবে জমে থাকা রোগীর চাপ কমানো সম্ভব হবে না। প্রতিরোধযোগ্য এই অন্ধত্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ছানি অস্ত্রোপচার খুবই নিরাপদ, কার্যকর এবং দ্রুত আরোগ্য নিশ্চিত করছে। সুতরাং, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে ভয়, কুসংস্কার বা অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
৪০ বছর বয়সের পরে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করার জন্য বক্তারা আহ্বান জানান। তারা বলেন, যদি দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, ঝাপসা দেখা দেয় বা ছানির লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে দ্রুত নিকটস্থ চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তাদের কথায়, ‘দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেলে অবহেলা নয়—চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সময়মতো ছানি অপারেশনই অন্ধত্ব প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন