০৩:৫১ এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এবং রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। মিডিয়ার সামনে বসে, প্রতিদিন পেপার পত্রিকা দেখে দেশের কোথাও না কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
সোমবার বিকেলে বদরগঞ্জ হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের লোকজনই জড়িত। তাদের দলের লোকজনের বাড়তি ইনকামের আশায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটছে। বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে যে ব্যবসায়ী ও চাকরি জীবী সহ দেশবাসী ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়ার পরে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিকে কোন খেয়ালই করছেন না।
এটিএম আজহার বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন, বাণিজ্যমন্ত্রী, এলজিইডি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ সকল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে তিনি সংবিধান ছাড়া কথা বলেন না। তিনি সব বিষয়ে পারদর্শী। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক নীতিবাক্যের কথা বলেন। কিন্তু সে নীতির বাস্তবায়নে তার যথেষ্ট অনীহা। সভা সেমিনারে তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু তদন্ত করলে দেখা যায় যে, মাদক জুয়া সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের লোকজনই জড়িত।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ভালো করে জানেন যে, মাদক নির্মূল করতে না পারলে এ দেশে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, রাহাজানি এবং নারীদের প্রতি অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই যে কোন মূল্যে সবার আগে সব ধরনের মাদককে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং অন্যায় অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই নির্মূল করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র এ দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে, কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক উৎপাদনকারী কারখানা বসিয়েছে। সেখান থেকে মাদক সরবরাহ করে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং উদীয়মান যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তারা চায় এ দেশের মানুষ মেধাশূন্য হয়ে মাদক সেবনে উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে। মাদক বিক্রির একটি বড় অংশ সরকারি দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক উচ্চ পর্যায়ে চলে যায়, তাই মাদক নির্মূল হয় না।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
এটিএম আজহার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে জানান, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ধর্ষক জড়িত, তিনি নিজেও পুরোপুরি মাদকের সঙ্গে আসক্ত ছিলেন। ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি নিজেও মাদক সেবন করেছিল বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তাই সবার আগে আমাদের মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মূলের বিকল্প নেই। সুতরাং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, সবার আগে মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে রক্ষা করুন এবং বাংলাদেশের রক্ষা করুন।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে আজহার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে লুটপাটের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা ব্যাংক ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী ব্যাংকটি একটি ইসলামী আদর্শিক ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু একটি মহল ব্যাংকটি সুদ মুক্ত হয়ে পরিচালিত হওয়ার পথে বাধা দিচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা এস আলমের টাকা পাচারকারীকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল হক, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদ রানাসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন