ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ: এটিএম আজহার


আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ: এটিএম আজহার

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এবং রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। মিডিয়ার সামনে বসে, প্রতিদিন পেপার পত্রিকা দেখে দেশের কোথাও না কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

সোমবার বিকেলে বদরগঞ্জ হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনার সঙ্গে তাদের দলের লোকজনই জড়িত। তাদের দলের লোকজনের বাড়তি ইনকামের আশায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটছে। বর্তমান আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে যে ব্যবসায়ী ও চাকরি জীবী সহ দেশবাসী ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়ার পরে কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিকে কোন খেয়ালই করছেন না।

এটিএম আজহার বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন, বাণিজ্যমন্ত্রী, এলজিইডি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ সকল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে তিনি সংবিধান ছাড়া কথা বলেন না। তিনি সব বিষয়ে পারদর্শী। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক নীতিবাক্যের কথা বলেন। কিন্তু সে নীতির বাস্তবায়নে তার যথেষ্ট অনীহা। সভা সেমিনারে তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু তদন্ত করলে দেখা যায় যে, মাদক জুয়া সহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের লোকজনই জড়িত।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও ভালো করে জানেন যে, মাদক নির্মূল করতে না পারলে এ দেশে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, রাহাজানি এবং নারীদের প্রতি অন্যায় অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম কোনভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই যে কোন মূল্যে সবার আগে সব ধরনের মাদককে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এ দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে এবং অন্যায় অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি রাষ্ট্র এ দেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে, কাঁটাতারের বেড়ার পাশে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক উৎপাদনকারী কারখানা বসিয়েছে। সেখান থেকে মাদক সরবরাহ করে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং উদীয়মান যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। তারা চায় এ দেশের মানুষ মেধাশূন্য হয়ে মাদক সেবনে উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে। মাদক বিক্রির একটি বড় অংশ সরকারি দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেক উচ্চ পর্যায়ে চলে যায়, তাই মাদক নির্মূল হয় না।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

এটিএম আজহার শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে জানান, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ধর্ষক জড়িত, তিনি নিজেও পুরোপুরি মাদকের সঙ্গে আসক্ত ছিলেন। ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি নিজেও মাদক সেবন করেছিল বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তাই সবার আগে আমাদের মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক নির্মূলের বিকল্প নেই। সুতরাং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো, সবার আগে মাদক নির্মূল করে যুব সমাজকে রক্ষা করুন এবং বাংলাদেশের রক্ষা করুন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে আজহার বলেন, ইসলামী ব্যাংকে লুটপাটের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা ব্যাংক ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় সুদ ও ঘুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী ব্যাংকটি একটি ইসলামী আদর্শিক ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু একটি মহল ব্যাংকটি সুদ মুক্ত হয়ে পরিচালিত হওয়ার পথে বাধা দিচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা এস আলমের টাকা পাচারকারীকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল হক, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদ রানাসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ এম


লেবাননে ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলছে

ইরানকে চাপে ফেলতে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে খবরের ভিত্তিতে জানা যায় যে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বলছেন যে, লেবাননে চলমান হামলা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইসরাইল প্রতোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দর আল এতাইবি এই লক্ষণীয় মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইল খুব ভালো করেই জানে যে, ইরানকে সরাসরি স্পর্শ না করে আঘাত করার এবং দেশটির রক্তক্ষরণ ঘটানোর সবচেয়ে কার্যকর জায়গা হলো লেবানন।

এই হামলার পেছনে ইসরাইলের বহুমুখী কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে বলে এই বিশ্লেষক উল্লেখ করেন। চলমান পরিস্থিতির ভেতর বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিণতির প্রতিটিই ইসরাইলের অনুকূলে যেতে পারে। প্রথমত, যদি কোনো আলোচনা বা সমঝোতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ইসরাইল পুনরায় পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে যাবে, যা তাদের মূল লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, еবং যদি লেবাননকে এমন এক চরম সংকটে ঠেলে দেওয়া যায় যা দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে, তবে তা ইসরাইলের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করবে। আর যদি এই সবকিছুর কোনোটিই না ঘটে, তবে ইসরাইল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের বসতি সম্প্রসারণের দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টিও এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ইস্যুতে ইসরাইলের ওপর পূর্বে আরোপিত ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখাগুলো পুনর্বিবেচনা করেছেন। এর কারণ হলো, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এখন বুঝতে পেরেছে যে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা মূলত ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

অধ্যাপক আল এতাইবি আরও সতর্ক করেছেন যে, এই ক্রমাগত বিমান হামলা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ তেহরানকে একটি কঠিন উভয়সংকটে ফেলবে। এর ফলে, ইরান হয়তো পুনরায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হবে, যার পুরো দায় তাদের ওপর বর্তাবে। অথবা এই চাপের মুখে ইরান-লেবানন অক্ষ বা জোট ভেঙে যাবে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিটি ঘটলে, তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রকল্প এবং তাদের প্রক্সি বা মিত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি বিরাট ধাক্কা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলছে না: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান কোনও ধরনের আলোচনা বা সংলাপে লিপ্ত নেই। তিনি ইরানের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেন, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়েছেন যে এই মুহূর্তে শত্রুপক্ষের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে আলোচনা চলছে না এবং ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও তেহরান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আব্বাস আরাগচির বরাত দিয়ে আজিজি জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কৌশলগত পদ্ধতি তৈরি করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, এবং বৈরী রাষ্ট্রগুলোর কোন যুদ্ধজাহাজ বা নৌযানকে এটি দিয়ে পার হতে দেওয়া হবে না।

শত্রুপক্ষ ভেবেছিল ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিক দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রয়েছে, যাদের একটির রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। এর আগে কেউ কল্পনা করতে পারেনি যে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

ক্ষেত্রের নিরাপত্তার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর নির্ভরশীল মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি তা পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘাঁটিগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

চলতি যুদ্ধে যে দেশগুলো মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেয়নি, তারা নিরাপদ থেকেছে। পক্ষান্তরে, মার্কিন ঘাঁটির আমন্ত্রক দেশগুলো সুরক্ষিত থাকতে পারেনি। এটি প্রমাণ করে যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের সাথে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, যার ফলস্বরূপ দেশটির সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ নামক একটি ব্যাপক পাল্টা অভিযান চালায়। প্রায় ১০০ তরঙ্গের এই অভিযানে শতশত ব্যালিস্টিক এবং হাইপারসনিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে মার্কিন এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়।

যুদ্ধের ৪০তম দিনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং পরবর্তীতে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের অতিরিক্ত দাবি ও অবস্থান পরিবর্তনের কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে ইরান নতুন কোনও প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তেহরানের অবস্থান হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগে ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ তেহরানের তেল রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের পথে বন্ধ করার যে উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের হুঁশিয়ারির পর বৈরুত হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলো ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


ইরানের হুঁশিয়ারির পর বৈরুত হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটলো ইসরাইল

ইরান থেকে আসা হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে সহনশীলতা প্রদর্শিত হবে না।

সোমবার (১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্টে জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা সেখানে যেতে প্রস্তুত ছিল, তাদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, তিনি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি সমঝোতাতেও পৌঁছেছেন। ট্রাম্পের কথায়, 'হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা মুখে বলেছে, সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ রাখবে। ইসরাইল তাদের দিকে হামলা চালাবে না এবং তারাও ইসরাইলের দিকে হামলা চালাবে না।'

এদিকে, ইসরাইল গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার জন্য নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে বাস্তুচ্যুতির একটি নতুন ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরাইল এবং তার মিত্রদের সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।' ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ইতিমধ্যে সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলা করে, তবে তারা হতাহতের আশঙ্কায় উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলবে।

এবং এই প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, 'ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে উত্তরাঞ্চল ও সামরিক বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা ক্ষতির শিকার না হন।' ইরানের কর্মকর্তাদের দাবী করেন, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে উল্লেখ ছিল।

ইরানের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই ধরনের ডেভেলপমেন্টের ফলে সতর্ক করেন যে, বৈরুতের উপর ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের বাড়তে থাকা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।'

আবারও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেন, 'যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।' তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে এটি পুরো চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ একই মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, 'নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো — এগুলো যুদ্ধবিরতি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।' তিনি আরো বলেন, 'প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য আছে, এবং ওই বিল শোধ করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক হবে।'

পরে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর লেবাননে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি সম্ভবত ভেঙে যাবে। ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

হিব্রু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল বৈরুত হামলার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি (কান) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২২ এম


হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল সহজ করতে প্রস্তুত ইরান

 

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক এবং সহজ করতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জলপথে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে, জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার আহ্বান জানানোর পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।

ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জাপানের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আশ্বস্ত করেন যে টোকিওর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইরান বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে অত্যন্ত সহজে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তার জন্য ইরান সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে, এই জলপথে সৃষ্ট সংকটের জন্য সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে ইরানি প্রেসিডেন্ট। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ ইরানের নীতি নয়, বরং ইরানের শিপিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিই মূলত এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান তার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখবে বলে এই ফোনালাপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, এই দুই নেতার ফোনালাপ বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%