রিপোর্ট-শাহ্ জালাল সরদার, মাদারীপুর
১১:০৮ পি.এম
মাদারীপুরের ডাসার থানা এলাকায় ক্রয়কৃত পৈত্রিক ও ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান, ১২ লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী বিনষ্ট এবং দফায় দফায় মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে নিঃস্ব করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জমিতে নির্মাণ কাজ করতে গেলে গৃহবধূ ও তার পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষরা।
ভুক্তিভোগী মোর্শেদা বেগম (৩৯) নামের এক গৃহবধূ গত ২৫ মে ডাসার থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোর্শেদা বেগম বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার মেদাকুল (সালতা) গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান কুদ্দুসের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান কুদ্দুস গত ২০২৪ সালে ডাসার থানার দক্ষিণ ভাউতলী এলাকায় সুধির কুমার দাস ও রমেশ চন্দ্র দাস গংদের নিকট থেকে ১০ শতাংশ এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম গংদের নিকট থেকে তিন দাগে ৮৩ শতাংশ ও অন্য দাগে আরও ৮ শতাংশসহ মোট ১০১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটির বিআরএস খতিয়ান নম্বর যথাক্রমে ২৮২/১ (দাগ নং- ২০৬, ২০৮, ২১১) এবং খতিয়ান নম্বর ১৬১ (দাগ নং- ২০৭)।
জমি ক্রয়ের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি বিপুল টাকা খরচ করে নাল জমিটি বালু দিয়ে ভরাট করেন। বর্তমানে সেখানে তাদের লাগানো ৫০০টি ফলদ গাছ, ২টি টিনের পাকা বসত ঘর, ১টি শেড ঘর ও পল্লী বিদ্যুতের মিটার রয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
৯ বার মামলা করে হেরেও থামেনি প্রতিপক্ষ
মোর্শেদা বেগম জানান, তারা ওই জমিতে একটি পাঁচতলা ভবনের কাজ শুরু করলে স্থানীয় নূর জাহান বেগম (৬০), দেলোয়ার বেপারী (৬৫), জানে আলম বেপারী (৬০), ইব্রহিম বেপারী (৩০), শাহ আলম বেপারী (৫৫) এবং সাকিব বেপারী (৩২) সহ একদল কুচক্রী মহল বাধা প্রদান করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষরা গত ৩ বছর ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা জমিটি নিয়ে মহামান্য আদালতে একে একে ৯টি মামলা দায়ের করে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মামলা নম্বরসমূহ হলো: পি-১৪৬১/২৫, পি-১০৬৪/২৫, দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং-২৬৯/২৪, সি.আর-১২/২৬, মিস আপীল-৬২/২৫, ৬১৫/২৬ এবং ৯৬/২৫। বিজ্ঞ আদালত প্রতিবারই নথিপত্র ও সত্যতা যাচাই করে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান কুদ্দুসের পক্ষে রায় প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের রায় অমান্য করে চক্রটি বারবার নতুন নতুন ভুয়া মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছে।
১২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও গুমের হুমকি
বারবার মামলা ও নির্মাণ কাজে নিষেধাজ্ঞার কারণে সাইটে এনে রাখা ১০ লক্ষ টাকার রড এবং ২ লক্ষ টাকার সিমেন্টসহ মোট ১২ লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ গত ১৯/০২/২০২৬ এবং ২৫/০৫/২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগীরা পাঁচতলা ভবনের কাজ করতে গেলে বিবাদীরা দলবল নিয়ে কাজে বাধা দেয়। এ সময় বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রতিপক্ষরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জমিতে পা দিলে সবাইকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দেয়। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী মোর্শেদা বেগম বলেন,
"আমরা বৈধভাবে জমি কিনে, খাজনা-খারিজ দিয়ে ঘরবাড়ি তুলেছি। আদালতও আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু দেলোয়ার বেপারী ও জানে আলম বেপারীরা প্রতিনিয়ত আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের ১২ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেল। আমরা এখন জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও আইনি সহায়তা চাই।"
এই বিষয়ে ডাসার থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারির পটভূমিতে স্প্যানিশ ফুটবলে পুনরায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদ এবার বার্সেলোনার ঐতিহাসিক শিরোপাগুলো বাতিল করার একটি চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেছে। প্রেসিডেন্টের পদে পুনর্নির্বাচনে এনরিকে রিকুয়েলমের বিরুদ্ধে বড় জয় অর্জন করা ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ইতোমধ্যে উয়েফার সদর দপ্তরে একটি বিস্তৃত আইনি নথি জমা দিয়েছেন।
৬৫-৩৫ ভোটের ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর, পেরেজ সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে উয়েফার কাছে একটি বিস্ফোরক আইনি ডসিয়ার প্রেরণ করেছে। মাদ্রিদের বিশ্বাস, অভিযোগের গুরুত্বের কারণে কেবল উয়েফাই একটি 'দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি' দিতে সক্ষম।
আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বার্সেলোনার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হল বার্সেলোনার অতীতের শিরোপাগুলোকে ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা।
এই পদক্ষেপ স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের সম্পর্কের সম্পূর্ণ ভাঙনের ইঙ্গিত বহন করছে। পেরেজ পূর্বে প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, দুই ক্লাবের মধ্যে সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
এএস-এর তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা সদর দপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনটি প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার। এতে রিয়াল মাদ্রিদের কর্মকর্তাদের দাবি রয়েছে যে, ২০ বছর ধরে চলা এমন একটি 'প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি' প্রমাণিত হয়েছে যা লা লিগার ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল।
নথিতে মৌসুমভিত্তিক বিশ্লেষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের দাবি, রেফারিদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কাছ থেকে বহু পয়েন্ট 'ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে'। পেরেজ অতীতে এমনকি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন, 'শুধু এ মৌসুমেই আমাদের কাছ থেকে ১৬ থেকে ১৮ পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে।'
এই তথ্য-প্রমাণগুলো উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের কাছে উপস্থাপন করে রিয়াল মাদ্রিদ বোঝাতে চাইছে যে, অভিযোগের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে, শুধু জরিমানা বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়।
সেফেরিন পূর্বে নেগ্রেইরা মামলাকে ফুটবলে তার দেখা সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। স্প্যানিশ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া চলার কারণে উয়েফা তাদের নিজস্ব তদন্ত স্থগিত রেখেছিল। তবে রিয়ালের নতুন ডসিয়ার জমা দেওয়ার ফলে বিষয়টি আবারও উয়েফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি, পেরেজ, সেফেরিন এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে হওয়া বৈঠকগুলোও এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও উয়েফা এখনো স্পষ্ট করেনি যে, অতীতের ঘরোয়া শিরোপা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের আছে কি না, তবুও সংস্থাটি বিষয়টির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তারা কখনোই বার্সেলোনাকে ঘিরে খোলা তদন্ত ফাইল পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
এদিকে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের দিক থেকেও বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্লাবটি নতুন কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবে। এর মাধ্যমে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আরও লড়াকু অবস্থানে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কোচ পরিবর্তনের পাশাপাশি, ক্লাবটি ইতোমধ্যেই লিভারপুল থেকে ইব্রাহিমা কোনাতে এবং ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোর চুক্তি সম্পন্ন করেছে। একই সাথে নিকো পাজকেও প্রথমদলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আক্রমণাত্মক দলবদল নীতি এবং আইনি লড়াই এই দুই পক্ষে এগোচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন মেয়াদে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের লক্ষ্য স্প্যানিশ ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্য স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং দেশের পারমাণবিক শক্তি আরো দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিম দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
কিম জং উন দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রের মানের পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এই স্থাপনাটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরো শক্তিশালী করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নকে আরো জোরদার করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়ে অনুষ্ঠিত তিন দফা শীর্ষ বৈঠক কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার ফলে পিয়ংইয়ং পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ শুরু করেছে।
বর্তমানে, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানাদি রয়েছে বলেও ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মার্চ মাসে প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রায় ৫০টি ওয়ারহেড ইতোমধ্যে সংযোজন করা হয়েছে।
অপরদিকে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় অন্তত দুটি সক্রিয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে, একটি ইয়ংবিয়ন এলাকায় এবং অন্যটি ক্যাংসন এলাকায়। সংস্থাটি ইয়ংবিয়নে নতুন একটি স্থাপনার নির্মাণকাজও পর্যবেক্ষণ করছে, যার অবকাঠামো কাংসনের স্থাপনার সঙ্গে অনেকটা মিলে যাচ্ছে।
তবে কিম যে কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন, সেটি ইয়ংবিয়নের নতুন কেন্দ্র নাকি অন্য কোনো গোপন স্থাপনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেসিএনএ প্রতিবেদনে কারখানাটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
প্রকাশিত ছবিতে কিমকে দীর্ঘ সারির সেন্ট্রিফিউজের মধ্য দিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কারখানাটি আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই অন্তত তৃতীয়বারের মতো, যখন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পরিদর্শনের ছবি প্রকাশ করেছে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, নতুন স্থাপনাটি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির পরিণত ও বিস্তৃত রূপের ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, দেশটি এখন গবেষণা ও সীমিত উৎপাদনের পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপক উৎপাদন এবং অস্ত্র মোতায়েনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ২০২৬ সালের হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটি এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।
এদিকে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষক সংস্থা নিউক্লিয়ার বেআপনস প্রহিবিশন মনিটর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ছে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের হাতে ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৭৪৫-এ পৌঁছেছে। ২০২৫ সাল ছিল টানা নবম বছর, যখন মোতায়েনযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে রাশিয়ার কাছে, যার সংখ্যা ৫ হাজার ৪০০-এর বেশি এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার হাতে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে সামনে রেখে ফুটবল প্রেমিদের উন্মাদনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা, যা ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যের ছিল, এবং মেসির ২০ ফুট লম্বা অবয়ব নিয়ে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আয়োজন করেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।
সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যার আগে কলাপাড়া পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক মোটরসাইকেল অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সকলে আর্জেন্টিনার জার্সি, পতাকা ও ব্যানার বহন করেন। এই সময় ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ এবং ‘মেসি, মেসি’ স্লোগানে শহরটি মুখরিত হয়ে ওঠে।
শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। বৃষ্টি সত্ত্বেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। রাস্তার দুপাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে এই শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করেন।
এর আগে, হেলিপ্যাড মাঠে শিশু-কিশোর, তরুণ এবং বিভিন্ন বয়সী হাজারো আর্জেন্টিনা সমর্থক উপস্থিত হয়ে এক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। সমর্থকদের অনেকেই মুখে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙ এঁকে এবং প্রিয় তারকা মেসির ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের কাপের সাফল্যের আশায় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেন, কলাপাড়ায় এর আগে এত বড় পরিসরে এরকম কোনো ফুটবল সমর্থকদের শোভাযাত্রা দেখা যায়নি। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই পরিকল্পনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের মঞ্চে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে, আলজেরিয়া আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছে। দলটির তরুণ মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভালো খেলা নয়, বরং লিওনেল মেসিদের হারানোও। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে আলজেরিয়া দল। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের প্রথম ম্যাচে, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ২০ বছর বয়সী মাজা বলেন, “ইনশাআল্লাহ্, আমরা মেসিকে হারাব। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি ভালো বিশ্বকাপ খেলতে চাই।” বর্তমানে বায়ার লেভারকুসেনের হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, প্রতিপক্ষ বিভিন্ন কৌশলে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করবে। তবে সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে, নিজেদের খেলায় মনোযোগী থাকাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। মাজা বলেন, “আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল খেলতে হবে এবং শতভাগ উজাড় করে দিতে হবে। এরপর দেখা যাবে কী হয়। আমরা বিশ্বাস করি, ভালো কিছু করতে পারব।” ক্যানসাস সিটিতে পৌঁছানোর পর, দলটি সরাসরি ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যায়, যেখানে বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত আলজেরিয়ান সমর্থকেরা পতাকা ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দলকে স্বাগত জানান। ফলে বিশ্বকাপের আবহে, আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে আলজেরিয়া শিবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ