০৬:৩১ পি.এম
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসে একটি বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, রাজ্যের সব কমিটি ও সহযোগী সংগঠনগুলো ভেঙে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানায়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর কার্যকর হবে।
দলটি জানিয়েছে, সংগঠনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম, কাঠামো এবং দায়িত্বের বণ্টন নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এসময় ধাপে ধাপে নতুন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সংকটের উদ্ভব ঘটেছে দুই নেতাকে বহিষ্কার করার পর। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বহিষ্কারের পরপরই উক্ত দুই নেতা দাবি করেন, ৮০ সদস্যের তৃণমূল বিধায়ক দলের মধ্যে ৬০ জন ওই নেতাদের সমর্থন করছেন।
আরও পড়ুন: ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট: এসিল্যান্ডকে সিলেটে সংযুক্তি
ভারতের দলত্যাগবিরোধী আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য সমর্থন করে তাহলে আলাদা অবস্থান গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবী, তারা সেই সীমা অতিক্রম করেছে। তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে করার প্রস্তাবও তুলে ধরেছে। অথচ তারা একইসাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের প্রধান হিসেবে দেখতে চাচ্ছে বলেও জানায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ঋতব্রত অভিযোগ করে বলেন, অভিষেক দলকে ‘করপোরেট প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত করছেন।
সংকটটি আরও বাড়ে যখন বহিষ্কৃত নেতারা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক) দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযুক্ত হয়েছেন।
সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে, ৬০ বিধায়কের সমর্থনের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসে একটি বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতরের এই সংকট সামাল দেওয়ার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন