ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বরিশাল, ৮ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন)-এর কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২৪-২০২৭) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের গ্র্যাটিচিউড হলে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি তাপতুন নাসরীন। তিনি নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই সমাজের রোল মডেল। নিজেদের দক্ষতা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে যাতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে তোমরা অনুসরণীয় হয়ে উঠতে পারো। এজন্য তদন্তসহ পুলিশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে হালনাগাদ রাখা এবং স্মার্ট ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হওয়া জরুরি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এই কর্মশালার শিক্ষা শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না, বরং তা কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিপিডব্লিউএনের কার্যক্রম বর্তমানে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিস্তৃতি লাভ করেছে এবং নারী পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক পুলিশিং ব্যবস্থায় নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নেতৃত্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। পুলিশিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নারীরা সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। নিজেদের কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।”

দিনব্যাপী কর্মশালায় বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধিরা কৌশলগত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক, কর্ম-জীবনের ভারসাম্য, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল নিরাপত্তা, জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) সেবা জোরদারকরণ এবং প্রযুক্তি-সহায়তায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলার উপায় নিয়ে বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালনা করেন।

এ সময় ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি শ্রবণা দত্ত জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশি কার্যক্রম এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) খন্দকার শামীমা ইয়াসমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (স্টেট) তাহমিনা তাকিয়া, পুলিশ সুপার (রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়) রুনা লায়লা, অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিডব্লিউএন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রশিক্ষণার্থীরা।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ এক যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


শরীয়তপুরে নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ এক যুবক

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার জয়ন্তী নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে রবিউল (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। রবিবার (৮ জুন) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।

রবিউলকে উদ্ধারের জন্য মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহিত স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিবেদনের লেখা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল বিকেলে তার বন্ধুদের সঙ্গে জয়ন্তী নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি পানির তলানি চলে যান। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি প্রচারিত হলে স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাকে খুঁজে বের করতে পারেননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

এ ঘটনার পর থেকেই নদীর তীরে নিখোঁজ যুবকের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিরা ভিড় করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সংবাদ না পেয়ে পরিবার সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা অনুরোধ করেছেন দ্রুত রবিউলকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হোক।

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহযোগিতায় নদীতে সমন্বিত তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্ধকার ও নদীর গভীর পানির কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকারী দল জানায়, যদি প্রয়োজন দেখা দেয় তবে পরদিনও তল্লাশি কার্যক্রম চলতে থাকবে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নদীর বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার দুই ভাইয়ের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার দুই ভাইয়ের মরদেহ

লালমনিরহাটের মোগলহাট জিরো পয়েন্ট এলাকায় ধরলা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া আপন দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাওন (১৪) এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির (১৬)। তারা মোগলহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রবিবার (৭ জুন) দুপুরে শাওন, সাব্বির ও তাদের এক প্রান্তিক বন্ধু মিলে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তারা নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শাওন ও সাব্বির স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ ঘণ্টার নিরলস অনুসন্ধানের পরে সোমবার রাতে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, আপন দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে মোগলহাট এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০০ দিনে কতটা সফল মন্ত্রী শেখ রবিউল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


১০০ দিনে কতটা সফল মন্ত্রী শেখ রবিউল?

সরকারের প্রথম ১০০ দিন সাধারণত কোনো একজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে ধরা হয়। সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জনসেবা সম্পর্কিত নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকারিতা কেমন হলো - এই সব বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক বিশ্লেষণ করা হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমের মধ্যে কিছু সাফল্য চোখে পড়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাও রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে সড়ক খাত কয়েক বছর ধরে যানজট, দুর্ঘটনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সমালোচিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৫.১ শতাংশ ক্ষতি হয়। তাই নিরাপদ এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জাতীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জন্য যাত্রা ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তখন নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া চলছিল।

এমন পরিস্থিতিতে কোটি মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখাটা কঠিন ছিল, তবুও আগাম প্রস্তুতি, মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, টোল প্লাজা ও ফেরিঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে ঈদুল ফিতরে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এরপর ঈদুল আজহার যাত্রা ব্যবস্থাপনাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা—দুই উৎসবেই মহাসড়ক সচল রাখা ও পদ্মা ও যমুনা সেতুতে বিপুল যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপার নিশ্চিত করা শেখ রবিউল আলমের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম বড় অর্জন।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাপক ছিল, কোরবানির পশু পরিবহনের ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, হাওর অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলা থেকে লাখ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া দেশের বিভিন্ন হাটে আনা হয়েছিল।

এমন অবস্থায় ভারি যানবাহনের চাপের মধ্যে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও হয়রানি প্রতিরোধ, এবং ফেরিঘাট ও সেতুগুলোতে পশুবাহী যানবাহনের অগ্রাধিকারভিত্তিক পারাপারের কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে পদ্মা ও যমুনা সেতুর ঈদকেন্দ্রিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা।

একই সময়ে যমুনা সেতু দিয়ে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন চলাচল করে এবং টোল আদায় হয় ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, দুই সেতুর মালিকানা দিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ৬৪ কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।

ঈদযাত্রার সবচেয়ে ব্যস্ত দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়, যার বিপরীতে ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা টোল আদায় হয়, যা সেতুটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একদিনের টোল আদায়ের রেকর্ড।

অন্যদিকে, যমুনা সেতুর একই দিনে ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়ে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা টোল আদায় হয়।

শেখ রবিউল আলমের মন্ত্রণালয়ে টোল আদায়ে স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ডিজিটাল টোল ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণের ফলে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টোল ফাঁকি কমানোর উদ্যোগ এবং ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতাও বেড়েছে।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পদ্মা সেতু সংযোগ সড়কে যান চলাচল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় দেখা গেছে।

যদিও রাজধানীর যানজট এখনো একটি বড় সমস্যা, তবে ঈদের সময় মহাসড়কগুলোতে অতীতের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করছে। তাদের মূল্যায়নে দাবি করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আধুনিক ও কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো অপরিহার্য।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে শেখ রবিউল আলম চলমান সড়ক ও সেতু প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, সময়মতো বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজের গতি বেড়েছে এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক।

তবে সড়ক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা এখনও দুর্ঘটনা। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রয়োজন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে সামগ্রিক মূল্যায়নে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ধরা হচ্ছে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি নিশ্চিত করা, পদ্মা ও যমুনা সেতুতে রেকর্ডসংখ্যক যানবাহন পারাপার ও প্রায় ৬৪ কোটি টাকার টোল আদায়, মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া, এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে গতি রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা।

তবে নিরাপদ সড়ক, দুর্ঘটনা হ্রাস, রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান এবং গণপরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে শেখ রবিউল আলমের পারফরম্যান্সকে ‘আশাব্যঞ্জক সূচনা’ বলা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জঙ্গল সলিমপুরে চার সড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪১ পি.এম


জঙ্গল সলিমপুরে চার সড়ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর, যা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, সেখানে প্রশাসনের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে সেখানকার চারটি সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সোমবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ।

দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি জনপদে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখল, অবৈধ আধিপত্য আর বিচ্ছিন্নতার কারণে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। যেখানে আগে দিনের আলোতেও যেতে বরং ভয় পেতেন অনেকে, সেই জঙ্গল সলিমপুরে এখন শোনা যাচ্ছে এক্সকেভেটরের শব্দ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন আশা হিসেবে দেখছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর-টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) পাশ দিয়ে ভাটিয়ারী-বালুচড়া লিংক রোড হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে সংযুক্ত আরেকটি সড়ক এবং জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরে আরও একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্য ছিল। ইয়াসিন ও রোকন বাহিনীর মতো সন্ত্রাসী চক্র এখানে প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে। অতীতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই এলাকায়।

৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দেন। এরপর, প্রশাসনের অনুরোধে সেনাবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং পুরো এলাকাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পুরো এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ বলেন, বর্তমানে আলীনগর স্কুল থেকে সড়ক প্রশস্তকরণ ও মাটি কাটার কাজ চলছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট। পাহাড়ি ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্তত তিনটি বড় সেতু এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি, পাহাড়ধস রোধে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় কাজ করা চ্যালেঞ্জিং হলেও বিশেষ কৌশলে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে মাটি কেটে রাস্তার ভিত্তি তৈরি হলে বৃষ্টির পানিতে মাটি স্বাভাবিকভাবে বসে যায়, যা পরবর্তীতে সড়ককে আরও টেকসই করে তোলে। তাই বর্ষার মধ্যেও কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব সড়ক নির্মাণের সম্পন্ন হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, ফলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আক্কাস বলেন, এই সড়ক নির্মিত হলে জঙ্গল সলিমপুরের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%