ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের উদ্যোগ, ইউরোপ-আমেরিকায় ফিরছে পড়াশোনার পরিবেশ


কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের উদ্যোগ, ইউরোপ-আমেরিকায় ফিরছে পড়াশোনার পরিবেশ

বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে দেশে দেশে আইন করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি আরোপের হিড়িক পড়েছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কানাডা, স্পেনসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই বয়স কিংবা ক্লাস ভেদে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ বা ‘কারফিউ’ জারির পথে অগ্রসর হয়েছে। ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং তাদের স্বাভাবিক ঘুম ও পড়াশোনায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতেই সরকারগুলো এই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সুফলের পাশাপাশি, প্রযুক্তির ফাঁকফোকর গলে এর কার্যকারিতা ও ভিপিএন (VPN) ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কও চলছে।

কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন দেশের সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা, সাইবার বুলিং এবং পড়াশোনায় মনোযোগহীনতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ (টানা স্ক্রল করার ফিচার) এবং ‘অটো-প্লে’ ভিডিওর মতো আসক্তিমূলক ফিচারের ফাঁদে পড়ে কিশোর বয়সীরা রাতের পর রাত জেগে থাকছে। এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানসিক স্বাস্থ্য মহামারি’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত এই আসক্তি থেকে তরুণদের বের করে এনে মাঠের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং পারিবারিক বন্ধনে ফিরিয়ে আনাই এই আইনগুলোর মূল লক্ষ্য।

পড়াশোনা ও মনোযোগে ইতিবাচক প্রভাব ইউনেস্কো (UNESCO) এবং বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব স্কুল বা অঞ্চলে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা বা মনোযোগের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল ডিভাইসের অনুপস্থিতি পরীক্ষার ফল ভালো করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ও ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পর ক্লাসরুমের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ আগের চেয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্লক করার চেয়ে রাতের বেলা ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পর পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারছে, যা তাদের পরদিনের ক্লাসে পারফরম্যান্স অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে নিষেধাজ্ঞার মানচিত্র ও বর্তমান পরিস্থিতি বিভিন্ন দেশে বয়স ও ক্লাস ভেদে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো: অস্ট্রেলিয়া: বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। এর প্রভাবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও রাতে স্ক্রিন টাইম কমার লক্ষণ দেখা গেছে।

যুক্তরাজ্য: অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া ‘কারফিউ’ বা সান্ধ্য আইন জারির ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের এক মাসব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের এই কারফিউ কিশোর-কিশোরীদের ঘুমের মান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

কানাডা ও নেদারল্যান্ডস: কানাডার ওন্টারিও ও ব্রিটিশ কলম্বিয়াসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রদেশ এবং নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যেই স্কুলগুলোতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

স্পেন ও ফ্রান্স: ইউরোপের দেশ স্পেন সম্প্রতি ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। আর ফ্রান্স সরাসরি স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র: আমেরিকার ফ্লোরিডা এবং ইউটাহসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ১৪ থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে কী পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আভাস? পশ্চিমা বিশ্বের এই ‘ডিজিটাল লকডাউন’ বা সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার ঢেউ এশিয়ায়ও আছড়ে পড়তে শুরু করেছে।

চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া: চীন ইতিমধ্যেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 'অ্যান্টি-অ্যাডিকশন' বা আসক্তি-বিরোধী সিস্টেম চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের পর গেম বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়াও সাইবার বুলিং ঠেকাতে কঠোর আইন ও বয়স যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া: বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট বয়সসীমা বেঁধে দিয়ে আইন কার্যকর করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে কিশোর অপরাধ (যেমন গ্যাং কালচার), সাইবার ক্রাইম এবং পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে সরে যাওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। ফলस्वরূপ ২০২৬ বা তার পরবর্তী সময়ে এশিয়ার দেশগুলোতেও স্কুল পর্যায়ে ফোন নিষিদ্ধ করা কিংবা নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা ডিজিটাল অভিভাবকত্ব আইনের জোরালো তাগিদ তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পাট খাতের উন্নয়নে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: পাটমন্ত্রী

নিষেধাজ্ঞা বনাম কার্যকারিতার এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত আইন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বয়স যাচাইয়ের নিখুঁত প্রযুক্তি এবং পরিবারের সচেতনতার ওপর।

তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ, রয়টার্স এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার কাজ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তারাও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। প্রতিবন্ধীরা সমাজের সমান অধিকারসম্পন্ন মানুষ। তাদেরকে পরিবার বা সমাজের বোঝা হিসেবে নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হলে তারাও দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শুক্রবার মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি সেতু সংলগ্ন জাঙ্গালিয়া গ্রামের অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বললেন।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে করা হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে তারা পরিবারের ওপর নির্ভর না করে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হন। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ (অব.) মোহাম্মদ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, মহম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ, কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস. এম. ইউনুস আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ড. এম. এম. রইস উদ্দিন, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ধোয়াইল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শেষে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ফগার মেশিন, স্প্রে মেশিন ও সেলাই মেশিন উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআইকে কোনো একক দেশের আধিপত্যের বিষয় হওয়া উচিত নয়: চীনা প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ এম


এআইকে কোনো একক দেশের আধিপত্যের বিষয় হওয়া উচিত নয়: চীনা প্রেসিডেন্ট

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং মন্তব্য করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোনো একক দেশের কুক্ষিগত থাকা উচিত নয়। 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক বড় সম্মেলনে তিনি এআই প্রযুক্তির উন্নয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন। 

অংশগ্রহণ করার সময় তিনি বিশেষ করে ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যে এআই প্রযুক্তিতে ‘জনকল্যাণমুখী’ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেন। 

এই সম্মেলনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। 

অন্যদিকে, কম খরচের কারণে চীনের এআই মডেলগুলো বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের কাছে আকর্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। 

তবে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং হ্যাকার বা অপরাধীদের দ্বারা এর অপব্যবহারের উদ্বেগের মধ্যে এই দ্রুত বর্ধনশীল খাতকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

নিজের বক্তব্যে শি জিন পিং উল্লেখ করেন ‘নতুন কোনো ঐতিহাসিক অবিচার’ রোধে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকার কথা। 

এ লক্ষ্যে তিনি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং ব্রিকস দেশগুলোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করার এবং এআই-সম্পর্কিত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। 

এআইয়ের উন্নয়ন কোনো একক দেশের ‘একক পারফরম্যান্স’ হওয়া উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ঐকতান, এমনটাই মন্তব্য করেন শি জিন পিং। 

তিনি আরও বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরঞ্জিত করা উচিত নয় অথবা অন্য দেশের নিরাপত্তার তুলনায় কোনো একক দেশের নিরাপত্তাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। 

‘এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে’—এ কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনের প্রযুক্তি আমদানির ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। 

এছাড়া, শীর্ষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সম্প্রতি ওয়াশিংটন তথা মার্কিন এআই ল্যাবগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। 

গত মে মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ চীনের বাইরে অবস্থিত চীনা কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ নিশ্চিত করে একটি নোটিশ জারি করে। 

এতে বলা হয়, যেসব ব্যবসার সদর দপ্তর বা মূল কোম্পানি চীনে রয়েছে, সেসবের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক এআই চিপ রপ্তানির লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে প্রযোজ্য হবে। 

শুক্রবার সম্মেলনে শি জিন পিং মানব-নিয়ন্ত্রিত ‘জনকল্যাণমুখী’ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের উচিত আইন ও বিধিমালা, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা। 

বর্তমানে এআই প্রযুক্তি চীনের শিল্পনীতির একটি কৌশলগত স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। 

চিপ উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহার পর্যন্ত একটি দেশীয় ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে। 

কর্তাদের মতে, গত দুই বছরে চীন দেশটিতে এআই ব্যবহারের একক হিসেবে পরিচিত ‘টোকেন’-এর দৈনিক ব্যবহার হাজার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, এআই চিপ দ্বারা পরিচালিত বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে চীন অনেক এগিয়ে আছে। 

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যমতে, একটি সাধারণ ডেটা সেন্টার এক লাখ বসতবাড়ির সমান বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। 

এবং পরবর্তী প্রজন্মের ‘হাইপারস্কেল’ সুবিধাগুলো ২০ লাখ বাড়ির সমান বিদ্যুৎ গিলে ফেলতে পারে। 

সস্তায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধার কারণে চীনের পক্ষে এ ধরনের বিশাল শক্তির চাহিদা মেটানো তুলনামূলক সহজ। 

এই পরিস্থিতিতে, দেশটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। 

দেশটির জ্বালানি গ্রিডে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের কারণে ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে চালু হলো হাইড্রোজেন জ্বালানিচালিত ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ এম


ভারতে চালু হলো হাইড্রোজেন জ্বালানিচালিত ট্রেন

ভারতে পরিবহণের ক্ষেত্রে একটি সুসংবাদ এসেছে। দেশে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু হলো। এই নতুন ট্রেনটির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটি প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ট্রেন যা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ১০ কোচের এই ট্রেনটি উত্তর রেলওয়ে ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপৎ রুটে চলাচল করবে। কর্মকর্তারা বলছেন যে এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেন হিসেবে পরিচিত।

এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ভারত, জার্মানি, জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর সাথে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির এলিট ক্লাবে যোগ দিল। এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি পরবর্তীতে প্রথাগত ডিজেল ইঞ্জিনের বিপরীতধারায় চলবে, এবং এটি কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই চলবে। এর মধ্যে একটি ১,২০০ কিলোওয়াটের প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন ফুয়েল সেল ব্যবহৃত হচ্ছে, যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

ট্রেনের চালক দুটি পাওয়ার কারের উচ্চ-চাপ সিলিন্ডারে সংকুচিত হাইড্রোজেন গ্যাস বহন করবে। এই গ্যাস ফুয়েল সেলে প্রবেশ করলে একটি প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের মাধ্যমে হাইড্রোজেনের প্রোটন ও ইলেকট্রন আলাদা হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। ইলেকট্রনগুলো বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিটের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটরকে সচল করে। একই সময়ে চারপাশের বাতাস থেকে অক্সিজেন নেওয়া হয়ে হাইড্রোজেন প্রোটন ও ইলেকট্রনের সাথে মিলিত হয়।

এই সম্পূর্ণ তড়িৎ-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোনো দহন ঘটে না, ফলে এটি কার্বন নির্গমন ছাড়াই জলীয় বাষ্প ও তাপ নির্গত করে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হয়, যা ট্রেনের গতিবেগ বাড়ানোর সময় শক্তি যোগায়। এছাড়া ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুত্পাদন করে সংরক্ষণ করে।

হাইড্রোজেনের শক্তির ঘনত্ব ডিজেলের তুলনায় অনেক বেশি, যেখানে ডিজেলের শক্তির ঘনত্ব প্রতি কেজিতে ৪৩ মেগাজুল, হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে তা ১২০ মেগাজুল। এটি উচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে। হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন স্টোরেজ ও রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩,০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এই ট্রেনটির ডিজাইন রিসার্চ, ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশনের নির্দেশনায় করা হয়েছে। এতে প্রায় ২,৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিবেগের নকশায় তৈরি হলেও আপাতত সুরক্ষার স্বার্থে ৭৫ কিমি গতিতে চালানো হবে। জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতের মধ্যে সংযোগকারী এই ট্রেনের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেকশন সিস্টেম এবং স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোজেন শাট-অফ মেকানিজম রয়েছে। আরো আছে চালকদের জন্য রিয়েল-টাইম হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন’-এর অধীনে নেওয়া এই নতুন উদ্যোগ ভারতীয় রেলওয়ের জন্য পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ এম


সকালের মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

দেশের ৮ জেলার ওপর দিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%