০৭:১৩ পি.এম
দুর্গাপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় প্রতিটি ডিম বিক্রিতে গড়ে ১.৫০ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।
খামারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং কিছু গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে ক্ষুদ্র খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, গত কয়েক মাসে মুরগির খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের বাজারমূল্য বাড়েনি। বরং বর্তমান বাজারদরে ডিম বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তারা। এতে অনেকেই পুঁজি হারিয়ে খামার বন্ধের আশঙ্কায় রয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।
একজন খামারি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম বিক্রি করেও লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ছোট খামারগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই শিল্প। কিন্তু দীর্ঘদিন লোকসান অব্যাহত থাকলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক ডিম উৎপাদন ব্যবস্থায়।
খামারিদের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের পোলট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় হাজার হাজার ক্ষুদ্র খামারি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের ডিম উৎপাদন ব্যবস্থাও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন