মোঃ আসাদ মিয়া পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি
০৪:১৮ পি.এম
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নে একই জায়গায় পাশে অবস্থানরত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাউন্ডারি না থাকায় চরম দুর্ভোগে পতিত হয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সীমানাপ্রাচীরের অভাবে কেবল নিরাপত্তার সংকট নয়, শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নয়াভাংগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ছোটবাইদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট কলেজ। স্থানীয়দের মতামত অনুযায়ী, এক জায়গায় তিনটি প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি অবস্থান করা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট বাউন্ডারি অনুপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে অবাধে প্রবেশ করে গবাদিপশু। এর ফলে মাঠ ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি হবার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে বাইরের অজানা ব্যক্তিরা এবং গবাদিপশুরা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করে। যা তাদের পড়াশোনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছেন, বাউন্ডারি অপ্রতিষ্ঠিত থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় কঠিন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের দাবি হলো, তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিকল্পিতভাবে সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত বাউন্ডারি নির্মাণ করা হোক। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে ক্লাস কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।
শেষ কথা হলো, “একই জায়গায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অথচ নেই সুনির্দিষ্ট বাউন্ডারি। ফলে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বাউন্ডারি নির্মাণের দাবি এখন স্থানীয়দের।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম মন্তব্য করেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনকৃত ‘এসডিজি ভিলেজ’ অন্তর্ভুক্ত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামসহ অন্যান্য বেশ কিছু গ্রাম নিয়ে পর্যটন স্পট তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার, রাজধানী ঢাকার পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার। এছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. আব্দুর রউ।
মন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৫৫ বছর হলেও পর্যটন খাতে উন্নয়নের দিক দিয়ে নজির তুলনামূলক কম রয়েছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে একটি ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের মাত্র ৫ মাসের সময়ে আমরা পর্যটন খাতের উন্নয়ন উদ্দেশ্যে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে, দেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার যাত্রা সহজ হবে না। ফলে এ যাত্রায় সকল অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আপনাদের সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার যাচাই করতে হবে। এজন্য আমরা প্রতি মাসে বেসরকারি অংশীদারদের নিয়ে আলোচনা করতে চাই, যাতে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি না থাকে।
তিনি আরও জানান, সরকারের উদ্দেশ্য পুরো বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার পর্যটন সম্ভাব্য স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে Tourism Satellite Account (TSA) এর কাজ শুরু করে ফেলেছি। তাছাড়া ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। পূর্বের সময়ে সমন্বয়হীনতার কারণে খাতে অগ্রগতি সম্ভব হয়নি। তবে, আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমরা সমন্বয়হীনতা দূর করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পারব।
সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমানে ইকো-ট্যুরিজমের অবস্থা, ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন কর্ম পরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মুগদা থানা পুলিশ মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলার অভিযোগে এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধী রয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের তালিকায় রয়েছেন মো. হিমু (২৫), মো. সোহেল রানা (১৯), রানা (২২), মো. সাগর (২৩), মো. ইব্রাহিম (৩২), মো. আ. মুমিন (২৫), মো. অন্তর (২০), মো. জুম্মান (২৭), মো. রফিক (৩০), মো. বোচা (৩৫), লাইলী ওরফে বৃষ্টি (২৬), মো. মুজিবুর রহমান (৩২) এবং মো. হৃদয় (২৪)।
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্কের সময় বলেছেন, "রাজনৈতিক জোকার ছিলেন ওবায়দুল কাদের। তার কারণেই আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে।"
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনজন বিচারকের প্যানেলের কাছে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেছেন, "এ মামলায় সাত আসামিরই অপরাধ গুরুতর। তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।" তিনি উল্লেখ করেন, "চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দিয়ে এই সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাই। যাতে এমন রাজনীতিবিদ দেশে আর জন্ম না নেয়।"
ষষ্ঠ দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে প্রথমে আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এর পর যুক্তিতর্ক শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ দেয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত রয়েছেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
এর আগে, ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৮ জন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কানাইটিকর গ্রামে গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা চোরচক্র বসতঘরের টিনের বেড়ার নিচের মাটি খুঁড়ে বড় গর্ত তৈরি করে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, কানাইটিকর গ্রামের বাসিন্দা লিমন মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ার পর শেষ রাতের কোনো এক সময়ে চোরেরা ঘরের টিনের বেড়ার নিচ দিয়ে মাটি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ভেতরে প্রবেশ করে।
চোরেরা ঘরে থাকা নগদ টাকার পাশাপাশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যাংকের চেকবই নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের মেঝেতে বড় গর্ত দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, পাসপোর্ট ও চেকবই হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট ও চেকবই অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ